খুঁজুন
, ,

‘বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ : শহিদুল ইসলাম বাবুল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ : শহিদুল ইসলাম বাবুল
জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তালবাহানা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। ছিনিমিনি খেলা এদেশের মানুষ আর এক মূহুর্তও মেনে নিবে না। যতদ্রুত সম্ভব জনগণের ভোটের ব্যবস্থা করুন।
রবিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার শেখর কাজী সিরাজুল ইসলাম একাডেমি মাঠে ইউনিয়ন কৃষকদলের আয়োজনে কৃষক সমাবেশ এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ কৃষক জনগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত করার লক্ষে তিন মাসব্যাপী ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা কৃষক সমাবেশ করছি।
তিনি আরো বলেন, কৃষক ফসল ফলায় কিন্তু তারা ন্যায্যমূল্য পায় না। এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষকের খাজনা মওকুফ করেছিল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করা হবে। বিএনপিই একমাত্র দল যারা কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের কথা বলে।
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, কৃষকরা উৎপাদন না করলে দেশের মানুষ খাবার পেত না। ১৭ বছরে আওয়ামী চোরেরা কৃষকের ঘাম ঝরানো হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। ফ্যাসিম পরিবর্তন হয়েছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নাই। জিনিসপত্রের দাম কমে নাই, এখনো মানুষের নিরাপত্তা নাই। এখনো মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় নাই।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো অনলিভেনের মতো ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। সেই জন্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে তালবাহানা হচ্ছে। কোন রকম তালবাহানা বা ষড়যন্ত্র আমরা শর্য্যে করবো না। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছি, আর আপনারা কারা? সেই জন্যই বলছি যতদ্রুত সম্ভব মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। তানাহলে ভালো হবে না, দেশের মানুষ এসব ষড়যন্ত্র মেনে নিবে না।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রধান অতিথি বলেন, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন আওয়ামী লীগ পালায় না। ঠিকই তিনদিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে আপনারা পালিয়ে গেছেন। লজ্জা করে না, আওয়ামী লীগের কর্মীদের লজ্জা নাই! আপনাদের রেখে যে নেতা-নেত্রীরা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা পালায় না, বিএনপি পালানোর দল করে না। যারা পালায় না তারাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও ফ্যাসিস্ট শক্তি নানাভাবে এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সেই সাথে একটি গোষ্ঠি সরকার গঠনে নানাভাবে পায়তারা করছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান করবো অতিদ্রুত এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে। আশা রাখি তারা যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিপন মোল্যার পরিচালনায় কৃষক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন,  ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মিয়া হাসান, সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক অ্যাড. মামুনুর রশিদ, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মুরাদ হোসেন, বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলী সাকির, যুবদলের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস মোল্যা, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈয়দ রাকিবুল হাসান ফিয়াম ও মৎস্যজীবি দল নেতা মো. রেজাউল মেম্বার মোল্যা প্রমুখ।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”