খুঁজুন
, ,

যেভাবে মার্ক কার্নির প্রেমে পড়ল কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
যেভাবে মার্ক কার্নির প্রেমে পড়ল কানাডা

কানাডার রাজনীতিতে এমন উত্থান খুব বেশি দেখা যায় না। এক বছর আগেও যাকে অনেকেই সাময়িক নেতা হিসেবে দেখছিলেন, সেই মার্ক কার্নি এখন শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, বরং দেশটির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

তিনটি উপনির্বাচনে তার দল লিবারেল পার্টির বড় জয় সেই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশেষ করে টরন্টোর দুটি আসনে সহজ জয় এবং মন্ট্রিয়লের উপশহর তেরবোনে নাটকীয় সাফল্য, সব মিলিয়ে কার্নির নেতৃত্বে সরকার এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে।

তেরবোনের জয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এটি সাধারণত বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবাপন্ন, ফরাসিভাষী ভোটারদের এলাকা।

সেখানে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী প্রার্থী তাতিয়ানা অগাস্ট দ্বিতীয়বারের মতো জয় নিশ্চিত করেন। আগেরবার মাত্র এক ভোটে জয় পেলেও কানাডার সুপ্রিম কোর্ট সেটি বাতিল করেছিল।
এবার সেই আসনও লিবারেলদের দখলে থাকায় রাজনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
টরন্টোর দুটি আসনে লিবারেলদের জয় আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু মন্ট্রিয়লের এই ফলাফল দেখিয়েছে, ফরাসিভাষী এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাতেও কার্নি সমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও তিনি আলবার্টাভিত্তিক একজন ব্যাংকার এবং ফরাসি ভাষায় তার দুর্বলতা রয়েছে।

কার্নির এই উত্থান অনেকটা অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়েই এসেছে। ২০২৫ সালের দিকে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। জনমত জরিপে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি হয়তো অল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং পরে পিয়ের পলিয়েভ্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানের কারণে। কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ঘিরে দেশজুড়ে জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিকে দক্ষভাবে কাজে লাগান কার্নি।

তিনি নিজেকে সংকট মোকাবিলার উপযুক্ত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। এমনকি হকি কিংবদন্তি গর্ডি হাওয়ের জনপ্রিয় অভিব্যক্তি ধার করে বলেন, তিনি ‘কনুই উঁচু’ রাখবেন, অর্থাৎ কঠোর অবস্থান নেবেন।

রাজনীতিতে আসার আগে কার্নির পরিচয় ছিল এক অভিজ্ঞ ব্যাংকার হিসেবে। তিনি গোল্ডম্যান স্যাকসে কাজ করেছেন। পরে কানাডা ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ডে পড়াশোনার সময় তিনি হকি খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

এই অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত জনমনে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ফলে বিরোধীদের সঙ্গে ২০ পয়েন্টের ব্যবধানও দ্রুত কমে আসে।

গত নির্বাচনে লিবারেল পার্টি সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেলেও ৩৪৩ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তিন আসন দূরে ছিল। এতে বিরোধীরা সংসদীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং যেকোনো সময় নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেত।

কার্নি সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠেন। বিরোধী দল থেকে পাঁচজন সংসদ সদস্যকে নিজের দলে নিয়ে আসেন। এই রাজনৈতিক কৌশল কিছুটা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করলেও সমালোচকরা একে গোপন কৌশল হিসেবে দেখেন।

বর্তমানে হাউস অব কমন্সে লিবারেলদের অবস্থান সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি, মাত্র তিন আসনের ব্যবধান। ফলে বিরোধীদের চাপিয়ে দেওয়া নির্বাচনের ঝুঁকিও কমে গেছে।

জনমত জরিপেও কার্নির জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে। এমনকি যারা তাকে ভোট দিচ্ছেন না, তারাও ব্যক্তিগতভাবে তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

জরিপ বিশ্লেষক ফিলিপ জে ফোরনিয়ে বলেছেন, ভোটের প্রবণতার বাইরে গিয়ে কার্নির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা আলাদা করে চোখে পড়ে। এমনকি আলবার্টা ও প্রেইরি অঞ্চলের মতো লিবারেল বিরোধী এলাকাতেও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বয়স্ক প্রজন্মের অনেকের কাছে কার্নি এখন এক ধরনের জাতীয় প্রতীক। সংগীতশিল্পী জোনি মিচেল জুনো অ্যাওয়ার্ডসে তাকে ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে তরুণ কানাডিয়ানরা এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে বেশি মনোযোগী। তবে তাদের মধ্যেও ধীরে ধীরে সমর্থন বাড়ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক বক্তৃতায় কার্নি বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আমরা যদি আলোচনার টেবিলে না থাকি, তাহলে আমরা নিজেরাই মেন্যুতে পরিণত হব।

এই বক্তব্য তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করে।

ক্ষমতায় এসে তিনি ট্রুডোর নীতির অনেক দিক থেকে সরে আসেন। প্রথম বড় সিদ্ধান্ত ছিল কার্বন ট্যাক্স বাতিল। পশ্চিমাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশগুলোর জন্য এটি ছিল বড় বার্তা। একইসঙ্গে আলবার্টার তেল পরিবহনের জন্য নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের কথাও তিনি সামনে আনেন।

