খুঁজুন
, ,

আলফাডাঙ্গায় ‘সেভ’-এর উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ‘সেভ’-এর উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। সামাজিক সংগঠন ‘স্যোশাল অ্যাকটিভিটিজ ফর এনভায়রনমেন্টাল ভার্সনস’ (সেভ)-এর উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৩০ মে) বিকালে উপজেলার পার্শ্ববর্তী আড়মাঝি স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ফাইনাল এই ম্যাচে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ফুটবল একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মহম্মদপুর উপজেলার নোহাটা ফুটবল একাদশকে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আকর্ষণীয় এই খেলা উপভোগ করতে মাঠ প্রাঙ্গণে হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে এবং পুরো এলাকাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

​খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মনিরুল হক। টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ্যাড. হেমায়েত হোসেন, চরনারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিটলার রহমান খান ও ধামরাই সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ নজীর মাসুদ। এছাড়াও স্থানীয় সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

​পুরস্কার বিতরণী পর্বে চ্যাম্পিয়ন গুনবাহা ফুটবল একাদশকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ এবং রানার-আপ নোহাটা ফুটবল একাদশকে একটি টেলিভিশন প্রদান করা হয়।

​সমাপনী বক্তব্যে অতিথিবৃন্দ যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গ্রামীণ ক্রীড়া চর্চার প্রসারে এবং তরুণদের ইতিবাচক ধারায় বজায় রাখতে ‘সেভ’ সামাজিক সংগঠনের এই ধরনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা।

পুরো টুর্নামেন্টটি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘সেভ’ সামাজিক সংগঠনের একঝাঁক তরুণ ও উদ্যমী সদস্যবৃন্দ।

পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা কি সুন্নত?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা কি সুন্নত?

পবিত্র কোরআন মুসলমানদের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার গ্রন্থ। এটি আল্লাহ তায়ালার কালাম।

তাই কোরআনের প্রতি যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও আদব প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরা সম্মান ও শিষ্টাচারের দিক থেকে উত্তম।ইসলামে সম্মানজনক ও ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাম হাতে কোরআন ধরা বা বহন করাকে সর্বাবস্থায় হারাম বলার পক্ষে স্পষ্ট দলিল উল্লেখ করা জরুরি।
বিশেষ কোনো প্রয়োজন বা অপারগতার কারণে কেউ বাম হাতে কোরআন ধরলে, শুধু এ কারণে তাকে গুনাহগার বলা যায় না। তবে কোরআনের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং অন্যান্য ভালো কাজে ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৭)

অন্য একটি হাদিসে হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতা অর্জন, আহার গ্রহণ এবং সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহার করতেন। আর শৌচকার্য ও অপবিত্রতা দূর করার কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩)এসব হাদিসের আলোকে ইসলামী ফকিহরা সম্মানজনক ও ভালো কাজের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে এসব হাদিসে সরাসরি কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরার নির্দেশ নেই; বরং সাধারণ শিষ্টাচারের নীতি তুলে ধরা হয়েছে।

ইমাম নববী (রহ.) সম্মানজনক কাজে ডান দিক থেকে শুরু করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এর উদাহরণ হিসেবে অজু, গোসল, পোশাক পরিধান, মসজিদে প্রবেশ, মিসওয়াক করা ও সুরমা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা উত্তম আদব ও সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে কোরআন স্পর্শ ও বহনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অবমাননা থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফরিদপুরে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

ফরিদপুর পৌর এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাশয় রক্ষাসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে ১০ দফা দাবিতে পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম।

​রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভা কার্যালয়ে পৌর প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমানের কাছে এ স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​স্মারকলিপিতে পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, অম্বিকা ময়দানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পুকুর-জলাশয় দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ, সড়ক ও ফুটপাতের উন্নয়ন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ু ও ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন কর্মসূচি জোরদার করার দাবি জানানো হয়।

​স্মারকলিপি পাওয়ার পরপরই পৌর প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমান অম্বিকা ময়দান এলাকায় সাউন্ডবক্স বা উচ্চশব্দ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। মূলত আশপাশের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও শব্দদূষণ মুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

​এছাড়া পৌর প্রশাসক জানান, কাঠপট্টি ও চকবাজার এলাকার দুটি পুকুর পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নেরও আশ্বাস দেন তিনি।

​স্মারকলিপি প্রদানকালে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র, পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি রেহেনা পিয়া ও মনোয়ারা রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে ফরিদপুর পৌরসভার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা পুরো ভাঙ্গা উপজেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়।

​এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে এ অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

​ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে ওই ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

​স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কর্মকাণ্ড বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, “ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, ঘটেছে তার নিজস্ব কোচিং সেন্টারে। তবে যেহেতু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই প্রতিষ্ঠানের নীতি ও নৈতিকতা বজায় রাখতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”