খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ভোর পর্যন্ত ইসরায়েলে হামলা চলবে, জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
ভোর পর্যন্ত ইসরায়েলে হামলা চলবে, জানাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওপর তাদের নবম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে এবং এই আক্রমণ চলবে ভোর পর্যন্ত। এখন ইসরায়েলে মধ্যরাত।

 

সোমবার (১৬ জুন) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তা ভূপাতিত করার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, এই হামলা ‘ইসরায়েলের আগ্রাসনের যথাযথ জবাব’।

ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে ইসরায়েলের হাইফার বেসামরিক তেল শোধনাগারে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যেখানে তিনজনের প্রাণহানিও হয়েছে। তেল আবিবের আকাশেও আলোর ঝলকানি দেখা গেছে। সেখানে বাজছে সাইরেন।

শুক্রবার থেকে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের আঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত ২২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন নারী ও শিশু। অপরদিকে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।

সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০৬ পিএম
সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ফরিদপুরের সালথা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাব-এর হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই যুক্তিযুক্ত মনে করছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও কারো প্ররোচনা ছাড়াই নিয়েছেন।

এদিকে, পদত্যাগের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত রাখবেন।

প্রসঙ্গত, ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ মনির হোসেন-এর সভাপতিত্বে ও ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়ার পদত্যাগে সালথা উপজেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।