খুঁজুন
, ,

কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?

তানভীর আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ণ
কী আছে তারেক রহমানের পরিকল্পনায়?
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটিই আলোচনা—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সেই আশাব্যাঞ্জক উক্তি, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের এই ঘোষণা দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনা আসলে কী, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তারেক রহমান হুট করে কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।

তার এই নতুন ‘প্ল্যান’ মূলত তার আগের ঘোষণাগুলোর একটি সমন্বিত রূপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ‘৩১ দফা’ ঘোষণা করেছিলেন, যা দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ‘ফ্যামেলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার মূল সুর হলো— ‘সবাই মিলে শান্তির দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’।
তারেক রহমানের পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রাষ্ট্র সংস্কারের সেই ৩১ দফা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ৩১ দফায় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যে নতুন পরিকল্পনার কথা বলছেন, তা সম্ভবত এই ৩১ দফাকে আরও আধুনিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য করার একটি সুসংহত রূপ।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে তারেক রহমানের ‘ফ্যামেলি কার্ড’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষ এমন একটি ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা থাকবে। তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা সাধারণ জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছে তার দল। সেখানে তিনি দেশবাসীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন।

তার বক্তব্যে প্রখ্যাত আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি উক্তির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে— ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ—আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।”

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ কোনো কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এই পরিকল্পনা কেবল বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশকে কীভাবে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। তারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য অভিমুখী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ উক্তিটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল। এটি একই সাথে রহস্য এবং আশার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে। তবে তারা এটিও সতর্ক করেছেন যে, পরিকল্পনার ঘোষণা যতটা সহজ, তার বাস্তবায়ন ততটাই চ্যালেঞ্জিং।

তারেক রহমানের পরিকল্পনার বিষয়ে কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা দেখতে চায় তারেক রহমানের এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে কী ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকরা বিএনপির এই পরিবর্তনশীল এবং সংস্কারমুখী অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একজন সাধারণ নাগরিক যখন শোনেন যে নেতার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে, তখন তিনি সেখানে নিজের উন্নত ভবিষ্যতের ছায়া দেখতে পান। সাধারণ মানুষ এখন সংঘাতের রাজনীতির চেয়ে উন্নয়নের এবং স্থিতিশীলতার রাজনীতি বেশি পছন্দ করে। তারেক রহমানের ‘সবাই মিলে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি’ সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তারেক রহমানের এই ‘প্ল্যান’ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এর সফল প্রয়োগের ওপর। তবে বর্তমানে এটি যে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে এবং জনমনে আশার সঞ্চার করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩১ দফা, ফ্যামেলি কার্ড এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই সম্ভবত তৈরি হচ্ছে তারেক রহমানের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘প্ল্যান’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষ নতুন কিছু দেখতে চায়। তারা চায় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যদি তারেক রহমান তার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারেন এবং সুশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেন, তবে তা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক বলেছেন, তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাটি মূলত দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এর আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার একটি বড় দিক হলো মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি বন্ধ করা। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এগুলো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তার ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, একবিংশ শতাব্দীর একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি জনগণের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং জাতির প্রতি গভীর অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছেন।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”