খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন আমেরিকান দম্পতি

ভাস্কর ভাদুড়ী ও তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন আমেরিকান দম্পতি

উন্নত জীবনের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছে এমন হাজারো উদাহরণ আমাদের চারপাশে। তবে, জয়া বার্লিন ও জ্যাকব বার্লিনের গল্পটি একটু ভিন্ন। এই ভিনদেশি দম্পতি বিদেশের সব সম্পত্তি বিক্রি করে, গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজের নির্যাতিত এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী হতে শেখাচ্ছেন। ফরিদপুরে গড়ে তুলেছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পাঁচ সন্তান নিয়ে হতে চান বাংলাদেশেরই নাগরিক।

উদ্ভাবনী কাজে নারীদের স্বাবলম্বী করার আয়োজনে সরাসরি জড়িত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জয়া বার্লিন। তিনি বাংলাদেশি ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালবেসে আধো বাংলাতেই তাদের কাজ-কর্মের দিক-নির্দেশনা দেন।

ফরিদপুরে ট্রেনিং সেন্টারে যারা কাজ শিখছেন, তাদের কেউ পাচার হওয়ার সময় রক্ষা পেয়েছেন, কেউবা নতুন জীবন পেয়েছেন পালিয়ে এসে। এমনকি এখানে রয়েছেন নির্যাতিতা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাও। তাদের নিয়েই জয়া ও জ্যাকবের সংসার। সেখানেই ডিজাইনের ব্যাগ, কুশন কিংবা কাঁথা তৈরীর পর সেগুলো রফতানি করা হয়।

মানুষদের যেভাবে স্বাবলম্বী বানানো যায় তার উদহারণ দিয়ে জয়া বার্লিন বলেন, কাউকে যদি মাছ কিনে খেতে দাও, তাহলে সে একদিনের জন্য সুবিধা পাবে। কিন্তু তাকে যদি মাছ চাষ ও ধরার পদ্ধতি শিখিয়ে দাও, তাহলে সারাজীবন এটা শিখে সুবিধা পাবে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা নয়, তাদের কাজ শেখানোই লক্ষ্য। সাময়িক পাশে দাঁড়ালে, লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, সারাজীবন আমরা এখানে থাকতে চাই। আমরা একদম বাঙালী হয়ে যেতে পারিনি, কারণ আমাদের ভিসা আছে। এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব নেই। ওখানের সবকিছু (জমি, সম্পত্তি) বিক্রি করে এখানে বিনিয়োগ করেছি।

এরইমধ্যেই পাঁচ শতাধিক নারীকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদেরকে আর্ট থেরাপি কিংবা প্লে থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন এই দম্পতি, যারা মানসিক কাউন্সেলিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে, চাকরীর সুবাদেই বাংলাদেশে আসেন জার্মান নাগরিক জ্যাকব বার্লিন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে পাড়ি জমান জয়া। বিয়ের পর একসঙ্গে সামাজিক নানা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের জীবন দর্শনে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাংলাদেশে বেঁচে থাকা বেশ কঠিন। শুধুমাত্র মানসিকভাবে শক্তিশালী হলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।

জ্যাকব বার্লিন বলেন, আমরা ফরিদপুর থেকে শুরু করেছি। লক্ষ্য আছে বাংলাদেশের সব প্রান্তে এই ধরণের কাজ করে যাওয়ার।

এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে পাঁচ সন্তানসহ বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটাতে চান এই দম্পতি। সেই লক্ষ্যে সন্তানদের নামও রেখেছেন বাংলার ছোয়াতেই; ছেলের নাম আনন্দ, মেয়েদের নাম হাসি, খুশি, সুখি আর মিষ্টি।

সূত্র : যমুনা টিভি 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

​এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার। এ সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ওসি সোহেল সরোয়ার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

​এ সময় ওসি মো. সোহেল সরোয়ার বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

​পরিদর্শনকালে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ওসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হবে।

ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা দুই রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে।

​জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা অপর এক রোগীকেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে বা ঝাড়ফুঁকের ওপর সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বুঝে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জীবনরক্ষাকারী।”

​তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

​চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মহাত্মা লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিশু একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের আগে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছ আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ রাশিদুল আলম তুহিন, বাউল পাগলা বাবলু খান ও বাউল নিজাম সাঁই। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজিত কুমার দাস।

​আলোচনা সভায় বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনাদর্শ, মানবতাবাদী দর্শন ও সাহিত্যচিন্তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা ফরিদপুরে একটি লালন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা ও নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

​বক্তারা বলেন, লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক ও বাউল সম্রাট। তাঁর জীবনদর্শন মানুষকে মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেয়। লালনের সাহিত্য ও দর্শন নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এমন এক সমাজ গঠন করতে হবে, যেখানে মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।

​তারা আরও বলেন, লালনের জীবন ও দর্শন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় লালন স্মরণানুষ্ঠান ও উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।

​বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

​আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত বাউল শিল্পীরা লালন গীতি পরিবেশন করেন।