খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?

তানভীর আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ণ
কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটিই আলোচনা—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সেই আশাব্যাঞ্জক উক্তি, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের এই ঘোষণা দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনা আসলে কী, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তারেক রহমান হুট করে কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।

তার এই নতুন ‘প্ল্যান’ মূলত তার আগের ঘোষণাগুলোর একটি সমন্বিত রূপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ‘৩১ দফা’ ঘোষণা করেছিলেন, যা দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ‘ফ্যামেলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার মূল সুর হলো— ‘সবাই মিলে শান্তির দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’।
তারেক রহমানের পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রাষ্ট্র সংস্কারের সেই ৩১ দফা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ৩১ দফায় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যে নতুন পরিকল্পনার কথা বলছেন, তা সম্ভবত এই ৩১ দফাকে আরও আধুনিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য করার একটি সুসংহত রূপ।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে তারেক রহমানের ‘ফ্যামেলি কার্ড’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষ এমন একটি ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা থাকবে। তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা সাধারণ জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে তার দল। সেখানে তিনি দেশবাসীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন।

তার বক্তব্যে প্রখ্যাত আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি উক্তির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে— ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ—আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।”

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ কোনো কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এই পরিকল্পনা কেবল বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশকে কীভাবে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য অভিমুখী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ উক্তিটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল। এটি একই সাথে রহস্য এবং আশার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে। তবে তারা এটিও সতর্ক করেছেন যে, পরিকল্পনার ঘোষণা যতটা সহজ, তার বাস্তবায়ন ততটাই চ্যালেঞ্জিং।

তারেক রহমানের পরিকল্পনার বিষয়ে কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা দেখতে চায় তারেক রহমানের এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কী ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকরা বিএনপির এই পরিবর্তনশীল এবং সংস্কারমুখী অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একজন সাধারণ নাগরিক যখন শোনেন যে নেতার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে, তখন তিনি সেখানে নিজের উন্নত ভবিষ্যতের ছায়া দেখতে পান। সাধারণ মানুষ এখন সংঘাতের রাজনীতির চেয়ে উন্নয়নের এবং স্থিতিশীলতার রাজনীতি বেশি পছন্দ করে। তারেক রহমানের ‘সবাই মিলে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’ সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এর সফল প্রয়োগের ওপর। তবে বর্তমানে এটি যে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে এবং জনমনে আশার সঞ্চার করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩১ দফা, ফ্যামেলি কার্ড এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই সম্ভবত তৈরি হচ্ছে তারেক রহমানের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘প্ল্যান’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষ নতুন কিছু দেখতে চায়। তারা চায় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক বলেছেন, তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাটি মূলত দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এর আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার একটি বড় দিক হলো মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি বন্ধ করা। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এগুলো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তার ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, একবিংশ শতাব্দীর একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি জনগণের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং জাতির প্রতি গভীর অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।