খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতার সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ৩:০১ পিএম
ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতার সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় এক কৃষকদল নেতার বাড়ির প্রবেশপথ আটকিয়ে বেড়া দেয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তার পরিবারের নারী সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পিঞ্জিরা বেগমকে (৪০) উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

 

সোমবার (২৩ জুন) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ফরিদপুর জেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ও বাড়ির প্রবেশপথে বেড়া দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহদপ্তর সম্পাদক ও ওই এলাকার ইয়াকুব আলির ছেলে অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন। তার পৈত্রিক বাড়ি ও নানা বাড়ি পাশাপাশি অবস্থানে। বর্তমানে নানা বাড়িতে পরিবারের লোকজন বসবাস করেন।

 
সংবাদ সম্মেলনে ব্যানারে উল্লেখ করা হয়-আওয়ামী লীগের দোসর, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী পুলিশ এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জোরপূর্বক ইয়াতিমদের ভূমি দখল করে বিএনপি নেতার প্রতি মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করে সমাজে নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-তার মা লাইলী বেগম, মামা ফারুক ফকির, নানি সুফিয়া বেগম, খালা পিঞ্জিরা বেগমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ।
 
অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন জানান, যখন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন প্রতিপক্ষ আলতাফ হোসেন (৭০) সহ কয়েকজন এসে বাঁধা দেন। এ সময় একজন ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তখন বাঁধা দিতে গেলে তার পরিবারের সকলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের মারধরে খালা পিঞ্জিরা বেগম আহত হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া তাকে মাটিতে ফেলে মারধরও করা হয়।
 
এ ঘটনার পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার বয়স যখন ৭ বছর এবং বোনের বয়স ৭ মাস তখন আমার বাবা মারা যায়। আমরা দুইভাই বোন এতিম হয়ে পড়লে পাশেই নানা বাড়িতে থাকি। ওই সময়ে আমার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেয় তার বড়ো ভাই আলতাফ হোসেন। আমরা বড়ো হওয়ার পরে জমি উদ্ধারে কাজ করতে গেলে আলতাফ হোসাইন ও তার ছেলে পুলিশের এএসআই ইউসুফ হোসেন নূর অত্যাচার ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।
 
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমার নানা বাড়ির প্রবেশপথে জোরপূর্বকভাবে বেড়া নির্মাণের জন্য খুঁটি গেড়েছে। আমি এর সঠিক বিচারের দাবি জানাই।
 

জানতে চাইলে এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের পিতা আলতাফ হোসেন সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওর বাবার পারিবারিক ঝামেলার সময় বাড়ির জমি আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে আমার সম্পত্তিতে বেড়া দিয়েছি। কয়েকবার মাপঝোঁপ করেও দেখা হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যাবৎ আমরা বিএনপির নির্যাতিত পরিবার। বিভিন্ন সময় জেলজুলুমের শিকার হয়েছি। এই সুলাইমান আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে মিশে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়েছে।
 
আজ আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের দোসর বলতেছে। আমার ছেলের নামে যাত্রাবাড়ী থানায় মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এই সুলায়মানের মাধ্যমে। তখন আমার ছেলে মাদারীপুরে র‌্যাবে কর্মরত ছিল। আমার ছেলের নামে কেন মিথ্যা মামলা দেয়া হলো, আমিও এর সঠিক বিচার চাই।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।