খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় ফরিদপুরে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:২২ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় ফরিদপুরে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। রায়কে স্বাগত জানিয়ে তারা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন। মিষ্টি বিতরণের সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন এবং রায়কে স্বাগত জানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। এ সময় তারা রায়কে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান সহ মিষ্টি বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, মুখ্য সংগঠক আনিসুর রহমান সজল, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক আর এম হৃদয়, সংগঠক নাইমুল ইসলাম শাকিব, নাজমুল ইসলাম সহ অন্যরা।

এছাড়া ফরিদপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে শহরে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

একটি ইন্টারভিউ শুধু আপনার দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্ব ফুটিয়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। অনেক সময় শতভাগ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অসচেতনতাবশত করা ছোটখাটো কিছু ভুল পুরো সুযোগটি নষ্ট করে দিতে পারে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রথম ইম্প্রেশন বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে যে কাজগুলো ভুলেও করা যাবে না—

দেরি করে পৌঁছানো: ইন্টারভিউ বোর্ডে দেরি করে যাওয়া আপনার অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকুন।

কোম্পানি সম্পর্কে না জেনে যাওয়া: প্রতিষ্ঠান ও যে পদের জন্য আবেদন করেছেন সে বিষয়ে ধারণা না নিয়ে ইন্টারভিউতে যাবেন না।

অনুপযুক্ত পোশাক পরা: খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ বা ক্যাজুয়াল পোশাক পরবেন না। পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক বেঁছে নিন।

পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা: আগের বস বা কোম্পানির বদনাম করবেন না, এতে আপনার পেশাদারিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

মিথ্যা তথ্য দেওয়া: নিজের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো রকম অসত্য বা বাড়িয়ে কোনো তথ্য দেবেন না।

ইন্টারভিউয়ারকে বাধা দেওয়া: কথা বলার সময় কথার মাঝে কেটে ফেলবেন না বা অন্যকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিজে বলা শুরু করবেন না।

অতিরিক্ত কথা বলা বা এলোমেলো কথা বলা: কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘ পেঁচিয়ে কথা বলবেন না। মূল পয়েন্টে স্পষ্ট উত্তর দিন। চোখের যোগাযোগ বা আই কন্টাক্ট না রাখা: কথা বলার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখ এড়িয়ে চলা আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে।

মোবাইল ফোন খোলা রাখা: ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে অবশ্যই ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। ভুলেও ভাইব্রেশন বা রিংটোন বাজতে দেবেন না।

স্যালারি সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন: ইন্টারভিউর প্রাথমিক পর্যায়ে কখনই স্যালারি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না। কারণ একজন চাকরিদাতা কখনোই তেমন বেতনভুক কর্মচারী আশা করবেন না যিনি শুধু অর্থের নিগড়ে বন্দি হয়ে তাদের কাজ করছেন। শুধু শুধু স্যালারির কথা প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে নিজের লালবাতি নিজে জ্বালাবেন না। আপনি চাইলে ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে স্যালারি সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন। সেটা চাকরিদাতারাও আশা করবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারাই স্যালারি সম্পর্কিত তথ্য আবেদনকারীকে জানান।

প্রশ্ন না করা: ইন্টারভিউ শেষে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। না বলবেন না, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বা কাজ সম্পর্কে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করুন। যেমন— প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কাজের পরিবেশ নিয়ে দু-একটি প্রশ্ন করুন। এরপর অত্যন্ত বিনীতভাবে ইন্টারভিউয়ারদের তাদের মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ব্যাপারে আপনার প্রবল আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করুন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বা অনলাইন মিটিং লিভ করার আগে মুখে মৃদু হাসি বজায় রেখে, সবার সঙ্গে হ্যান্ডশেক বা ভদ্রভাবে বিদায় নিয়ে ইতিবাচক একটি মনোভাব রেখে বিদায় নিন।

যেসব কথা সহকর্মীর সঙ্গে কখনো শেয়ার করবেন না?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
যেসব কথা সহকর্মীর সঙ্গে কখনো শেয়ার করবেন না?

