খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘শহরের ফেলে দেওয়া খাবারই যার বেঁচে থাকার ভরসা!’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
‘শহরের ফেলে দেওয়া খাবারই যার বেঁচে থাকার ভরসা!’

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে আটটা ছুঁইছুঁই। শহরের ব্যস্ততা তখনও থামেনি। ফরিদপুর শহরের রাস্তাজুড়ে গাড়ির হেডলাইট ছুটে যাচ্ছে একটার পর একটা। দখিনা বাতাসে গরমের ক্লান্তি কিছুটা কমলেও শহরের কোলাহল যেন থামার নাম নেই। দোকানের সামনে মানুষের ভিড়, চায়ের কাপে ধোঁয়া, দূরে কোথাও ভেসে আসছে ভাজাপোড়ার গন্ধ। অথচ সেই একই শহরের এক কোণে, ফরিদপুর জেলা কারাগারের উঁচু দেয়ালের পাশে বসে ছিল এক বৃদ্ধ—নীরব, অবহেলিত, একাকী।

ষাটোর্ধ্ব সেই মানুষটির গায়ে মলিন একটি ছেঁড়া শার্ট। ধুলোমাখা লুঙ্গিটা হাঁটুর কাছে গুটানো। পাশে রাখা একটি পুরোনো বাঁশের টোপলা। মনে হচ্ছিল, সারাদিন হয়তো শহরের অলিগলি ঘুরে কিছু কুড়িয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে লেগেছিল তার হাতে থাকা সেই পঁচা আমটি।

একটি নোংরা কাগজের ওপর রেখে তিনি আমটি খাচ্ছিলেন। না, খাওয়া নয়—চেটে চেটে শেষ রসটুকু তুলে নিচ্ছিলেন। যেন ওই আমটিই তার জীবনের শেষ খাবার। আমি কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, মানুষটা হয়তো লজ্জা পাবে, কিংবা চোখ তুলে তাকাবে। কিন্তু না—তার কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। পৃথিবী যেন তাকে দেখার প্রয়োজনই বোধ করে না, সেও পৃথিবীর দিকে তাকানোর শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

হঠাৎ মনে হলো, কতটা ক্ষুধার্ত হলে একজন মানুষ পঁচা আমের মধ্যেও খাবার খুঁজে নেয়!

আমি ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃদ্ধ একবার তাকালেন। সেই চোখে ছিল না কোনও অভিযোগ, না কোনও প্রত্যাশা। ছিল শুধু দীর্ঘদিনের ক্লান্তি। এমন ক্লান্তি, যা শুধু শরীরের নয়—জীবনের।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “চাচা, কিছু খেয়েছেন?”

তিনি মৃদু হাসলেন। দাঁতহীন মুখে সেই হাসি যেন আরও বেশি কষ্টের লাগছিল। খুব আস্তে বললেন,
“বাবা, পেট যখন জ্বলে, তখন পঁচা আমও মিষ্টি লাগে।”

কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। শহরের আলো তখনও ঝলমল করছিল। দামি গাড়িগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল দ্রুতগতিতে। হয়তো সেই গাড়ির ভেতরে বসে কেউ রাতের খাবারের মেনু নিয়ে ব্যস্ত। আর এই বৃদ্ধ—একটু খাবারের জন্য পঁচা আম চেটে খাচ্ছেন।

আমরা কত সহজেই খাবার ফেলে দিই। একটু বাসি হলেই ডাস্টবিনে ছুঁড়ে মারি। অথচ এই পৃথিবীতেই কেউ কেউ সেই ফেলে দেওয়া খাবার কুড়িয়ে জীবন বাঁচায়।

সেদিন ফরিদপুর জেলা কারাগারের দেয়ালের পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ মানুষটিকে দেখে মনে হয়েছিল—কারাগারের ভেতরে বন্দি যারা, তারা হয়তো শাস্তি ভোগ করছে। কিন্তু দেয়ালের বাইরে এই মানুষগুলো? এরা তো প্রতিদিন ক্ষুধা, অবহেলা আর নিঃসঙ্গতার এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হয়ে বেঁচে আছে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।