খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

রুনা লায়লার গান শুনতে না পেরে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন নাবিলা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
রুনা লায়লার গান শুনতে না পেরে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন নাবিলা
রাজধানীর শেরাটন ঢাকার বলরুমে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা গানের প্রাণ’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান। সেখানে মঞ্চে উঠে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা যখন গাইতে শুরু করেন ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, তখন পুরো মিলনায়তন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আবেশ। গানের তালে তালে শ্রোতারা হাততালি দিয়ে ভাসিয়ে দেন শিল্পীকে।

উপস্থিত দর্শকদের ভিড়ের মধ্যেই ছিলেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা।

রুনা লায়লার লাইভ পরিবেশনা শুনে তিনি যেমন মুগ্ধ হয়েছেন, তেমনি আবেগে ভেসে গেছেন শৈশবের স্মৃতিতে। গানের শক্তি ও কণ্ঠের বিস্তৃতি যে আজও অটুট—তা নতুন করে অনুভব করেছেন তিনি। 

অনুষ্ঠান শেষে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাবিলা লেখেন, ‘বাংলাদেশি হিসেবে আমরা গর্ব অনুভব করি, কারণ আমাদের একজন রুনা লায়লা আছেন। গতকাল (গত শুক্রবার) তাকে লাইভ গাইতে শুনে বুঝলাম, তার কণ্ঠে এখনো কী অসাধারণ শক্তি ও ব্যাপ্তি রয়েছে।

আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন দান করেন।’ 

May be an image of one or more people and people smiling

রুনা লায়লার গান শুনতে শুনতেই নাবিলা ফিরে যান শৈশবের দিনগুলোতে—যখন পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে বসবাস করতেন। সেই সময় বিনোদনের তেমন সুযোগ না থাকলেও, বাংলা গান ছিল তাঁদের পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

নাবিলা লেখেন, ‘সৌদিতে থাকার সময় বিটিভি থেকে রেকর্ড করা রুনা লায়লার গানের অনুষ্ঠানের ভিডিও ক্যাসেটই ছিল আমাদের পরিবারের নিয়মিত বিনোদন।

’ 

তখন মাত্র তিন-চার বছরের শিশু নাবিলা। ছোটবেলা থেকেই রুনা লায়লার গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে তার প্রিয় গানের তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘শিল্পী আমি শিল্পী’ ও ‘বন্ধু তিন দিন’। এর মধ্যে ‘বন্ধু তিন দিন’ গানটি ছিল সবচেয়ে প্রিয়।

No photo description available.

এই গান ঘিরে এক মজার ও আবেগঘন স্মৃতির কথাও তুলে ধরেছেন নাবিলা।

তিনি লেখেন, “একবার এক আত্মীয়ের বাসায় ভিসিআরে ‘বন্ধু তিন দিন’ গানটি কয় হাজার বার যে শুনছিলাম আর নাচছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে গান চলার কারণে ভিসিআর গরম হয়ে যায়। আন্টি বাধ্য হয়ে ভিসিআর বন্ধ করে দেন। তারপর ‘বন্ধু তিন দিন’ শুনতে পারছিলাম না—তারপর আমার সে কী কান্না, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলাম। সেই কান্নার কথা এখনো মনে আছে।” 

শৈশবের সেই স্মৃতির কথা তুলে ধরে নাবিলা আরো লেখেন, রুনা লায়লাকে যখনই তিনি দেখেন বা তাঁর গান শোনেন, চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোটবেলার সেই দিনগুলো—নিষ্পাপ আবেগ, গান আর ভালোবাসায় ভরা সময়।

কিংবদন্তি শিল্পীর কণ্ঠ যে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছুঁয়ে গেছে, নাবিলার এই স্মৃতিই যেন তার জীবন্ত প্রমাণ।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।