খুঁজুন
, ,

ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটে বা খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন মেপে গরু কেনার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসে এবং দেশের বড় শহরগুলোতে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবে ওজন মেপে পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? কোরবানির আসল উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ওজন মেপে পশু কেনা কি বৈধ?

বর্তমানে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনো বাধা নেই। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ক্রেতা যাতে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করা একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। ইসলাম কাউকে লস বা লোকসান দিয়ে পশু কিনতে বাধ্য করে না। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ওয়েট স্কেল ব্যবহার করা জায়েজ। তবে, এখানে একটি সতর্কবাণী রয়েছে। যদি পশু কেনাটা নিছক বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে রূপ নেয়; যেখানে মূল উদ্দেশ্য থাকে কত টাকা লাভ বা লস হলো, তবে তা কোরবানির আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে।

নিয়ত ও সওয়াবের পরিমাপ

অনেকেই কম দামে বেশি মাংস পাওয়া যাবে এমন পশু খোঁজেন, যাতে গরিব মানুষকে বেশি মাংস বিতরণ করা যায়। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, এটি একটি ভালো নিয়ত এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। ন্যায্যমূল্যে বড় পশু কেনার চেষ্টা করা জায়েজ, কারণ এতে যেমন নিজের সাশ্রয় হয়, তেমনি গরিবদেরও বেশি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি নিয়ত হয় শুধু মাংস খাওয়া বা সামাজিক মর্যাদা জাহির করা, তবে কোরবানির মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ন হয়।

কোরবানি কি কেবলই মাংস বিতরণের উৎসব?

কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করা। কিন্তু এটিই কোরবানির একমাত্র বা মূল উদ্দেশ্য নয়। বর্তমানে অনেকে কোরবানিকে কেবল একটি উৎসব বা সামাজিকতায় রূপ দিয়েছেন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে কোরবানি করা, যা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।

ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি-স্বর্ণালংকার চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি-স্বর্ণালংকার চুরি

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ী এলাকার ২নং উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন এই মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১০ ভরি রূপার সামগ্রীসহ মূল্যবান ধর্মীয় সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।

​এ ঘটনায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিত্যপূজা শেষে মন্দির ও কেচি গেটে তালা লাগিয়ে বাড়ি যান সেবায়েত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী (পানু)। পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি আবারও পূজা দিতে এসে দেখেন মন্দিরের মূল ফটকসহ ভেতরের সবকটি তালা কাটা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কষ্টিপাথরের মূল কালীমূর্তিটি গায়েব। এছাড়া মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় ৭-৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের তৈরি বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রূপার সাপ চুরি হয়ে গেছে।

​পরবর্তীকালে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তির পায়ের পাতার অংশ এবং মহাদেবের অংশটি ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি। মন্দির কর্তৃপক্ষের ধারণা, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

​খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মন্দিরে চুরির খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া মূর্তি ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘর অগোছালো হয় যে অভ্যাসে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ঘর অগোছালো হয় যে অভ্যাসে?

পরিপাটি একটি ঘরে ঢুকলেই মনটা যেন একটু শান্ত হয়ে আসে। ঘর খুব দামি আসবাবে সাজানো না হলেও পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো পরিবেশ তার সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

বিপরীতে, চারপাশে কাপড়ের স্তূপ, এলোমেলো বই, ব্যবহৃত কাপ-প্লেট কিংবা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোটখাটো জিনিস ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি অস্বস্তিও তৈরি করতে পারে।

অনেকেই ভাবেন, ঘর পরিষ্কার রাখতে হলে প্রতিদিন অনেকটা সময় দিতে হবে।

আসলে নিয়মিত বড়সড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেয়ে কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের ব্যবহারে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হলেই ঘর অনেকটা গোছানো রাখা সম্ভব।

চেয়ারকে কাপড় রাখার জায়গা বানাবেন না

বাইরে থেকে এসে পোশাক খুলে চেয়ারে রেখে দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। একটি-দুটি পোশাক থেকে ধীরে ধীরে সেটিই কাপড়ের স্তূপে পরিণত হয়।

