খুঁজুন
, ,

তওবার নামাজের নিয়ত-নিয়ম

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
তওবার নামাজের নিয়ত-নিয়ম

রাব্বুল আলামিন মানুষের মাঝে ভালো ও মন্দ দুই প্রবণতাই রেখেছেন। পাশাপাশি উভয় প্রবণতার সহায়ক কিছু গুণ-যোগ্যতাও দান করেছেন। তা দিয়ে মানুষ সৎকর্ম যেমন করে, অসৎকর্মেও জড়িয়ে যায়। আল্লাহর হুকুম যেমন পালন করে, অমান্যতাও করে বসে। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বিবেচনায় আল্লাহ-অভিমুখী যেমন হয়, অবহেলা কিংবা উদাসীনতায় আল্লাহবিমুখও হয়ে যায়।

তবে এমন কিছু হয়ে গেলে যেন কেউ নিরাশ না হয়, বরং নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। সেইসাথে আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিগলিত হৃদয়ে ক্ষমা চায়– এ মর্মে পরিষ্কার ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোরআন মাজিদে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজ সত্তার ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর সমীপে আনুগত্য প্রকাশ কর– তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা যুমার : ৫৩-৫৪)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : ২২২)

অর্থাৎ গোনাহ হয়ে গেলে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে নির্ভয় হওয়ারও সুযোগ নেই। তাই গোনাহ হওয়ামাত্র তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা পাপ করে ফেললে এরপর ভালোভাবে অজু করে যদি দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ : ১৫২১)

তওবার নামাজের নিয়ত কীভাবে করবেন?

নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়, এটা মুখে বলা জরুরি নয়। আপনি শুধু মনে মনে এই ইচ্ছা রাখলেই যথেষ্ট, ‘হে আল্লাহ, আমি আমার কৃত গোনাহের জন্য লজ্জিত। আপনার ক্ষমা ও সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তওবার নামাজ আদায় করছি, আপনি তা কবুল করুন।’

তওবার নামাজের নিয়ম

তওবার নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট কোনো কেরাত বা দোয়া পড়ার বিধান নেই। বরং সাধারণ নফল নামাজের মতোই– যে কোনো কেরাত, ধীরস্থির রুকু ও সাজদা, স্বাভাবিক তাসবিহ, তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআয়ে মাসূরের মাধ্যমে নামায আদায় করবে। সকল নামাজের মতোই পূর্ণ পবিত্রতা, নিমগ্নতা ও খুশু-খুজু রক্ষা করার চেষ্টা করবে।

সালাতুত তওবা দুই বা চার রাকাত। তবে বারবার দুই রাকাত করে অনেক রাকাত আদায় করতেও কোনো সমস্যা নেই।

সালাতুত তওবা আদায়ের পর কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করবে এবং বিগলিত হৃদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

হাদিস শরিফে তওবা ও ইস্তিগফারের বিভিন্ন বাক্য রয়েছে। তন্মধ্যে একটিকে বলা হয়েছে ‘সায়্যিদুল ইস্তিগফার’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা (সকালে) এই ইস্তিগফার পড়বে এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতি। যে ব্যক্তি রাতের বেলা (সন্ধ্যায়) এটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতি। (বোখারি : ৬৩০৬)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত ইস্তিগফার পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসে থাকে। সেই ইস্তিগফারের বাক্যগুলো এই–

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لَا إلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ، وَأَتُوْبُ إلَيْهِ.

উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহাল হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ : আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই আল্লাহর কাছে, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। আর আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। (তিরমিজি : ৩৮৯৪, আবু দাউদ : ১৫১৭, মুসতাদরাকে হাকেম : ১৯০৫)

ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

ফরিদপুরে হাইওয়ে থানার পাশে পার্কিং করে রাখা একটি পরিত্যক্ত ও জব্দকৃত বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির ভেতরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। হঠাৎ থানার এত কাছে বাসে আগুনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন আগে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাসটি জব্দ করে করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনের সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। রাতে জনশূন্যতার সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ থানার সামনে পার্কিং করা বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

​এদিকে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রতিবাদে আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের ধারণা, ২০ সেপ্টেম্বরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

​অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মহাসড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের টহলও।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেখা বেগম (৪৫) নামে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৪৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

​এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।

সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

ফরিদপুরের সদরপুরে এক কেজি গাঁজাসহ কালাম ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর হাটবাজারে খোকন মৃধার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আটক কালাম ফকির কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের সালাম ফকিরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কালাম ফকির কৃষ্ণপুর বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার খোকন মৃধার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে মাদক রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোহসিন মুন্সী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কালাম ফকিরকে আটক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কারবারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।