খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে ডাল ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল কৃষক প্রশিক্ষণ

আবিদুর রহমান নিপু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ডাল ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল কৃষক প্রশিক্ষণ
ফরিদপুরে ডাল ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল এবং পুষ্টিমান শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ, বারি মুসুর-৮ জাতের গবেষণা মাঠ পর্যবেক্ষণ, কৃষকের সাথে মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহত্তর বরিশাল আঞ্চলের মাদারীপুর সক্ষমতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র এবং ফরিদপুর অঞ্চল ডাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অর্থায়নে ও সরেজমিন গবেষণা বিভাগের আয়োজনে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টার দিকে ফরিদপুর মসলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রে কৃষকদের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
মাদারীপুর আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র (বারি) এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. সেলিম আহমেদের সভাপতিত্বে, সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঢাকা শেরে বাংলা নগর কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরিকল্পনা কমিশনের (ফসল উইং) যুগ্ম প্রধান ফেরদৌসী আখতার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরিকল্পনা কমিশনের (ফসল উইং) উপ প্রধান রত্না শারমিন ঝরা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের (পরিকল্পনা উইং) সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল ইসলাম খান।
এছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাবেক পরিচালক ড. মো. সালেহ উদ্দিন, ডাল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ড. মহিউদ্দিন, গাজীপুর (বারি) পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং পি এসও ড. এ. এইচ. এম ফজলুল কবির, গাজীপুর (বারি) ডাল গবেষণা উপকেন্দ্রের পিএসও এবং ডিপিডি ড. এ.কে.এম মাহবুবুল আলম, মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলাউদ্দিন খান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান শামীম, মাদারীপুর আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের মাঝে বীজ শুকনো ও সংরক্ষণ উপকরণ বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।
এরপরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বসুনরসিংহদিয়া এলাকায় কৃষকের সাথে বারি মশুর-৮ জাতের ফসলের উপর মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবসে সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক সহকারীসহ ৮০ জন কৃষাণ-কৃষানী উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কল্যাণপুর গোপীনাথপুর এলাকায় বারি মশুর-৮ চাষের ডাল ফসল গবেষণা মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন অতিথিরা।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।