খুঁজুন
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

সরিষা ফুলের মাঝে জমে থাকা এক হারানো শৈশব

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৩ এএম
সরিষা ফুলের মাঝে জমে থাকা এক হারানো শৈশব

সরিষার হলুদ ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠ। রোদে ঝলমল করে ওঠা গ্রামীণ প্রান্তর। সেই মাঠের মাঝখানে চার-পাঁচটি শিশু—মুখে অদম্য হাসি, শরীরে কাদা-মাখা জামা, হাতে পুরোনো একটি চাকার রিম। কেউ সেটি ঠেলে দিচ্ছে, কেউ দৌড়ে পিছু নিচ্ছে। ছবিটি এক নজরে আনন্দের হলেও, গভীরে তাকালে ধরা পড়ে হারিয়ে যেতে বসা এক শৈশবের নীরব আর্তনাদ।

এই শিশুরা কোনো দামি খেলনার দাস নয়। তাদের খেলাধুলা জন্ম নেয় মাঠে, মাটিতে, প্রকৃতির কোলে। একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি শৈশবই এমন ছিল। বিকেলের আলো ফুরোতে না ফুরোতেই মাঠে নেমে পড়ত শিশুরা—ডাংগুলি, মার্বেল, চাক্কা ঘোরানো, লুকোচুরি। এখন সেই দৃশ্য ক্রমেই বিরল। মোবাইল ফোন, ট্যাব আর শহুরে ব্যস্ততা গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবির শিশুরা হয়তো জানেই না—তাদের এই দৌড়ানো, মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া, ফুলের গন্ধ মাখা মুহূর্তগুলো একদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। বড় হয়ে তারা হয়তো কাজের খোঁজে শহরে যাবে, ঢুকে পড়বে কংক্রিটের জঙ্গলে। তখন আর এমন সরিষার মাঠ থাকবে না, থাকবে না খোলা আকাশের নিচে অবাধ খেলাধুলা।

হারানো শৈশব বলতে শুধু খেলাধুলার অভাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য, শিশুশ্রমের ভয়। অনেক শিশুই আজ মাঠে দৌড়ানোর বয়সে কাজে নামতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ ইটভাটায়, কেউ হোটেলে, কেউ রিকশার পেছনে ঝুলে থাকা এক ছোট সহকারী। তাদের শৈশব হারিয়ে যায় প্রয়োজনের চাপে।

এই ছবিটি তাই শুধু সুন্দর দৃশ্য নয়; এটি একটি সতর্কবার্তা। আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশু মানেই দায়িত্ব। তাদের জন্য চাই নিরাপদ শৈশব, খেলাধুলার সুযোগ, শিক্ষার নিশ্চয়তা। প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা যদি প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠার এই সহজ আনন্দটুকু রক্ষা করতে না পারি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবেই না—সরিষার হলুদ মাঠে দৌড়ানোর সুখ কতটা গভীর হতে পারে।

ছবির শিশুরা আজ হাসছে। প্রশ্ন হলো—এই হাসি কি আগামী দিনের বাংলাদেশেও টিকে থাকবে?

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াত জোট!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫১ পিএম
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াত জোট!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত এমপিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর বিপরীতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানালেন জামায়াত জোটের কয়েকজন শীর্ষনেতা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ- ২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ বেশ কয়েকজন এই জোটের কয়েকজন নেতা বিকল্প ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানিয়েছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’সুনামগঞ্জ- ২ (দিরাই শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া জামায়াত ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।

রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারিদল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভিতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হোক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’

এর আগে, শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াত নেতা মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) তার ফেসবুক পোস্টেও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।এর আগে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির তথ্যানুযায়ী, বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। যার মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। আর শরিক দলগুলো ৩টি আসনে জয় পায়। আর ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ৭৭টি আসনে জয় পায়। যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮ আসনে জয়লাভ করেছে। আর শরিক দলগুলো ৯টি আসনে জয় পেয়েছে।

ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, বললেন সত্যটা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, বললেন সত্যটা

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থান স্পষ্ট করলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। সাফ জানিয়ে দিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে তার এখনো আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি; তাই নতুন করে নায়িকার বিয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না।

ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে ‘বিহাইন্ড দ্য ফেম উইথ আরআরকে’র পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুবলী। সেখানে সঞ্চালক রুম্মান রশীদ খান তার কাছে জানতে চান, তিনি কবে আবার বিয়ে করছেন। জবাবে বুবলী বলেন, শুরুতেই বলে নিচ্ছি, আমার তো ডিভোর্স হয়নি। তাই বিয়ের প্রশ্নই ওঠে না।

শাকিব খানের জন্য নতুন পাত্রী খোঁজার খবরের প্রসঙ্গ টেনে বুবলী বলেন, এটি যার যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে নিজের বৈবাহিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ম্যারিটাল স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে মানুষ হয় বিবাহিত, নয়তো ডিভোর্সড, সেপারেটেড কিংবা বিধবা হয়। এখানে ‘অতীত’ বলে কোনো অপশন থাকে না।

শাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এই নায়িকা জানান, তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা অভিমান হতে পারে, আবার তা ঠিকও হয়ে যায়।

বুবলী জোর দিয়ে ফের বলেন, আমাদের কখনো ডিভোর্স হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অনেকে হয়তো দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন, তাই পরিষ্কার করলাম।

এই বিশেষ পডকাস্টে বুবলী শুধু শাকিব খানের সঙ্গে তার সংসারের বর্তমান অবস্থাই নয়, নিজের প্রথম প্রেম এবং মিডিয়াপাড়ার বিভিন্ন গুঞ্জন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন।

 

ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

প্রকৃতির অনিবার্য নিয়ম মেনে শীতের জীর্ণতা ঝরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন—বাংলা সনের একাদশ মাসের প্রথম দিন। শীতের কুয়াশা ও নিস্তব্ধতা পেরিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে উঠেছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

তবে এবারের বসন্ত কিছুটা ভিন্ন আবহে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজনেও। অন্যান্য বছরের মতো বড় পরিসরে উদযাপন না হলেও সীমিত পরিসরে চলছে বসন্তবরণ।

বিশেষ করে রাজধানীবাসীর জন্য এবারের বসন্তে রয়েছে বড় এক শূন্যতা। নেই চিরচেনা অমর একুশে বইমেলা, যেখানে প্রতিবছর ফাল্গুনের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের পদচারণা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর বসন্তের রঙিন আবহে মেলা প্রাঙ্গণ জমে ওঠার দৃশ্য এবার আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে নগরজীবনে বসন্তের আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

তারপরও বসন্ত থেমে থাকে না। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবারও ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। তবে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের স্থান পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলার পরিবর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে সকাল সাড়ে ৭টায় বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হলুদ, বাসন্তী আর লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে সেখানে ছিল প্রাণের স্পন্দন, যদিও তা আগের বছরের মতো বিস্তৃত ছিল না।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পহেলা ফাল্গুন শুধু ঋতুর সূচনা নয়, এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চেতনার অংশ। ফাগুনের লাল শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া ফুল মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কথা। তাদের আত্মত্যাগের রক্তে রঞ্জিত পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই বসন্ত কেবল সৌন্দর্যের নয়, দ্রোহ ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তানি শাসনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রসংগীতসহ নানা সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই দিনটি পালন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করে, যা পরবর্তীতে জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়।

প্রকৃতির দিক থেকেও বসন্ত এক নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে। এ সময় গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চারদিক। কোকিলের ডাক, প্রজাপতির রঙিন ডানা আর মৃদু বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের ঘ্রাণ প্রকৃতিকে করে তোলে মোহনীয়। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন উপস্থিতি যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।

বসন্তকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতেও রয়েছে অসংখ্য সৃষ্টি। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন—“ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত।” বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম গেয়েছেন বসন্তের আবেগময় গান। আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য গানে বসন্তের রূপ ধরা দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্যে।

সব মিলিয়ে, বসন্ত আমাদের শেখায় পরিবর্তনের কথা—জীবনের প্রতিটি শুষ্কতা ও ক্লান্তির পরেই আসে নতুন প্রাণের উন্মেষ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রকৃতির এই নবজাগরণ থেমে থাকে না। তাই ভিন্ন বাস্তবতায়ও বসন্ত এসেছে তার চিরচেনা রূপে—রঙে, গন্ধে আর আশার নতুন বার্তা নিয়ে। 🌸