খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কলেজছাত্রীর লাশ

ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় তুলি রানী দাস (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত তুলি রানী দাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুজিত দাসের মেয়ে। তিনি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় ইব্রাহিম হাসানের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তুলি তার নিজ কক্ষে একা ছিলেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থলে নিহতের মা, কাকী ও অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে এ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পারিবারিক, ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এবারের বাজেট স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বাজেট। বর্তমান এই ভঙ্গুর অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য সেবায় এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ কি পরিমাণে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সব সেক্টরে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলছেন। যার মধ্যে অগ্রাধিকার রয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি নির্বাচিত করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে বলেন, ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব অনিয়ম রয়েছে সবকিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। সর্বোপরি আমরা চাই আমাদের রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে। রোগী হাসপাতাল এসে যদি সেবা না পাই এবং চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় তাহলে এটা হাসপাতালের অদক্ষতায় মধ্যে পড়ে। হাসপাতালে দুর্নীতি বন্ধ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে। আমরা যদি এগুলো বন্ধ করতে পারি তাহলে হাসপাতাল অনেক ভালোভাবে চলবে। আর এ জন্য কোন আপোষ আমি করব না। কারণ এটা আমার দায়বদ্ধতার ভিতর পরে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত দিনের মতো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ধরে কেউ যাতে হাসপাতালের অনৈতিক কাজ বা পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে সেটা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে সবাইকে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. দিলরুবা জেবা, বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরে বিষপানে সোহেল শেখ ওরফে সাইদুল (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ছয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত সোহেল শেখ ফরিদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি হানিফ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সোহেল শেখ বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে সোহেল শেখ বিষপান করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির অংশ হিসেবে মৌসুমী ফল কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্টাফদের হাতে কাঁঠাল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন।

অনুষ্ঠানে জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ ও তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কারাগার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। দেশীয় মৌসুমী ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবাইকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, কর্মস্পৃহা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। এমন উদ্যোগ কর্মপরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এ সময় জেলার মনির হোসেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কারাগারের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

কাঁঠাল বিতরণ অনুষ্ঠানে কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কারারক্ষী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী স্টাফরা কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এমন ছোট ছোট আয়োজন কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ ও মনোবল বৃদ্ধি করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।