খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

সদরপুরে ভুয়া স্মার্ট দাখিলা চক্রের ফাঁস, এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

শিশির খাঁন, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
সদরপুরে ভুয়া স্মার্ট দাখিলা চক্রের ফাঁস, এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন করের ভুয়া দাখিলা তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আকোটের চর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গলের ডাঙ্গী মৌজার নামজারি মামলা নং ৪৩৬৯-এর আওতাভুক্ত ২৬৫৪ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য মো. মোস্তফিজুর রহমানের পক্ষে তার আত্মীয় কামরুল ইসলাম ভূমি অফিসে উপস্থিত হন। সে সময় ভূমি কর্মকর্তা জানান, বদলিজনিত কারণে নামজারি আইডি সচল না থাকায় খতিয়ান সমন্বয় ও দাখিলা প্রদান এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।

পরবর্তীতে কামরুল ইসলাম দাখিলা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য গেলে সাব-রেজিস্ট্রার স্ক্যানের মাধ্যমে যাচাই করে দাখিলাটি সন্দেহজনক মনে করেন এবং বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করেন। দলিলদাতাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কামরুল ইসলাম তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দাখিলাটি সংগ্রহ করেছিলেন।

পরবর্তীতে কামরুল ইসলাম জানান, আকোটের চর ইউনিয়নের মোলামের ডাঙ্গী এলাকার আব্দুল ছত্তার বেপারীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব মিয়ার মাধ্যমে তিনি দাখিলাটি পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে দাখিলাটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একটি যুক্তরাজ্যের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া দাখিলা প্রেরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিনিময়ে অভিযুক্ত ২ হাজার ৪০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৬৫ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, “স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন করের ভুয়া দাখিলা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। সাব-রেজিস্ট্রারের সন্দেহের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করে জাল দাখিলা প্রস্তুতকারককে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন শাহ্ জানান, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন প্রতারণা বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। ভূমিসেবা গ্রহণের সময় অবশ্যই https://land.gov.bd অথবা https://www.land.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দাখিলায় প্রদত্ত QR কোড স্ক্যান করে https://www.ldtax.gov.bd/dakhila অথবা https://ldtax.gov.bd/dakhila ইউআরএল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রগুলো https://www.portal.gov.bd অথবা https://portal.ldtax.gov.bd এর সঙ্গে অতিরিক্ত অক্ষর বা ডোমেইন যুক্ত করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করছে। এ ধরনের প্রতারণাকে ইউআরএল স্পুফিং বলা হয়, যার মাধ্যমে ফিশিং, হ্যাকিংসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান-শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান-শফিকুর রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যা ৭-৮টার মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন এই ভাষণ সম্প্রচার করবে।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তাদের ভাষণও বিটিভিতে সম্প্রচারের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, জামায়াত আমিরের ভাষণ আজ সন্ধ্যা ৬-৭টার মধ্যে ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ভাষণ সন্ধ্যা ৭-৮টার মধ্যে সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

এর আগে গতকাল রোববার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের (চরমোনাই পীর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাহিদ ইসলামের ভাষণ এবং এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় চরমোনাই পীরের ভাষণ সম্প্রচার করে বিটিভি।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে।

বোয়ালমারীতে রহস্যজনকভাবে পড়ে থাকা ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে যৌথবাহিনী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ এএম
বোয়ালমারীতে রহস্যজনকভাবে পড়ে থাকা ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে যৌথবাহিনী

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কালিয়ান্দো এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭.৬২ মি.মি. ক্যালিবারের ৪০ রাউন্ড অ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

সেনা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে একজন বেসামরিক ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশকে ফোন করে জানান, বোয়ালমারী উপজেলার কালিয়ান্দো এলাকার একটি দোকানের সামনে সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকা ৭.৬২×৩৯ মি.মি. ক্যালিবারের গুলির দুটি প্যাকেট দেখতে পেয়েছেন। প্রতিটি প্যাকেটে ২০ রাউন্ড করে মোট ৪০ রাউন্ড গুলি ছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বোয়ালমারী আর্মি ক্যাম্প স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে দোকানের সামনের স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গুলির দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গোলাবারুদগুলো নিরাপদে জব্দ করে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, উদ্ধার হওয়া এসব অ্যামোনিশন সামরিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত মানের হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোনো একটি পুলিশ স্টেশন থেকে হারানো অথবা লুট হওয়া গোলাবারুদের অংশ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। কীভাবে এবং কারা এই গোলাবারুদ সেখানে ফেলে গেল—তা উদঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পকে জানাতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ এএম
ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবারে একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?

জবাবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে”।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য।

ভোট শেষে যেভাবে গণনা শুরু

একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

সাড়ে চারটার পরও যদি কোন কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ভোট গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।

সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেয়া হবে।

এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গণনা শুরু করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, “আলাদা দুই ধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়াও যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে”।

এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।

একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে দুইটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুইটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই”।

কেন্দ্রে ভোট গণনার পর

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, “রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধুমাত্র অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে”।

এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিল থাকতে হবে।

এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।

সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুইটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুইটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুইটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।

এই কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্তত দুইজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়/নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনাকৃত ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।

কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগে পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।

একইভাবে গণনা করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবেন। সেখানে প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যদি গণনা বা রেজাল্ট নিয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকে তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। যদি কমিশন অনুমতি দেয় তাহলেই কেবলমাত্র পুনঃগণনা করা হতে পারে।

এছাড়া যদি কোনো প্রার্থীর এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা