খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শৃঙ্খলাভঙ্গে জিরো টলারেন্স বিএনপির, শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
শৃঙ্খলাভঙ্গে জিরো টলারেন্স বিএনপির, শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত

নেতা-কর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলায় রাখতে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থানে বিএনপি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগই বরদাশত করছে না হাইকমান্ড।

সাংগঠনিক প্রতিযোগিতার জেরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে যেন কোনো ধরনের মারামারি না হয় সেদিকে যেমন নজর রাখছে শীর্ষ নেতৃত্ব, তেমনি আর্থিক কোনো ঝামেলা বা কেলেঙ্কারিতে যেন কেউ না জড়ায় সে বিষয়েও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কড়া বার্তা।

 

রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিতে কেউ যেন কোনো উসকানি না ছড়ান বা বেফাঁস কিছু না বলেন, সেজন্য করা হচ্ছে হুঁশিয়ারি। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে দেওয়া হচ্ছে শোকজ (কারণ দর্শানোর) নোটিশ। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের দল থেকে করা হচ্ছে বহিষ্কারও। ফলে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক যে পালাবাদল ঘটেছে, তাতে দেশজুড়ে বড় রকমের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিলেও বিএনপির হাইকমান্ড কঠোর অবস্থান নিয়ে সে জায়গায় যেন লাগাম টেনে ধরেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতির মূল প্রেক্ষাপটে চলে আসে কয়েকবার সরকার গঠন করা অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি। এর আগে ১৬টি বছর দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত দমন-পীড়ন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের শীর্ষ নেতারাও আওয়ামী লীগের চক্ষুশূল হয়েছিলেন টানা আন্দোলনের কারণে। কিন্তু পট পরিবর্তনের পর কতিপয় নেতা-কর্মীর কারণে দলটি নেতিবাচকভাবে আলোচনায় আসে। জনরোষ থেকে বাঁচতে শেখ হাসিনার ভারতে পালানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের অপরাধ সাম্রাজ্যের অনেক মাফিয়া বা গডফাদার ও তাদের দোসররা পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়ে কতিপয় লোক। এদের অনেকে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হতে থাকে।

অভিযোগ পৌঁছে যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তারপরও জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিবৃত করা যাচ্ছিল না বিধায় শোকজ ও বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে থাকে হাইকমান্ড থেকে। এতেই থেমে থাকছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল সভায় ‘কঠোর সতর্ক বার্তা’ দিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান জানিয়েছেন, শৃঙ্খলার স্বার্থে স্বার্থপর হবে বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হয় কেন্দ্র। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়েও অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ দলের শত শত নেতাকর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কার ও অব্যাহতি দেওয়া হয় এক হাজার ৩১ নেতাকে। শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ২০৩ নেতাকর্মীকে। যারা শাস্তির মুখে পড়েছেন, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। যারা শোকজ পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ বেফাঁস মন্তব্য বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পড়েছেন শাস্তির খড়গে।

যেসব অভিযোগের খবর পাওয়া যায়

হাসিনার ষোল বছরের শাসনকালে জমি, ফ্ল্যাট, মার্কেট দখল থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যসহ সব অপরাধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন তার আশ্রিত গডফাদার ও মাফিয়া এবং দলের নেতা-কর্মীরা। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে এরাও দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।

তারপর অপরাধের এসব সিন্ডিকেট দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে একটি চক্র। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভাগ, জেলা, উপজেলা ইউনিয়নের বাজার, বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনা, সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদা নিচ্ছেন—এমন খবর পাওয়া যায়।

যেমন ৫ আগস্টের আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি করতেন আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেন। ৮ আগস্ট থেকে বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব কারওয়ান বাজারসহ তেজগাঁও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচার হয়।

জানা যায়, পদধারী ও মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ তাদের কর্মী বাহিনী দিয়ে মাটি ভরাট করে নদীর জমি দখল করেছেন। একই পর্যায়ের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে অর্থ আদায় করছেন এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে কেন্দ্রে গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যদিও শোনা গেছে, ‘সিন্ডিকেটের’ আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় অনেক নেতা শাস্তি থেকে বেঁচে যাচ্ছেন। শীর্ষ নেতারা বলেছেন, দলের হাইকমান্ড চায় না নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ তুলে বিএনপিবিরোধী কেউ কোনো ফায়দা নিক।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযুক্ত উঠলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য মনোনয়ন কোন্দলেও নেতারা একে অপরকে নানা কারণে অপবাদ দিচ্ছেন। তাই ঢালাও ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তদন্ত হচ্ছে, সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে গুমের শিকার হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তার হদিস মেলে ভারতে। ৯ বছর ধরে মেঘালয়ের শিলং অবস্থান করছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ উৎখাত হওয়ার পর দেশে ফেরেন। তার বিরুদ্ধে আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করে বিএনপি। একই ঘটনায় চট্টগ্রামে বিএনপির দক্ষিণ জেলা শাখার আহবায়কসহ স্থানীয় তিন নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। সেই কমিটিও বাতিল করে দেয় বিএনপি।

২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট নাটোরে দলীয় আদর্শের পরিপন্থী বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে। তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। এ অভিযোগের জন্য শাস্তিও পান দুলু। তিনি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে। পরে তাকে সরিয়ে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।

এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শোকজ করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের মতো নেতাদেরও। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগের খবর প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফকির গ্রুপের কাছে সুবিধা দাবির অভিযোগ মেলে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বায়রা ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় আবু আশফাক, শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের কমিটি দখল; ঢাকা ও ফেনীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় রফিকুল আলম এবং আবদুল মোনায়েমের বিরুদ্ধে পরিবহন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

হাসিনার পতনের পরপরই মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় দখল নিতে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের অন্তত ছয় কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সেসময় ঘটনাটিতে বিতর্কিত গ্রুপ এস আলমের পক্ষে ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম ওরফে নয়নের বিরুদ্ধে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কবির ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত। এ ঘটনার পেছনের কারণ ছিল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের অনুসারীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ। পরে শামা ও বাবুলের দলীয় পদ স্থগিত করে দল।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করায় দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দল থেকে তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।

বরিশাল নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বিরোধ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে পুকুর দখল ও ট্রাক দিয়ে বালু এনে সেটি ভরাটের অভিযোগ ওঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহানের (শিরিন) বিরুদ্ধে। পরে তার পদ স্থগিত করা হয়। যদিও বিলকিস দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ ছাড়া বাগেরহাটে দলের কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবুল, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু মোল্লা, সদস্য ফেরদৌস মেম্বার, গাউস মোল্লা ও রবিউল ইসলাম লাকু, ফুলতলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশার ও সদস্য সচিব মনির হাসান টিটো, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা সভাপতি রুহুল আমিন দুলাল, আগৈলঝাড়ার ছাত্রদলের আহ্বায়ক মফিদুল মোল্লা, মেহেন্দীগঞ্জ ছাত্রদলের সদস্য সচিব জুবায়ের মাহমুদ, জেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ হাসান, সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান, মৌলভীবাজার যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিম, বগুড়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা এনামুল হক সুমন, জেলা বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বাকি, নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ, বদলগাছীর উপজেলা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপির ১০ সাংগঠনিক জেলায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হাইকমান্ড।

বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, চাঁদাবাজি, দখল, হুমকি, দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটি। অবশ্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি প্রমাণিত না হলে ওই নেতা বা কর্মীর শাস্তি বাতিল হবে। এক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ নেই, কিন্তু প্রাথমিকভাবে তাকে বহিষ্কার বা পদ স্থগিত করা হয়েছিল সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির অবস্থান সাধুবাদযোগ্য। কারণ এহেন সব অভিযোগের পরও হাইকমান্ড যদি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এসব বিষয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। কারণ এরই মধ্যে যেসব কর্মকাণ্ড ঘটেছে, তাতে ১৬ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীরাই উল্টো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যালট বাক্সে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির এখনই সময় নিজেদের ক্লিন ইমেজকে জনগণের সামনে তুলে ধরা। তবে এ সময়েই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু অভিযোগ আসছে যা দুঃখজনক। বিএনপির উচিৎ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। জনগণ এখন অনেক স্মার্ট। এ বিষয়টিকে ভালোভাবে বোঝা ও জনগণের পালস বোঝা দরকার। নয়ত, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো বিএনপিকে বড় বিপদে ফেলে দেবে।

শৃঙ্খলাভঙ্গে ‘জিরো টলারেন্স’

যাদের বিষয়ে অভিযোগ, মিলছে তাদের ক্ষেত্রে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে। শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই নিশ্চিত হওয়া গেছে। নেতারা বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত-স্বার্থ নিয়ে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কার করা হবে। কোনো অপরাধের জন্য ছাড় দেওয়া হবে না।

নেতারা এও বলছেন, অভ্যুত্থানের আগে বিএনপিকে নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন আদর্শ ধরে রেখে গত ১৬ বছর পার করেছে দল। সেদিক থেকে দলের ভেতরে-বাইরে কারও কোনো অপরাধের বিষয়ে আপস হবে না।

বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কথা বলে বাংলানিউজ। রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। তবে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত। যেসব ঘটনায় সত্যতা পাওয়া গেছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। কোনো ঘটনায় কারও নাম এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিএনপি হাইকমান্ড কোনো অন্যায়ে জড়িত কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না।

 

Source : Banglanews24

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।