খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, বন্যা-নদী ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, বন্যা-নদী ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুরের সদরপুরে হঠাৎ করে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে এখন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। সপ্তাহজুড়ে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদীর ভাঙনে ঢেউখালী ও আকোটেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। চরমভাবে হুমকিতে রয়েছে নদীর তীরবর্তী রাস্তাগুলো।

জানা যায়, সম্প্রতি আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হারে পানি বেড়ে বাড়িতে প্রবেশ করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে বিষধর সাপের উৎপাত। ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চলে থাকা গ্রামগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন আশ্রয় নিতে বসতঘরে উঠছে বিষধর সাপ। বাড়ির উঠানে পানি আসায় শিশুদের পানিতে পড়া নিয়েও দুশ্চিতায় পরিবারের লোকজন।

সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদী বেষ্টিত। ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকে অন্তত এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন চরবাসী। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশ ধান। পদ্মার চরের নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমি ও চলাচলের রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। দেখা দিয়েছে নৌযানের সংকট। বসবাসের ঘরবাড়ি এখনও পুরোপুরি প্লাবিত না হলেও বন্যার আশঙ্কায় দিনরাত নির্ঘুম রাত পার করছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। অন্যদিকে ঢেউখালী ও আকোটেরচর ইউনিয়নের নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রামের বহু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলার চরনাছিরপুর ইউয়িনের খলিফাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. চুন্নু মোল্যা বলেন, হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়েছে। গত ৫ বছর আগে এমন হয়েছিল। গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এখন নৌকা ছাড়া যোগাযোগ সম্ভব নয়। গবাদিপশু নিয়েও অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই বন্যায় রূপ নেবে।

আকোটেরচর ইউনিয়নের কৃষক কাজল হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে চাষাবাদ হওয়া মরিচ, সবজি, কলাবাগান, আউশ ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। বর্তমানে গোখাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

চরনাছিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দীন মোল্যা বলেন, হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি না উঠলেও তলিয়ে গেছে মাঠের আবাদি ফসল। এছাড়া যোগাযোগের জন্য নতুন যেসব মাটির রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন সরদার বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩৮টি গ্রাম রয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম এখন পানিতে প্লাবিত। দুয়েক দিনের মধ্যে সব ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হবে। চরের বসতঘরগুলো উঁচু করার কারণে ঘরে পানি প্রবেশ করতে না পারলেও উঠানে পানি রয়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে এখন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি প্রবেশ করলে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা পানী বৃদ্ধির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নদীপাড়ের মানুষের জন্য নিরাপত্তার কথা সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি পরিষেবা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পদ্মা নদীর পানিও। ইতিমধ্যে আকোটেরচর ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ে অবস্থিত শয়তানখালী ট্রলার ঘাটের পাকা রাস্তা নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
শিশু একাডেমির ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটিতে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত

ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ফরিদপুর জেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ সাংস্কৃতিক সংগঠক নিরব ইমতিয়াজ শান্ত।

কিশোর বয়স থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নিরব ইমতিয়াজ শান্ত অভিনয়, আবৃত্তি, নাট্যচর্চা, নাট্যরচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনায়ও যুক্ত রয়েছেন। শিশু-কিশোর ও তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ করে আসছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাট্যকুঞ্জ, ফরিদপুরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠন দুটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নাট্যচর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয়। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক লেখা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। তার নেতৃত্বে নাট্যকুঞ্জ শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে নিরব ইমতিয়াজ শান্ত বলেন, তরুণ বয়সে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জেলা পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়াটা তার জন্য সম্মানের। এ দায়িত্বের জন্য তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, তার ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। শিশুদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নিজের অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিশোর বয়সে পথচলা শুরু করে ধীরে ধীরে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিরব ইমতিয়াজ শান্তর নতুন এই দায়িত্বকে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে ৩৬ বছরের স্কুল, নেই নিবন্ধন: ২০ লাখ টাকার আয়েও প্রশ্নের শেষ নেই

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩৬ বছরের স্কুল, নেই নিবন্ধন: ২০ লাখ টাকার আয়েও প্রশ্নের শেষ নেই

