খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

আলোর আঁধারিতে পথ হারানোর শঙ্কা

ফেরদৌস হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:২৭ পিএম
আলোর আঁধারিতে পথ হারানোর শঙ্কা

কেবল জনসমর্থন বা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিই রাজনীতিতে প্রধান শক্তিমত্তার দিক নয়। জনশক্তির সঙ্গে রাজনীতির খেলায় ‘সফট পাওয়ার’ খুব জরুরি উপাদান।

পতিত আওয়ামী লীগ কেবল তার পোষা মাস্তান বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই ফ্যাসিবাদ জারি রেখেছিল, এমনটা নয়। লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী, আমলা, বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্নভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদে রসদ জুগিয়েছে। মিডিয়া, কালচারাল এস্টাবলিশমেন্ট হলো সফট পাওয়ার; যেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার জুলুমতন্ত্র টিকে ছিল পাক্কা দেড় দশক।

 

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের অবসান হলেও ওই সফট পাওয়ার ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ফের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে চাইছে। আর সেই লক্ষ্যে আবার মাঠে নামিয়েছে তার সফট পাওয়ারের কার্যকরী ও সুশীল অংশটাকে।

আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও আমাদের সমাজ ও রাজনীতির অঙ্গনে আওয়ামী সফট পাওয়ার কাজ করে যাচ্ছে সন্তর্পণে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বিগত কয়েক মাসে নারী ইস্যু, মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ আগস্টের শোক, ‘হিন্দু কার্ড’, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর নিয়ে নানাবিধ কাঁদুনি গাইছে কালচারাল এস্টাবলিশমেন্টের এজেন্টরা। শঙ্কার বিষয় হলো, এইসব কাঁদুনি গাওয়া ব্যক্তিরা অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারকে বিপথে চালিত করার অপচেষ্টায় তৎপর।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রো-ইন্ডিয়ান রাজনীতিক, প্রো-ইন্ডিয়ান মিডিয়া আউটলেট, প্রো-ইন্ডিয়ান আর্ট-কালচার করা একটি গোষ্ঠী বিকশিত হয়েছে একটি বিশেষ মিডিয়া গোষ্ঠীকে কেন্দ্রে রেখে। ওই মিডিয়া গোষ্ঠীর বলয়ের লোকজনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে শিল্প-সংস্কৃতির ঠিকাদারি থেকে শুরু করে দেশের রাজনীতির গতিপথ। ওই কালচারাল এস্টাবলিশমেন্টের লোকেরা আওয়ামী-বাকশালি দুঃশাসনের মধু খেয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তথাকথিত ওই ‘আলোকিত’ মিডিয়া গোষ্ঠী এখন উঠেপড়ে লেগেছে নিজেদের গা থেকে স্বৈরাচারের বিষ্ঠা ধুয়ে ফেলতে। এখন ওই মিডিয়া আউটলেটে সকাল-বিকাল পতিত ফ্যাসিস্টের কু-কীর্তির কথা প্রকাশ হচ্ছে।

আওয়ামী-বাকশালি রাজনীতির অঙ্গীভূত প্রো-ইন্ডিয়ান ওই মিডিয়া আউটলেট কি তবে অনুশোচনায় ভুগছে বিগত সময়ের ভূমিকার জন্য? মোটেই না। শেখ হাসিনার তো পতন হয়েছেই, ঝাড়েবংশে বাংলাদেশ থেকে বিদায় হয়েছে আওয়ামী লীগের। শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের পতন ঠেকানোর কোনো উপায় যেহেতু অবশিষ্ট নেই, তাই আওয়ামী লীগকে বিসর্জন দিয়ে নতুন আঙ্গিকে নতুন কুশীলবদের দিয়ে প্রো-ইন্ডিয়ান রাজনীতির মঞ্চ ভিন্নভাবে তৈরি করতে চাইছে ওই মিডিয়া গোষ্ঠী। তারা ধীরে ধীরে মেনে নিয়েছে যে, আওয়ামী লীগকে পূর্বের আদলে রাখার চেয়ে অভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডারদের আওয়ামীকরণ এবং বাংলাদেশে প্রো-ইন্ডিয়ান রাজনীতির নতুন কাঠামো তৈরি তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির কারণে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের কৌশলগত আগ্রহের কথা বহুল আলোচিত। বিশেষত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিশেষত অবকাঠামো, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে। চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ভারতের তাতে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারত মনে করে চীনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও কৌশলগত অংশীদার হয়ে উঠতে পারে, যা ভারতের জন্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। ভারত চায় বাংলাদেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল না হোক। তাই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে ভারত।

