খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্যে ১৫ দিন ধরে জ্বলছে আগুন, অতিষ্ঠ তিন গ্রামের মানুষ

মনিরুল ইসলাম টিটো, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্যে ১৫ দিন ধরে জ্বলছে আগুন, অতিষ্ঠ তিন গ্রামের মানুষ
ফরিদপুর পৌরসভার আদমপুর এলাকায় পৌরসভা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় প্রায় চার একর জায়গার উপর রাখা বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের ভাগাড়ে গত ১৫-১৬ দিন ধরে আগুন জ্বলছে। এতে তেজস্ক্রিয়া ও কালো ধোয়ায় বিরুপ প্রভাব পড়ছে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।
স্থানীয়দের দাবী, এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্লান্টের উত্তর অংশের তিন গ্রামসহ নদী বন্দর এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে এটিকে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় উল্লেখ করে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে দূষণ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের অদূরে আদমপুর এলাকায় পৌরসভা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকার সাথে অন্তত চার একর জায়গার উপরে রাখা হয়েছে বাসাবাড়ী ও বাণিজ্যিক এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য। বিপুল পরিমাণ এই  বর্জ্যে প্রায় ১৫ দিন ধরে অগুন দেয়া হয়েছে। রাত নামতেই বাড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ও আকাশে ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোয়া।
স্থানীয়দের দাবী, একটানা দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে আগুন জ্বালিয়ে রাখায় বিরুপ প্রভাব পড়ছে প্লান্ট থেকে দেড় কিলোমিটারেরও অধিক দূরের এলাকা পর্যন্ত। ওইসব এলাকার মানুষ আগুনের কালো ধোয়ার সাথে পোড়া পলিথিন, প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দ্রব্যের তেজস্ক্রিয়ায় চোখ জ্বালাপোড়াসহ শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও দাবী তাদের।
স্থানীয়রা আরো জানান, প্লান্টের উত্তর অংশের আইজউদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, পরান বিশ্বাসের ডাঙ্গী ও মোস্তফার ডাঙ্গী গ্রামের কয়েক শত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি বিরুপ প্রভাবে নদী বন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদেরও বিপাকে পড়তে হচ্ছে জানিয়ে অবিলম্বের পরিবেশের বিপর্যয় থেকে তাদের রক্ষার্থে আগুণ নেভানোর দাবী আক্রান্তদের।
আর জেলার পরিবেশ অধিদপ্তর এটিকে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় হিসেবে দেখছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাঈদ আনোয়ার জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, ফরিদপুর পৌরসভার দ্বায়িত্বে থাকা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক  চৌধুরী রওশন ইসলাম সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জেনে তাৎক্ষণিক আগুন নেভানোর নির্দেশ দেন। যদিও পৌরসভার পানিবাহী সাধারণ গাড়ী দিয়ে বুধবার বিকালে এই আগুন নিয়ন্ত্রক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারা জানান, পৌরসভার সাধারণ পানিবাহী গাড়ী দিয়ে এতো বড় আগুন নেভানো সম্ভব নয়। এই আগুন সম্পুর্ণরুপে নেভাতে হলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী দরকার।
যদিও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ওই আগুন নেভাতে যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কেউ স্বেচ্ছায় আগুন লাগালে সেটা নেভাতে যান না তারা। এদিকে এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।