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন স্কুলে বছরে প্রায় ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসহ দৃশ্যমান ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। ফলে বাকি অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ না থাকা, আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং শিক্ষকদের অপ্রতুল বেতন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

১৯৯০ সালে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। ৩৬ বছরেও প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিভেদে মাসিক গড়ে ৪৫০ টাকা বেতন নেওয়া হয়। এতে বছরে আয় প্রায় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হয়, যা থেকে আয় প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বেতন ও ভর্তি ফি মিলিয়েই বার্ষিক আয় প্রায় ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
এর বাইরে পুকুর লিজ, দোকানঘর ও দুটি কক্ষ ভাড়া, পুরোনো খাতাপত্র বিক্রি এবং বোর্ডের নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই বিক্রি থেকেও আয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে আটজন শিক্ষক ও একজন আয়ার বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। ফলে অন্যান্য আয় বাদ দিলেও বেতন ও ভর্তি ফি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভাউচার, লিজ ও ভাড়ার নথি জনসমক্ষে নেই। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক প্রতিনিধি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নজরদারিও নেই বলে দাবি তাদের। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রোকসানা নূর খান।

এদিকে এত আয় থাকার পরও শিক্ষকদের মাসিক বেতন মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অপ্রতুল বেতনের কারণে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক ধরে রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই এবং সরকারি অর্থায়নে নির্মিত টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না বলে দাবি অভিভাবকদের। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে সাবেক ইউএনও দবির উদ্দিনের সহযোগিতায় স্কুলটির কিছু সংস্কারকাজ করা হলেও ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক ইউএনওর হস্তক্ষেপের পর আর্থিক লেনদেনে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। এরপর স্কুলের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা জমা পড়েছে। তবে আগের বছরগুলোর আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পরিষ্কার নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুন্সি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা দরকার। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। শিশুদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কার্যকর ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো চালু করার দাবি জানাই।’

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি সমাবেশ আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য মানসম্মত বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা নূর খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরে পালকিতে চড়ে বরযাত্রা, ফিরিয়ে আনা হলো গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পালকিতে চড়ে বরযাত্রা, ফিরিয়ে আনা হলো গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার রূপসী রূপ ও আবহমান ঐতিহ্য যখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে, তখন নতুন প্রজন্মকে পুরোনো দিনের আবহ মনে করিয়ে দিতে এক ব্যতিক্রমী বরযাত্রার আয়োজন করা হলো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। মাইক্রোবাস বা বিলাসবহুল গাড়ি বাদ দিয়ে লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী পালকিতে চড়ে কনের বাড়িতে গিয়েছেন বর।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বিলপুটিয়া গ্রামে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণীয় করে রাখতে এভাবে পালকিতে বরযাত্রার আয়োজন করেন বিলপুটিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে বর সাব্বির ইসলাম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলপুটিয়া গ্রামের সাব্বির ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার সোহরাব মোল্লার মেয়ে স্মৃতি পারভিনের বিয়ে নির্ধারিত হয়। বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখা এবং বাঙালির হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছে থেকেই সাব্বির আধুনিক যানবাহনের বদলে পালকি বেছে নেন। কাঁচা রাস্তার আঁকাবাঁকা পথ ধরে পালকি নিয়ে বরযাত্রীদের যাওয়ার দৃশ্য দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান উৎসুক গ্রামবাসী।

​বোরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বরের চাচা ইমরান মোল্লা বলেন, “একসময় গ্রামবাংলার বিয়েতে পালকি ছাড়া বরযাত্রার কথা ভাবাই যেত না। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে। ভাতিজা সাব্বিরের এই উদ্যোগে আমরা যেন এক মুহূর্তের জন্য হলেও পুরোনো দিনে ফিরে গিয়েছিলাম।”

​কনের বাবা সোহরাব মোল্লা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “পালকিতে করে বর আসার পর পুরো বিয়েবাড়িতে এক ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আগত অতিথি ও প্রতিবেশীরা পুরোনো স্মৃতি মনে করে দারুণ আনন্দ পেয়েছেন।”

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো স্মৃতি জাগানো এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা এলাকা জুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে উৎসাহ যোগাবে।