ফলে গোছানো ঘরও মুহূর্তে এলোমেলো দেখাতে শুরু করে।

ব্যবহৃত পোশাক খুলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করুন সেটি ধোয়ার জন্য যাবে, নাকি আবার পরা যাবে। ধোয়ার কাপড় নির্দিষ্ট ঝুড়ি বা স্থানে রাখুন। আর পরিষ্কার পোশাক ভাঁজ করে আলমারি বা নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখুন।

পোশাকের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন

আলমারিতে জায়গার সংকট থাকলে ঘরের একটি সুবিধাজনক অংশে ছোট র‌্যাক, হুক বা হ্যাঙ্গার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের ব্যবহারের পোশাক আলাদা করে রাখা সহজ হয়।

যে জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, সেটি ব্যবহারের পর আবার সেখানে ফেরত রাখার অভ্যাসও তৈরি হয়। এতে ঘরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাপড় ছড়িয়ে থাকার প্রবণতা কমে।

ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা যেমন আছে তেমনই রেখে দেওয়া পুরো ঘরের চেহারাটাই বদলে দিতে পারে। বিছানা অগোছালো থাকলে পরিষ্কার ঘরও এলোমেলো মনে হয়। তাই দিনের শুরুতেই চাদর ঠিক করে বালিশগুলো গুছিয়ে রাখুন। এতে খুব বেশি সময় লাগে না, অথচ ঘরের সামগ্রিক পরিবেশ অনেক বেশি পরিপাটি দেখায়। দিনের শুরুতে একটি ছোট কাজ শেষ করার মানসিক স্বস্তিও পাওয়া যায়।

ছোট জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা বানান

চাবি, রিমোট, কলম, চার্জার, প্রসাধনী কিংবা নানা ধরনের ছোটখাটো জিনিস কোথাও রেখে দেওয়ার অভ্যাস থেকেই ঘরে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

এসব জিনিসের জন্য একটি ছোট বাক্স, ঝুড়ি, ড্রয়ার কিংবা ঢাকনাযুক্ত ট্রে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারের পর জিনিসটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরিয়ে রাখলেই টেবিল ও ঘরের অন্যান্য অংশ অনেক বেশি পরিষ্কার থাকবে।

ব্যবহারের পর জিনিস যেখানে থাকার কথা, সেখানে রাখুন

চা বা কফি খাওয়ার পর কাপ টেবিলেই পড়ে থাকা, খালি পানির বোতল ঘরে জমিয়ে রাখা কিংবা খাবারের প্লেট-বাটি ব্যবহারের পর সরিয়ে না নেওয়া, এসব ছোট অভ্যাসই ঘর দ্রুত অগোছালো করে ফেলে।

একটি সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন, যে জিনিস যেখানে থাকার কথা, কাজ শেষ হওয়ার পর সেটি সেখানেই ফিরিয়ে রাখুন। কাপ রান্নাঘরে, নোংরা বাসন নির্দিষ্ট স্থানে এবং খালি বোতল বা আবর্জনা যথাস্থানে রাখার অভ্যাস করুন।

পরিষ্কার ঘরের রহস্য বড় কাজে নয়, ছোট অভ্যাসে

ঘর সব সময় ঝকঝকে রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ সময়মতো করে ফেলাই সবচেয়ে সহজ উপায়। কাপড় জমতে না দেওয়া, সকালে বিছানা গুছিয়ে নেওয়া, ছোট জিনিস এক জায়গায় রাখা এবং ব্যবহারের পর জিনিস যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলেই ঘর অনেক বেশি পরিপাটি থাকবে।

মনে রাখুন, অগোছালো ঘর একদিনে তৈরি হয় না, দপ্রতিদিনের ছোট ছোট অবহেলাতেই তার শুরু। একইভাবে, গোছানো ঘরও তৈরি হয় প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নে।

ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

‘যোগ্য গাইড, যোগ্য নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্প-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য ‘মহা তাঁবু জলসা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, তাঁর সহধর্মিনী ফারজানা খান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল, বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেহেনা জাহান রানি, উপজেলা কমিশনার মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

​এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁবু জলসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা গাইডিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, অনুশাসন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী গার্ল গাইডদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ পুরো গাইড ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।

​হালিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা রেহেনা প্রিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে ফরিদপুর সদরসহ জেলার ৯টি উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের মোট ১৭৫ জন গার্ল গাইড সদস্য অংশ নেয়।