অফিসের চার দেয়ালের মাঝে একজন সত্যিকারের ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিদিনের কাজের চাপ, ডেডলাইনের মানসিক ধকল আর বসের বকুনি সবকিছুই সহজ হয়ে যায় যদি পাশে এমন একজন সহকর্মী থাকেন, যিনি একাধারে কাজের সঙ্গী এবং মনের মানুষ। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, অফিস শেষ পর্যন্ত একটি পেশাদার জায়গা এবং সেখানে সবার আগে আপনার ক্যারিয়ার। বন্ধুত্বের গভীরতা যতই হোক না কেন, আবেগের বশে এমন কিছু কথা শেয়ার করা উচিত নয় যা পরবর্তীতে আপনার পেশাদার জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই সম্পর্কে স্বচ্ছতা রেখেও কিছু বিষয়ে নীরব থাকাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ—নতুন চাকরি খোঁজা বা ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আপনি যদি গোপনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন বা ইন্টারভিউ দিয়ে থাকেন, তা কখনোই সহকর্মীকে জানাবেন না। করপোরেট দুনিয়ায় দেয়ালেরও কান থাকে। কোনোভাবে এই তথ্যটি ম্যানেজমেন্টের কাছে পৌঁছালে আপনার বর্তমান চাকরি যেমন ঝুঁকিতে পড়বে, তেমনি কোনো প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্টের সুযোগ থাকলে তাও হাতছাড়া হতে পারে।

আপনার সঠিক বেতন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা

বেতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখা উচিত। একই সংস্থায় কাজ করার কারণে দুজনের বেতনের পার্থক্য (তা সে যতই কম-বেশি হোক না কেন) আপনাদের সুন্দর বন্ধুত্বের মাঝে অজান্তেই দেয়াল তুলে দিতে পারে। কম বেতন পাওয়া মানুষের মনে ক্ষোভ বা হীনম্মন্যতা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক, যা কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

বস বা অন্য সহকর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা

কাজের সূত্রে কারও ওপর রাগ বা ক্ষোভ জমতেই পারে, কিন্তু তা নিয়ে সহকর্মী-বন্ধুর কাছে অতিরিক্ত খোলামেলা আলোচনা বা পরনিন্দা করবেন না। কর্মক্ষেত্রের সমীকরণ খুব দ্রুত বদলায়। আজকের বন্ধু পরিস্থিতির চাপে কাল আপনার প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারেন। তখন আপনারই বলা কোনো মন্তব্য আপনার পেশাদার সুনামের ক্ষতি করতে পারে।

কোম্পানির পলিসি বা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতাপ্রতিষ্ঠানের কোনো নতুন নিয়ম বা পলিসি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে উচ্চবাচ্য করা বা বন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করা অনুচিত। এই ধরনের আলোচনা আপনাকে কোম্পানির প্রতি অনুগত নয় এমন একজন নেতিবাচক কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, যা আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সংকট ও পারিবারিক গোপন তথ্য

আপনার পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক ঋণ বা জটিল কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা কর্মক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই ভালো। বন্ধু হিসেবে তিনি হয়তো আপনাকে সান্ত্বনা দেবেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের অন্যান্য মানুষ একে আপনার মনোযোগের অভাব বা দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করতে পারে। পেশাদার জায়গায় নিজেকে সবসময় মানসিকভাবে দৃঢ় রাখা জরুরি।

কর্মক্ষেত্রে গভীর বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশ করলেও কিছু বিষয়ে দেয়াল তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের বেতন, ক্যারিয়ারের গোপন পরিকল্পনা কিংবা কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ মনের ভেতর চেপে রাখলে আপনার পেশাদার জীবন থাকবে সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত। বন্ধুত্বের আবেগ এবং অফিসের পেশাদারিত্বের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখাই আপনার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক উভয়কেই দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর করে তুলবে।