কেবল কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে বগলদাবা করে রাখা দিনকে দিন কঠিনতর হয়ে উঠেছে ভারতের জন্য, বিশেষত দেশটির নগ্ন সমর্থনপুষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ন্যক্কারজনক পতনের পর। আর তাই নতুন বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরও কার্যকর কালচারাল এস্টাবলিশমেন্ট সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর সেই কাজে নেমে পড়েছে বিশেষ ওই মিডিয়া আউটলেট। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান এবং অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার দল ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তাদের সংবাদ প্রকাশ করেছে সরকারের অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিস্থাপন করতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সুনজরে থাকতে এবং তাদের প্রতি জনতার অনাস্থা কমাতে পতিত স্বৈরাচারের নিন্দায় কুমিরের কান্না শুরু করেছে ওই মিডিয়া আউটলেট।

দেশসেরা লেখক-কবি-গায়ক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, বুদ্ধিজীবীর সার্টিফিকেটদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে জাহির করে আসছে ওই মিডিয়া গোষ্ঠী। আপাত নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে এই কালচারাল এস্টাবলিশমেন্ট ‘ইসলাম-ফোবিক’ এবং আওয়ামী-বাকশালি রিজিমের সমর্থক হিসেবেই ক্রিয়াশীল ছিল বরাবর। তাদের সুশীল বয়ানে দিনকে রাত, রাতকে দিন এমনকি রাজনীতির পটপরিবর্তনও হয়েছে; এক-এগারোর সিভিল-মিলিটারি ক্যু’র অন্তরালেও ছিল তাদের ক্রীড়নকের ভূমিকা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই গোষ্ঠীর বলয়ের কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রধান কর্তার পদে নিয়োগ পেয়েছেন, এমনকি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার পদে আসীন হয়েছেন। তাদের প্রভাবাধীন এক লেখক অন্তর্বর্তী সরকারের অত্যন্ত ক্ষমতাধর উপদেষ্টা পদে আসীন হয়েছেন। ওই উপদেষ্টা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সরকারি নানান পদে মিডিয়া গোষ্ঠীটির বলয়ের লোককে নিয়োগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারে সুশীলদের প্রভাব
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং আপামর জনতার আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গঠিত হয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফ্যাসিবাদমুক্ত বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন। কিন্তু নতুন বাংলাদেশের পদযাত্রা কিছুটা খেই হারিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের জনবিরোধী ওই মিডিয়া গোষ্ঠীর সুশীলদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া বেশির ভাগ উপদেষ্টাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এই প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ ওই বিশেষ মিডিয়ার লেখক-বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের গুটিকয়েক ব্যক্তি ছাড়া বেশির ভাগ আওয়ামী সরকারের বিপক্ষে কখনোই সোচ্চার তো ছিলেন না, বরঞ্চ আওয়ামী লুটপাটতন্ত্রের উন্নয়নের বুলি ফেরি করেছেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা, মধ্যযুগীয় কায়দায় বিরোধীদের দমন-পীড়নের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত ছিল তাদের  জবান ও কলমে। অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এদের অনেকেই এক-এগারোর সিভিল-মিলিটারি সরকারে ক্রীড়নকের ভূমিকায় ছিলেন।

এক-এগারোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নয়-এগারো পরবর্তী রাজনীতির যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর  টুইন টাওয়ারে হামলার প্রতিশোধ নিতে উন্মুখ হয়ে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দুনিয়াব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ শুরু করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, যা চলে প্রায় আড়াই দশক ধরে। টুইন টাওয়ারে হামলার বছরেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আফগানিস্তানে হামলা করে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের সেই অনন্ত যুদ্ধের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও। প্রতিবেশী ভারতের মদদে ইসলাম বিদ্বেষী, দেশকে বিরাজনীতিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া সুশীলদের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ঘটে এক-এগারোর সিভিল-মিলিটারি ক্যু।

এক-এগারোতে অর্থাৎ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দুপুরে প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের। ঢাকাস্থ কানাডীয় হাইকমিশনারের বাসায় হয়েছিল সেই বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। বৈঠকে উপস্থিতির এই তালিকায় চোখ বোলালেই পরিষ্কার হয়ে যায় এক-এগারোর মূল কুশীলব ছিলেন কারা। আর তাদের পেছনে ছিলেন কথিত সেই সুশীলরা, যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হতে থাকে এক-এগারো সরকারের নানা কর্মযজ্ঞে। ওই বিশেষ মিডিয়া আউটলেটে প্রকাশিত সেই সময়ের রিপোর্টে। ইন্দো-মার্কিন শক্তির প্রেসক্রিপশনে মাইনাস ফর্মুলা, বিরাজনীতিকরণ, ইসলাম বিদ্বেষ ডালপালা মেলতে থাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নিরপেক্ষতার আড়ালে ছক কষা নির্বাচনে বিজয়ী হয় ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগ।

এরপর থেকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ নিরীহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে শুরু হয় ভারত ও আওয়ামী লীগের যৌথ প্রযোজনার ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশের মানুষের ওপর চলতে থাকে দমন-পীড়ন। জঙ্গিবাদ দমনের নামে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি নাটক, শাহবাগ আন্দোলন, বিনাভোটের নির্বাচন, রাতের ভোটের নির্বাচন, ডামি নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করেন। আর এইসব অপতৎপরতায় আওয়ামী লীগের সারথি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন সুশীল নামধারীরা। তাদের লেখালেখি, কর্মতৎপরতা সহচর হয়েছিল আওয়ামী অপকর্মের।

