খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফিতরা কী? কার ওপর ফরজ, কারা পাবেন—বিস্তারিত জানুন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
ফিতরা কী? কার ওপর ফরজ, কারা পাবেন—বিস্তারিত জানুন এক নজরে

সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

ফিতরা দেওয়া কী এবং কেন দিতে হয়?

প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯)

কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব

যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯)

মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

নেসাবের ওপর বছরপূর্তি কি জরুরি?

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।

মাসআলা : কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯)

ইফতার ও সেহরির টাইম জানতে ক্লিক করুন..

মাসআলা : ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৫)

যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

মাসআলা : পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ : পৃ. ৩৯৫)

মাসআলা : মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

মাসআলা : সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

মাসআলা : বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১০৪৫৫)

বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। (আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

মাসআলা : নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সাদাকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৩/৬৩, সহিহ বোখারি : ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক : ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৪, হেদায়া : ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৩)

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ

হাদিসে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা : ১. যব, ২. খেজুর, ৩. পনির, ৪. কিশমিশ ৫. গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে। কেজির হিসাবে যা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা সা‘ দিতে হবে। কেজির হিসাবে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম। এটা ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ। আর মূল্যের পার্থক্য তো আছেই।

উল্লেখ্য, হাদিসে এ পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যে কোনোটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে উত্তম হলো, যার উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য আছে, তার জন্য ওই হিসাবেই দেওয়া। যার সাধ্য পনির হিসাবে দেওয়ার, তিনি তাই দেবেন। এরচেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারেন। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তিনি আদায় করবেন গম দ্বারা।

কোরআনের নির্দেশনা, অবশ্য কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে (এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরো বাড়িয়ে দেয়), তবে তার পক্ষে তা শ্রেয়। (সুরা বাকারা : ১৮৪)

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি

হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে। কুররা (রাহ.) বলেন, আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহ.)-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭০)

বিশিষ্ট তাবেয়ি আবু ইসহাক (রাহ.) বলেন, আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়িগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। (সহিহ বোখারি : ১/১৯৪, উমদাতুল কারী : ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৪৭২, কিতাবুল আছল : ২/১৮০, ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৫)

মাসআলা : চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস ১০৪৭২; কিতাবুল আছল : ২/১৮০; আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১১৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/২৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫৫)

মাসআলা : একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৭)

প্রবাসে অবস্থানরতরা যেভাবে ফিতরা আদায় করবেন

বিদেশে অবস্থানরত কারো পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ওই দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

মাসআলা : অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া : ৬/২৮৯)

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়

সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

আর নাফে‘ (রাহ.) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ৩১৬)

সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর রমজানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। (আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৭, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৭)

উল্লেখ্য, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

সাদাকাতুল ফিতর যাদেরকে দেওয়া যাবে

জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

আত্মীয়স্বজনকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া

নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। (কিতাবুল আছল : ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬২, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

অমুসলিমকে সদকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে?

সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েজ এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৫১২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬১, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৯)

মাসিক আল কাউসার অবলম্বনে

ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের পাকড় গাছের নিচে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামীণ বাংলার প্রাচীন ক্রীড়া ঐতিহ্যের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে।

লাঠি খেলায় অংশ নেয় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ধোপাডাঙ্গা-চাদপুর এলাকার অভিজ্ঞ লাঠিয়াল দল। তারা দলবদ্ধ ও এককভাবে নানা কৌশলী ও শৈল্পিক লাঠি খেলার প্রদর্শনী উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন, চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত এই খেলা এখন লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার করা যায়।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ফরিদপুরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত আয়োজন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানটির ড্রিলশেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির প্রতীক নানা রঙের মুখোশ, পাখি, গ্রামীণ জীবনচিত্র ও লোকজ উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসজুড়ে ঘুরে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের রঙিন পোশাক, আলপনা আঁকা প্রাঙ্গণ এবং বৈশাখী সাজ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে নৃত্য, গান, আবৃত্তি এবং নাটিকার মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার চেতনাকে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৈশাখী গান ও লোকজ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দের সঞ্চার করে। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও অংশগ্রহণের এক অনন্য সমন্বয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ুম শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। নতুন বছরের সূচনায় সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। তারা আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবমিলিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে নববর্ষের নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

সারা বছরের অপেক্ষার পর সেই কাঙ্ক্ষিত সকালে বাইরে যাওয়ার আগে মেকআপ করতে তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিয়ে তৈরি হোন। প্রথমে এক টুকরো বরফ মুখে ঘষে নিন।

এতে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকবে এবং গরমে ত্বকও স্বস্তি পাবে।
ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন মুখে, চোখের ওপর-নিচে ও গলায় লাগিয়ে একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

মেকআপের পরও যদি চোখের নিচে কালি, মুখে দাগ বা ভাঁজ দেখা যায়, তাহলে কনসিলার ব্যবহার করুন। এরপর কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন।

চোখের ওপর পুরো পাতাজুড়ে বেস আইশ্যাডো লাগান। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বা দুই শেড মিলিয়ে আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্রূর ঠিক নিচে হাইলাইটার লাগান। কাজল চোখের ভেতরে লাগিয়ে ওপরে ও নিচে আইলাইনার দিন। যারা আইলাইনার ব্যবহার করতে চান না, তারা গাঢ় করে কাজল লাগাতে পারেন। সবশেষে দুই কোট মাসকারা ব্যবহার করুন।
নাক একটু মোটা বা বড় হলে দুই পাশে ডার্ক শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে শার্প লুক দিতে পারেন। নাকের ওপরের অংশে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন ও কমপ্যাক্ট লাগান।

গোলাপি বা বাদামি শেডের ব্লাশন ব্রাশে নিয়ে গালের আপেল পয়েন্টে লাগান।

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে হালকা পাউডার লাগিয়ে নিন। এরপর লিপ পেন্সিল দিয়ে আউটলাইন এঁকে লিপ ব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান।

পহেলা বৈশাখে গরম বেশি থাকে, তাই চুল খোলা না রেখে হালকা ভলিউম দিয়ে সেট করে নিতে পারেন। পেছনে চুল আটকানোর জায়গায় পছন্দের ফুল ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে খোঁপাও করতে পারেন।

বৈশাখের সাজে হাতভর্তি রেশমি চুড়ি, পোশাকের সঙ্গে মানানসই কানের দুল এবং কপালে টিপ বা আলপনা সাজকে পূর্ণতা দেয়।

পহেলা বৈশাখে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে ওয়েট টিস্যু ও কিছুটা লুজ পাউডার রাখুন। ত্বক ঘেমে গেলে মুছে নিয়ে আবার পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে পারবেন।