খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

তওবার নামাজের নিয়ত-নিয়ম

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
তওবার নামাজের নিয়ত-নিয়ম

রাব্বুল আলামিন মানুষের মাঝে ভালো ও মন্দ দুই প্রবণতাই রেখেছেন। পাশাপাশি উভয় প্রবণতার সহায়ক কিছু গুণ-যোগ্যতাও দান করেছেন। তা দিয়ে মানুষ সৎকর্ম যেমন করে, অসৎকর্মেও জড়িয়ে যায়। আল্লাহর হুকুম যেমন পালন করে, অমান্যতাও করে বসে। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বিবেচনায় আল্লাহ-অভিমুখী যেমন হয়, অবহেলা কিংবা উদাসীনতায় আল্লাহবিমুখও হয়ে যায়।

তবে এমন কিছু হয়ে গেলে যেন কেউ নিরাশ না হয়, বরং নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। সেইসাথে আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিগলিত হৃদয়ে ক্ষমা চায়– এ মর্মে পরিষ্কার ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোরআন মাজিদে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজ সত্তার ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর সমীপে আনুগত্য প্রকাশ কর– তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা যুমার : ৫৩-৫৪)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : ২২২)

অর্থাৎ গোনাহ হয়ে গেলে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে নির্ভয় হওয়ারও সুযোগ নেই। তাই গোনাহ হওয়ামাত্র তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা পাপ করে ফেললে এরপর ভালোভাবে অজু করে যদি দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ : ১৫২১)

তওবার নামাজের নিয়ত কীভাবে করবেন?

নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়, এটা মুখে বলা জরুরি নয়। আপনি শুধু মনে মনে এই ইচ্ছা রাখলেই যথেষ্ট, ‘হে আল্লাহ, আমি আমার কৃত গোনাহের জন্য লজ্জিত। আপনার ক্ষমা ও সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তওবার নামাজ আদায় করছি, আপনি তা কবুল করুন।’

তওবার নামাজের নিয়ম

তওবার নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট কোনো কেরাত বা দোয়া পড়ার বিধান নেই। বরং সাধারণ নফল নামাজের মতোই– যে কোনো কেরাত, ধীরস্থির রুকু ও সাজদা, স্বাভাবিক তাসবিহ, তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআয়ে মাসূরের মাধ্যমে নামায আদায় করবে। সকল নামাজের মতোই পূর্ণ পবিত্রতা, নিমগ্নতা ও খুশু-খুজু রক্ষা করার চেষ্টা করবে।

সালাতুত তওবা দুই বা চার রাকাত। তবে বারবার দুই রাকাত করে অনেক রাকাত আদায় করতেও কোনো সমস্যা নেই।

সালাতুত তওবা আদায়ের পর কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করবে এবং বিগলিত হৃদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

হাদিস শরিফে তওবা ও ইস্তিগফারের বিভিন্ন বাক্য রয়েছে। তন্মধ্যে একটিকে বলা হয়েছে ‘সায়্যিদুল ইস্তিগফার’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা (সকালে) এই ইস্তিগফার পড়বে এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতি। যে ব্যক্তি রাতের বেলা (সন্ধ্যায়) এটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতি। (বোখারি : ৬৩০৬)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত ইস্তিগফার পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসে থাকে। সেই ইস্তিগফারের বাক্যগুলো এই–

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لَا إلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ، وَأَتُوْبُ إلَيْهِ.

উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহাল হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ : আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই আল্লাহর কাছে, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। আর আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। (তিরমিজি : ৩৮৯৪, আবু দাউদ : ১৫১৭, মুসতাদরাকে হাকেম : ১৯০৫)

দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিনের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভা স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়।

বুধবার (০১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভার শুরুতে সালথা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে একটি আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মো. সেলিম মোল্যা, সিনিয়র সাংবাদিক আবু নাছের হুসাইন, মজিবুর রহমান ও মনির মোল্যা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঞা লিয়াকত হুসাইন, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোশাররফ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক লাভলু মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকাশ সাহা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ মিয়া, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক নিজাম তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, সদস্য সাইফুল ইসলাম মারুফ এবং সাংবাদিক মামুন মিয়াসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে একটি উন্নয়নমুখী ও স্বচ্ছ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে মো. দবির উদ্দিন সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

সালথায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলার মোট ১৬০ জন কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে একটি করে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খায়ের উদ্দিন আহমেদ, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন শিকদার বলেন, সালথা একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা, যেখানে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে কৃষকরা উপযুক্ত সময়ে ভালো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সুবিধার্থে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে ফসলি মাঠে রাতভর গণধর্ষণ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে ফসলি মাঠে রাতভর গণধর্ষণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রেমিকাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ফসলি জমিতে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নাহিদ ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, আর বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয় ভাঙ্গা থানা পুলিশ। কলের ভিত্তিতে দ্রুত দুইটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ এলাকার একটি ফসলি মাঠ থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে প্রেমিক নাহিদের ডাকে সাড়া দিয়ে ওই নারী নির্জন স্থানে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে উপস্থিত ছিল নাহিদের আরও তিন বন্ধু—সাদ্দাম, নাজমুল ও নুর আলম। পরে তারা সবাই মিলে তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা এক জোড়া সোনার দুল ও নগদ প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “৯৯৯ কল পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেই এবং ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাহিদ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”