খুঁজুন
, ,

হিংসাসহ মনের ১০টি রোগ থেকে দূরে থাকা কর্তব্য

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
হিংসাসহ মনের ১০টি রোগ থেকে দূরে থাকা কর্তব্য

সাধারণত মন বা দিল বলতে বোঝায়, বুদ্ধি এবং বিবেকবোধের সমষ্টিগত রূপকে। যা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছা এবং কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

 

মন কি এবং কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে অনেক রকম তত্ত্ব প্রচলিত আছে।
তবে মানুষের মনের প্রবৃত্তির কোনো কিছুই শরীর থেকে আলাদা নয়।

বরং মানুষের মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভূত শারীরবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মন গড়ে ওঠে। এখান থেকেই মন ভালো থাকা, মন্দ লাগার সূত্রপাত।

সে হিসেবে বলা যায়, মন একটি মূর্ত আধ্যাত্মিক ঐক্যের সম্বন্ধ। যা চিন্তা, অনুভূতি ও ইচ্ছা প্রভৃতি মানসিক প্রক্রিয়া বৈ অন্য কিছু নয়।ইসলামি শরিয়তে মনের শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতার বেশ গুরুত্ব রয়েছে। আধ্যাত্মিকতার চর্চা যারা করেন কিংবা সুফিবাদের অনুসারী তারা মনের নানা সংজ্ঞা দেন। তবে, অভিজ্ঞ আলেমরা সর্বতোভাবে মনের ১০টি রোগ চিহ্নিত করে তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুসলিম উম্মাহকে।

তাদের মতে, মনের রোগ তো অনেকগুলোই আছে। কিন্তু মৌলিক রোগ ১০টি। সেগুলো হলো- লোভ, দীর্ঘ আশা, রাগ, মিথ্যা বলা, গিবত, কার্পণ্য, হিংসা, অহংকার ও কিনা

এক. লোভ- দুনিয়ার লোভ।

দুই. দীর্ঘ আশা। আরবিতে বলা হয় আমাল। একটি বাড়ির মালিক হয়েছে, চলবে না, আরেকটি বাড়ির মালিক হতে হবে। এভাবে আশাকে দীর্ঘ করা। এটা মনের রোগ বিশেষ।

তিন. রাগ। সীমাহীন গোস্বা। এতো রাগী যে, রাগলে হিতাহিত জ্ঞান শূ্ন্য হয়ে যায়। সে মানুষ না জানোয়ার, বোঝা যায় না। এক সাহাবি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাগ করবে না। সে আবারও বলল, আল্লাহর রাসূল! আমাকে আরেকটি নসিহত করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, রাগ পরিত্যাগ করো। সাহাবি তৃতীয়বার অনুরোধ করার পরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই জবাব দিলেন। তো যতবারই সাহাবি নসিহতের কথা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা বলেছেন- রাগ ছাড়, রাগ ছাড়।

চার. মিথ্যা বলা। মিথ্যা তো এখন অভ্যাস হয়ে গেছে আমাদের। আমরা কথায় কথায় মিথ্যা বলি। মিথ্যার আশ্রয় নিই। মিথ্যাকে বলা হয় গোনাহের জননী। ইচ্ছাকৃত মিথ্যা ও হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে মিথ্যা একই।

পাচঁ. গিবত। এটা তো এখন খুব স্বাভাবিক বিষয়। পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা গিবত প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তোমরা কী মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ গিবত হলো মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো। গিবতকে স্বাভাবিক আলাপচারিতা মনে না করা। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন আমার সামনে গিবত করতে না পারে- প্রত্যেক মুসলমানের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। কেউ কারো সামনে গিবত করলে তাকে বলা, আমি নিয়ত করেছি, গিবত করব না। দোয়া করবেন, আমি যেন গিবত না করি, কারও গিবত না শুনি।

ছয়. কার্পণ্য, কৃপণতা। হাদিস বলা হয়েছে, কৃপণ জান্নাতে যেতে পারবে না। বড় বড় দান-খয়রাত করার দরকার নেই। ছোট ছোট দান-খয়রাত করা যেতে পারে। তবে যেন রিয়া (অহংকার) না আসে।

সাত. হিংসা। হিংসা বলে, কারও মাঝে কোনো গুণ দেখে এ কামনা করা যে, এটা নষ্ট হয়ে যাক। তবে, কারো কোনো গুণ দেখে এমন আশা করা, তার মধ্যে যে গুণ আছে থাকুক, তবে আল্লাহ আমাকেও তা দান করো। এটা হিংসা নয়, এটাকে বলা হয় ঈর্ষা। ঈর্ষা জায়েজ, হিংসা হারাম। হাদিস শরিফে আছে, হিংসুক জান্নাতে যাবে না।

আট. রিয়া। অর্থ লোক দেখানো। মানুষে দেখুক। মানুষের সামনে নামাজ পড়ার সময় যদি নিয়ত করি যে, মানুষে দেখুক তাহলে এটা হবে রিয়া। এর প্রতিকার হলো, যে কাজে রিয়া আসে তা মানুষের সামনে বেশি বেশি করা তাহলে দেখা যাবে, কাজটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আর অভ্যাস হয়ে গেলে তখন আর রিয়া থাকবে না। কাজটা থাকবে, কিন্তু রিয়া থাকবে না।

নয়. অহংকার। নিজেকে বড় মনে করা। এর প্রতিকার হলো, নিজেকে সব সময় ছোট মনে করা। অহংকার একমাত্র আল্লাহতায়ালার জন্য নির্ধারিত। কোনো বান্দার জন্য এটা শোভন নয়।

দশ. কিনা। কিনা হিংসার কাছাকাছি একটি বিষয়। কিনা হলো, মনে মনে জ্বলতে থাকা। কারো উন্নতি-সমৃদ্ধি দেখে এমনটা ভাবা যে, এ গুণটা তাকে কেন দেওয়া হলো? সে কেন এ জিনিসের মালিক হলো?

বর্ণিত রোগগুলোকে আলেমরা রুহানি বা আধ্যাত্মিক রোগ বলে অভিহিত করেছেন। আলেমদের অভিমত হলো, এই ১০টা রোগের চিকিৎসা করলে আল্লাহতায়ালা অন্যান্য সব রোগ থেকে মুক্তি দেবেন- ইনশাআল্লাহ।

সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আশরাফ, সদস্য সচিব এনায়েত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, মো. কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনামায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এই কমিটির অনুমোদন দেন।

​কমিটিতে অন্য যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন— মিরান হোসাইন, মাহফুজুর রহমান খান, মো. সাইফুল ইসলাম রিজু, ফরিদ হোসাইন, সাফিকুল ইসলাম, কালাম, সাজিদ মাতুব্বর, খোকন মাতুব্বর, আনিসুর রহমান তাজুল, রাসেল শেখ, মতিয়ার রহমান, জনি পারভেজ ও হাবিবুর রহমান হাবিব।

​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন— মিজান খান, সাইফুল ইসলাম, নাজিমুদ্দিন খান লিমন, মাসুদ পারভেজ, মামুন হোসেন, ইমরান হোসেন, তারিকুর রহমান সম্রাট, জুয়েল লস্কর, রনি ফকির, মনোয়ার হোসেন, ছায়দার আলী, রিপন মাতুব্বর, কাওসার মাতুব্বর, শিমুল মিয়া, মো. আবের আলী, ইয়াসিন মোল্লা, নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, রাজিব মোল্লা ও শাজাহান শরীফ।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

​এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার। এ সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ওসি সোহেল সরোয়ার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

​এ সময় ওসি মো. সোহেল সরোয়ার বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

​পরিদর্শনকালে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ওসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হবে।

ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা দুই রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে।

​জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা অপর এক রোগীকেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে বা ঝাড়ফুঁকের ওপর সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বুঝে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জীবনরক্ষাকারী।”

​তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

​চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।