খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর জেলা আইনজীবি সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পিলু-সম্পাদক জসিম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা আইনজীবি সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পিলু-সম্পাদক জসিম
ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে অ্যাড. খন্দকার লুৎফর রহমান পিলু (বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায়) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মো. জসিমউদ্দিন মৃধা জসিম নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুইজনেই বিএনপি সমর্থিত।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশন গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাত ৯টায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার। সমিতির ৩৫২ সদস্যের মধ্যে ৩৩৫জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এ নির্বাচনে সহ-সভাপতি দুইপদে জয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত মতিউর রহমান নিজামী পেয়েছেন ২২৭ ভোট, বিএনপি সমর্থিত তারেক আইয়ুব খান পেয়েছেন ১৯৯ ভোট। তাদের নিকটতম হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৫ ভোট।
বিএনপি সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক পদে মো. জসিমউদ্দিন (জসিম) মৃধা পেয়েছেন ১৮১ ভোট, নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন আব্দুল কাদের মিয়া ১১৫ ভোট। সহ-সাধারন সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত রেজাউল করিম শামীম ১৬৯ ভোট, নিকটতম প্রার্থী আলমগীর কবির ভূইয়া ১৪০ ভোট। সম্পাদক অডিট পদে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সরোয়ার হোসেন ১৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রার্থী সেলিমুজ্জান রুকু পেয়েছেন ১৩২ ভোট। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম রেজা ১৪১ ভোট, নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ১০৬ ভোট। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত মিজানুর রহমান সিনহা ২১৪ ভোট, নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন মো. রেজাউদ্দিন ১০০ ভোট।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন অর্থ সম্পাদক আবু নাঈম জুয়েল, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে হাবিবুর রহমান হাবিব শেখ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, মো. খসরুল আলম, মো. মুরাদ হোসেন ও গোলাম মনসুর নান্নু।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার দ্বীনেশ চন্দ্র দাস, সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশন আনিসুল হাসান রেজা ও গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন।
জানা যায়, সহ-সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী, সহ-সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম, সম্পাদক অডিট সরোয়ার হোসেন ও তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মিজানুর রহমান সিনহা জামায়াত ইসলামী সমর্থিত এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বাকিরা সকলেই বিএনপি সমর্থিতরা জয়ী হয়েছেন। তবে আওয়ামী আইনজীবিরা কেউ ওইভাবে নির্বাচনে আসেননি। ১০টি পদের মধ্যে ৪জন জামায়াত এবং ৬টি পদে বিএনপি।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”