অভিবাসন নীতিতেও কঠোর অবস্থান নেন কার্নি। পাশাপাশি চীন ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেন, যা ট্রুডো সরকারের সময় উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

অর্থনীতিতে বড় অবকাঠামো পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। এর মধ্যে কুইবেক সিটি থেকে টরন্টো পর্যন্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক অন্যতম।

প্রতিরক্ষা খাতেও বড় পরিবর্তন আসে। সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে নেওয়া হয়, যা বার্লিন প্রাচীর পতনের পর এই প্রথম। কানাডায় এখন যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমানোর আলোচনা জোরদার হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে নতুন সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বদলে সুইডিশ যুদ্ধবিমান বিবেচনার কথাও উঠে এসেছে।

কার্নি স্পষ্ট করেছেন, কানাডার অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে হবে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো প্রতিটি ডলারের ৭০ সেন্টের প্রবণতা আর চলবে না।

তিনি আরও বলেন, কানাডার ভেতরে স্থানীয় পণ্য ও পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই এখন ক্যালিফোর্নিয়ার বদলে কানাডার অভ্যন্তরীণ গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সম্মেলনে সরাসরি অংশ নেননি। তবে তিনি ভিডিও বার্তা পাঠান, যেখানে তাকে কেটি পেরির সঙ্গে কোচেলা ভ্যালি মিউজিক অ্যান্ড আর্টস ফেস্টিভ্যালে দেখা যায়।

ট্রুডোর গ্ল্যামার থাকলেও রাজনৈতিক মনোযোগ এখন পুরোপুরি কার্নির দিকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লিবারেল পার্টির ঐতিহ্যগত ‘ব্রোকারেজ রাজনীতি’ আবারও ফিরে এসেছে। কার্নি একদিকে বিভিন্ন মতাদর্শকে একত্র করছেন, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে কৌশল সাজাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, এক সময় যাকে অনিশ্চিত নেতা হিসেবে দেখা হয়েছিল, তিনি এখন কানাডার রাজনৈতিক আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন।

‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই, প্রতিটি ইউনিয়নে হবে খেলার মাঠ’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই, প্রতিটি ইউনিয়নে হবে খেলার মাঠ’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

“মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।”— এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তোলার এমন উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার নেয়নি।”

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের হলরুমে নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে অনেক নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।”

তিনি বলেন, “একদিকে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এ দুটি উদ্যোগই একটি সুস্থ, দক্ষ ও উৎপাদনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান

জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মদান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা কাজী দেলোয়ার হোসেন, এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. সাঈফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল চৌধুরী, মুখপাত্র জেবা তাওসীন এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী সানজিদা রহমান সমতা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদরা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহিদদের আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘সবুজ সোনা’ তোষা পাটের মাঠ দিবস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯ (সবুজ সোনা)’ জাতের মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশে ফরিদপুরের কৃষকদের ছিল ব্যাপক সাড়া। নতুন এই জাতের অধিক ফলন, উন্নতমানের আঁশ এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে আগামী মৌসুমে চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শতাধিক কৃষক।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. রণজিৎ কুমার ঘোষ এবং পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের ইনচার্জ ড. মো. রিশাদ আব্দুল্লাহ। এছাড়া স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশ নেন।

প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ বর্তমানে উদ্ভাবিত অন্যতম সম্ভাবনাময় তোষা পাটের জাত। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা আরও জানান, এ জাতের আঁশ অত্যন্ত উজ্জ্বল, সোনালি রঙের, মসৃণ ও শক্তিশালী হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে।

প্রধান অতিথি ড. এ. টি. এম. মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩.২৫ টন আঁশ এবং ৬.৪৮ টন পাটকাঠি উৎপাদন করতে সক্ষম। গাছের গড় উচ্চতা প্রায় ৩.০৪ মিটার এবং কাণ্ডের ব্যাস ১৬.২৫ মিলিমিটার, যা উন্নত আঁশ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের পাট উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এ জাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রদর্শনী প্লটের কৃষক মোক্তার মোল্লা বলেন, “এবারই প্রথম বিজেআরআই তোষা পাট-৯ চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছগুলো সমানভাবে লম্বা ও মোটা হয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের এলাকার কৃষকেরা এই পাট দেখতে আসছেন। আগামী মৌসুমে অনেকেই এই জাতের পাট চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।”

মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া অন্যান্য কৃষকেরাও নতুন জাতটির প্রশংসা করে বলেন, এ পাট পানিতে দীর্ঘ সময় ভালো থাকে, ঝড়-বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। তারা সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহের দাবি জানান, যাতে আরও বেশি কৃষক এই জাতের পাট চাষে উৎসাহিত হন।

বিকেলে আয়োজিত উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় কৃষকেরা পাট চাষের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জবাবে কৃষি বিজ্ঞানীরা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহারের কৌশল, রোগবালাই দমন এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পাটের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়োপযোগী বীজ সরবরাহ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদপুরসহ দেশের পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ‘সবুজ সোনা’ আবারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।