খুঁজুন
, ,

টানা ৩০ দিন হলুদ খেলে শরীরে আসতে পারে যে ৪ পরিবর্তন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
টানা ৩০ দিন হলুদ খেলে শরীরে আসতে পারে যে ৪ পরিবর্তন

বাঙালি রান্নার অন্যতম উপকরণ হলুদ। হলুদ রান্নায় শুধু রং বা গন্ধই বাড়ায় না, এই মসলা আয়ুর্বেদ ও ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপকারী টোটকা। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন হলুদ খায়, তাহলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে? ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এর উত্তর।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, টানা এক মাস নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে—

১. প্রদাহ হ্রাসে সহায়তা : হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন (Curcumin) শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে কার্যকর। এই উপাদানটি আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টের ব্যথা এবং অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।

২. হজমে উন্নতি : হলুদ পেটকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। এটি বদহজম, গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৩. ইমিউন সিস্টেম মজবুত করে : হলুদে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ‘ফ্রি র‍্যাডিকেলস’ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

৪. মাসল পেইন কমায় : ব্যায়ামের পর হওয়া মাংসপেশির ব্যথা ও ক্লান্তি কমাতে হলুদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে হলুদের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—

হজমে সমস্যা : খালি পেটে বেশি পরিমাণে হলুদ খাওয়া শরীরের জন্য সবসময় ভালো নয়। এতে অম্বল, গ্যাস, পেট খারাপ বা বমিভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে এটি হজমে জটিলতাও তৈরি করতে পারে। তাই উপকারের আশায় অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

রক্ত পাতলা হওয়ার ঝুঁকি : হলুদ প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পাতলা করার উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই যারা ইতোমধ্যেই ব্লাড থিনার (রক্ত পাতলা করার ওষুধ) খাচ্ছেন, তাদের হলুদ খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতিরিক্ত হলুদ রক্তক্ষরণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষত অস্ত্রোপচার বা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত হলুদ খাওয়া নিরাপদ নয়।

লিভারের ক্ষতি : খুব বেশি পরিমাণে বা দীর্ঘদিন হলুদের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার অভ্যাস লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের লিভার সংক্রান্ত পুরোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তাদের হলুদ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অ্যালার্জির ঝুঁকি : হলুদে থাকা কিছু যৌগের কারণে অ্যালার্জি হতেই পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হলুদ খাওয়ার পর বা চামড়ায় লাগানোর পর দেখা দিতে পারে চুলকানি, র‌্যাশ, লালচে ফোলা বা জ্বালাভাব। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া শরীরের ইমিউন সিস্টেম থেকে সৃষ্ট অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই আগে থেকে অ্যালার্জি থাকার ইতিহাস থাকলে হলুদ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

আয়রন শোষণে ব্যাঘাত : অতিরিক্ত হলুদ শরীরের জন্য সব সময় উপকারী নাও হতে পারে। অতিমাত্রায় হলুদ খেলে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যাদের দেহে আগে থেকেই আয়রনের পরিমাণ কম, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া এ সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সঠিক মাত্রায় হলুদ গ্রহণ করা জরুরি।

এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে হলুদ খাবেন?

১. রান্নায় মশলা হিসেবে ব্যবহার করুন

২. হালকা গরম পানিতে বা চায়ে মিশিয়ে খান

৩. রাতে ঘুমের আগে দুধে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া খুবই উপকারী

৪. সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন

এক মাস ধরে প্রতিদিন হলুদ খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সেটি অবশ্যই সঠিক মাত্রায় এবং সঠিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে হলুদ খাওয়া সবসময় ভালো ফল আনে না। তাই হলুদের পূর্ণ উপকার লাভের জন্য প্রয়োজন মিতব্যয়িতা ও সচেতনতা বজায় রাখা।

ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও HPV টিকা নিয়ে সচেতনতা সভা

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হলরুমে এ সভার আয়োজন করে ‘স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর’।

​কর্মসূচিতে কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং তুহিন বিন আলমগীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডা. মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা গিয়াস।

​মূল প্রবন্ধে ডা. সাবরিনা গিয়াস বলেন, “উচ্চঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। কিশোরী বয়সে এই টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।” টিকার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানে উৎসাহিত করা জরুরি। আর্থিক কারণে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্বপ্নগড়ি ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় দুটি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে তৃতীয় টিকাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজেন্দ্র কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ওবায়দুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর তারেক হোসাইন ও রাজবাড়ী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বড়। তাই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, এই ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বেগম রোকেয়া ছাত্রী হোস্টেলের হল সুপার, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল নারীর

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাসুদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। মাসুদা বেগম ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। জ্বর নিয়ে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ফরিদপুরে প্রায় ৭০০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।