খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়ায় খুন হওয়ার আশঙ্কা দোলনের!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়ায় খুন হওয়ার আশঙ্কা দোলনের!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় নিজের জীবন ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দৈনিক ঢাকা টাইমস সম্পাদক, সমাজসেবামূলক সংস্থা কাঞ্চন মুন্সি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, “সবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে সাধারণ মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে পরম করুণাময় আল্লাহপাকের হুকুমে এবং আমার মায়ের নির্দেশে ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আর তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে কেউ কেউ।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম চান না তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। দোলনের দাবি, “নাসির ভাই ইতোমধ্যে একটি গোপন পরিকল্পনা করেছেন, যা আমি একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি। তিনি তার দুষ্টু অনুসারীদের বলেছেন, একটি নাশকতা ঘটিয়ে সেই ঘটনায় আমাকে ও আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর নামে মামলা করবেন।”

আরিফুর রহমান দোলন আরও বলেন, “আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং খুন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।” এ প্রেক্ষিতে তিনি সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সব গোয়েন্দা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফরিদপুর-১ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি, সতর্কতা ও পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানান।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সম্পাদক। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় শতভাগ অহিংস নীতি অবলম্বন করি। কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি—এটা শোনার পর বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী ও তার কতিপয় সমর্থক বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।”

আরিফুর রহমান দোলন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আমার কোনো আমন্ত্রণ ছাড়াই একাধিকবার ঢাকা টাইমস অফিসে এসেছেন এবং আমাকে তার দলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এখন যেভাবে নাসির ভাই আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন, সেটার একমাত্র কারণ আমি তার সঙ্গে কাজ করতে চাইনি।”

২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দোলন বলেন, “আমি যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলাম, তখন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজেই উপযাজক হয়ে আমাকে খুঁজে বের করেন এবং একাধিক বিএনপি নেতাকে নিয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তিনি আমার ঈগল প্রতীকের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে নিজ থেকেই অঙ্গীকার করেছিলেন।”

তিনি জানান, কাশিয়ানী উপজেলার সাম্পান রেস্টুরেন্ট ও ফরিদপুরের লাজ ফার্মায় নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি নেতা সঞ্জয় সাহাকে প্রতিদিন তার বাড়িতে পাঠানো হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

আরিফুর রহমান দোলন প্রশ্ন তুলে বলেন, “২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি যদি অন্যায় করে থাকি, তাহলে নাসির ভাই এবং যারা আমার আহ্বান ছাড়া ঈগল মার্কার প্রচার করেছেন, তারা কী?”

গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে কি এমন আছে—নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে একটি বড় দলের প্রার্থী মেরে-কুটে আগেই ময়দান ছাড়তে বাধ্য করবে?”

আরিফুর রহমান দোলন অভিযোগ করেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার অনুসারীদের বলেছেন যে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ‘সামলাবেন’ এবং ‘ফেভার নেবেন’। দোলন বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে চাই না, তবে তিনি কারণে-অকারণে ফোন করে প্রশাসনে নিজের অবস্থান শক্ত—এটা বোঝাতে চাইছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, “খুবই উদ্বেগের বিষয় হলো—নাসিরুল ইসলাম সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, দেখা করছেন এবং কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেনস্থা করা যায়, সে সহযোগিতা চাইছেন। আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্টরা তার এই অন্যায় আবদারে প্রশ্রয় দেবেন না।”

দোলনের অভিযোগ অনুযায়ী, “মুখে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা আর ফ্যাসিস্ট শব্দ ব্যবহার করলেও নাসির ভাই রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন। এমনকি ৫ আগস্টের পর যারা মামলা খেয়েছেন এবং পুলিশ যাদের খুঁজছে, তাদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। কোনো এক সময় ওইসব ছবিও প্রকাশ হবে।”

শেষে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, “আমি প্রার্থী হলে নাসির ভাইয়ের রোষানলে পড়ে খুন হয়ে যেতে পারি। রাষ্ট্র, সরকার এবং সর্বোপরি ফরিদপুর-১ আসনের জনগণকে জানিয়ে রাখলাম—মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে আমি ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।”

এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও সেনাবাহিনীর পোশাকসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ভুয়া সেন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ও সকালে পৃথক স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার ও এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসআরবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। পরে ভবনে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

​পরবর্তীতে একই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অপর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পালানোর চেষ্টাকালে চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে সাফায়েত আহমেদকে আটক করা হয়।

​পরে তার দেওয়া তথ্য মতে বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি সেনাবাহিনীর ক্যাপ, ১টি এপিবিএন-এর ক্যাপ ও ১টি সেনাবাহিনীর কোমর বন্ধনী উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-১০ এর সিপিএসসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো: শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।