কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া
কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে তাঁর কোরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, ‘এই কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুল (সা.)! এটা কি শুধু আহলে বায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য?’ উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য।’ (মুসনাদে বাজযার-আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৪)
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো’ (সুরা কাওসার: ২)। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)
এ ক্ষেত্রে যারা কোরবানি দিতে চান, তাদের অনেকেই কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম জানেন না। তাই নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া তুলে ধরা হলো।
কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া
ইসলামে খাদ্য গ্রহণ কেবল দৈহিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; এটি ইবাদত ও তাকওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমান কী খাবে, কীভাবে খাবে—এমনকি সেই খাদ্য প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইসলামি শরিয়তের অধীন। পশু জবাই করার নিয়ম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআন ও হাদিসে পশু জবাইয়ের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে মানবিকতা, পবিত্রতা ও আল্লাহভীতির সমন্বয় ঘটে।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)
ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)
ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।
পশু জবাইয়ের নিয়ম ও মৌলিক শর্ত
পশু-পাখির জবাই সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, জবাইকারী মুসলমান কিংবা আহলে কিতাব তথা কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান ব্যক্তি হওয়া।
জবাইয়ের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করা এবং কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার দিক থেকে জবাই করা।
শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুই শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করে জবাই সম্পন্ন করা।
এসব শর্তের কোনোটি না পাওয়া গেলে জবাই সহিহ হবে না এবং সে প্রাণী খাওয়াও জায়েজ হবে না। অবশ্য উপরিউক্ত শর্ত পাওয়া যায়, এমন কেউ যদি জবাইয়ের সময় আল্লাহ নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলে জবাই সহিহ হবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত আল্লাহ নাম ছেড়ে দেয়, তাহলে জবাই সহিহ হবে না। (সুরা মায়েদা: ৩-৫, সুরা আনআম: ১২১, সহিহ বোখারি: ৫৫০৩, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৮৮৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক: ৮৫৭৮, ৮৫৪১ ও ৮৫৫৬, তাফসিরে তাবারি: ৪/৪৪০, আহকামুল কোরআন, জাসসাস: ৩/৭)
আর জবাইয়ের জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরি নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। এমনিভাবে আড়াই পোচে জবাই করাও জরুরি নয়। এটি একটি ভুল প্রচলন। মাসআলা হচ্ছে, রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেওয়া, তা যত পোচেই হোক। তবে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহর করবে। যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়।
উপরিউক্ত শর্ত ছাড়াও জবাইয়ের কিছু আদব ও মুস্তাহাব রয়েছে। সুন্নাহসম্মত ও উত্তমপন্থায় জবাই করতে চাইলে সে বিষয়গুলোর প্রতিও লক্ষ রাখা উচিত।
কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ، وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ، وَلَكَ….بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر
উচ্চারণ: ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজ ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়ালআরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতি ওয়ানুসুকি ওয়ামাহইয়ায়া ওয়ামামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা-শারিকালাহু ওয়াবিজালিকা উমিরতু ওয়াআনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা।…বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: -৩১২১)
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণকারীদের একজন। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, পুরো দোয়া না পারলে অন্তত ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কোরবানি করলে চলবে। তবে আল্লাহর নাম ছাড়া কোনোভাবেই কোরবানি জায়েজ হবে না।
সূত্র : কালবেলা

আপনার মতামত লিখুন
Array