বাকশালি বয়ানের বিপক্ষে যেসব সুশীলদের কলম কোনোদিন কথা বলেনি, দেড় দশক ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে যাদের ন্যূনতম যুক্ততা ছিল না, সেই সুশীলদের প্রভাবে অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার পধ হারাচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্য জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারছেন না, তাদের ব্যর্থতার কারণে ড. ইউনূসের সরকারের যাত্রাপথ কঠিন হয়ে পড়ছে। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে যে দৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্যে ফাটল ধরছে।

বাংলা একাডেমি পুরস্কার বিতর্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সুশীল প্রতিনিধিদের তৈরি করা বিভিন্ন ইস্যু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐক্যে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছে। তার একটি উদাহরণ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। গত ২৩ জানুয়ারি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ ঘোষণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশব্যাপী মানুষের ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২৫ জানুয়ারি তালিকাটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা ছিলেন—কবিতায় মাসুদ খান, কথাসাহিত্যে সেলিম মোরশেদ, নাটক ও নাট্যসাহিত্যে শুভাশিস সিনহা, প্রবন্ধ–গদ্যে সলিমুল্লাহ খান, শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজ, অনুবাদে জি এইচ হাবীব, গবেষণায় মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া, বিজ্ঞানে রেজাউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হাননান এবং ফোকলোরে সৈয়দ জামিল আহমেদ। এরপর ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ হাননান, ফারুক নওয়াজ ও সেলিম মোরশেদের নাম বাদ দেওয়ার কথা জানায় বাংলা একাডেমি।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রণয়ন কমিটির কাজ করে বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদ। ঘোষিত পুরস্কার নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠলে বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন পরিষদের সদস্য কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফ। পুরস্কার ঘোষণার পর পরই শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন। সরকারকে বিব্রত করতে বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বলয়ের কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বাংলা একাডেমিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্যই পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের পুরস্কারের জন্য বাছাই করেছে বিশেষ একটি গোষ্ঠী। ওই গোষ্ঠীর কর্ণধারের সহোদর ভাইকে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলেও কেউ কেউ নিন্দা করেন।

অন্তর্বর্তী সরকার যে নানাভাবে বিশেষ গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়েছে, বিশেষত তথাকথিত সুশীলরা যে সরকারে প্রভাব বিস্তার করছেন তার বহু নমুনা বিগত কয়েক মাসে দেখা গেছে।

জিয়াফত কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া 
বাংলাদেশে জঙ্গি নাটক সাজানো, সরকারকে জঙ্গি নাটক সাজাতে সাহায্য করা এবং ভারতের পক্ষ হয়ে বাংলাদেশ-বিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে গত ২৪ নভেম্বর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা একটি পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে জিয়াফত কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে কর্মসূচিটি পণ্ড করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একজন বিক্ষোভকারীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সেনা সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বিগত কয়েক মাসে নানাবিধ আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। অনেক ঠুনকো দাবির আন্দোলন, এমনকি প্রেসক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়লেও আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের নমনীয় আচরণ দেখা গেছে। অথচ প্রো-ইন্ডিয়ান ন্যারেটিভের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি জিয়াফত কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সেদিন পুলিশের আচরণ ছিল অত্যন্ত নির্মম। এ ঘটনা থেকেও অনুমেয় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে বিশেষ বলয়ের লোকেরা জাঁকিয়ে বসেছে।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নিয়োগ
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থায় বিশেষ বলয়ের লোকেদের নিয়োগ এবং সরকারে তাদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন বহু অ্যাক্টিভিস্ট ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। প্রভাবশালী অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য, জনপ্রিয় ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়েছে অভিযোগ তুলে নিন্দা করছেন। তবে তাদের অভিযোগ সরকার আমলে নিচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর কাছে সমালোচিত হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে নিয়োগ দিয়ে। কিন্তু জনগণের শত সমালোচনা, নিন্দার ঝড় সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে পারেনি।

রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জনআকাঙ্ক্ষার পক্ষের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার লুটপাটতন্ত্রে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁকে পূর্ণ সমর্থন ও শক্তি জোগাচ্ছে দেড় দশক স্বৈরাচারের কবলে নিষ্পেষিত রাজনৈতিক দলগুলো এবং নাগরিক অধিকার বঞ্চিত মানুষেরা। কিন্তু বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থের কাছে, তথাকথিত আলোর পথের সুশীলদের ভুল ইশারায় যেন অন্তর্বর্তী সরকার পথ না হারায়, সেই প্রত্যাশা নতুন বাংলাদেশের সবার।

 

Source : Banglanews24

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন