খুঁজুন
, ,

শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে যেভাবে রক্ষা পাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শীতকালীন অ্যালার্জি থেকে যেভাবে রক্ষা পাবেন

এই শীতে কি আগের চেয়ে বেশি অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে? শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণ আসলে সাধারণ মৌসুমি অ্যালার্জির মতোই। তবে শীতের ঠান্ডা ও রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে আমরা বেশি সময় ঘরের ভেতরে থাকি। এতে ঘরের ভেতরের অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জিনিসের (indoor allergens) সংস্পর্শে বেশি আসতে হয়।

শীতে অ্যালার্জি বাড়ানোর কিছু সাধারণ কারণ

– বাতাসে ভাসমান ধুলার কণা

– ডাস্ট মাইট (অতি ছোট পোকা)

– পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বকের খোসা

– ছত্রাক বা ফাঙ্গাস (mold)

– তেলাপোকার মল

অ্যালার্জির উপসর্গ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আগেই সতর্কতা নেওয়া। তবে লক্ষণ অনেক বেড়ে গেলেও উপশম পাওয়ার উপায় আছে।

চলুন আজ জেনে নিই ঘরের কোন কোন জিনিস অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, কী কী লক্ষণ দেখা দেয়, কীভাবে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করা যায়, এবং শীতকালীন অ্যালার্জি আর সর্দি-কাশির পার্থক্য কী।

ঘরের ভেতরের অ্যালার্জির কারণ

শীতকালে আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে থাকে এবং আমরা বেশি সময় ঘরের ভেতর থাকি। এতে কিছু নির্দিষ্ট অ্যালার্জির কারণ বেশি সক্রিয় হয়।

অ্যালার্জির লক্ষণ

শীতকালীন অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণগুলো হলো :

– হাঁচি

– নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া

– চোখ চুলকানো

– গলা ও কান চুলকানো

– নাক বন্ধ থাকায় শ্বাস নিতে কষ্ট

– শুকনো কাশি (কখনো কফসহ)

– ত্বকে র‍্যাশ

– শরীর খারাপ লাগা

– হালকা জ্বর

তীব্র অ্যালার্জি হলে (বিশেষ করে হাঁপানি থাকলে) দেখা দিতে পারে :

– বুক চেপে ধরা

– শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ

– দ্রুত শ্বাস নেওয়া

– খুব ক্লান্ত লাগা

– অস্থির বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগা

অ্যালার্জি আর সর্দির পার্থক্য

সর্দি হয় ভাইরাসের কারণে, যা অন্য মানুষের কাছ থেকে ছড়ায়। অ্যালার্জি হয় শরীরের প্রতিক্রিয়ার কারণে, যখন কোনো অ্যালার্জির উপাদানের সংস্পর্শে আসা হয়।

সর্দি সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। অ্যালার্জি যতদিন অ্যালার্জির কারণের সংস্পর্শে থাকবেন, ততদিন চলতে পারে।

সংক্ষেপে পার্থক্য

সর্দি : কয়েক দিন থেকে ২ সপ্তাহ থাকে

অ্যালার্জি : কয়েক দিন থেকে মাসের পর মাসও থাকতে পারে

সর্দিতে : শরীর ব্যথা ও জ্বর হয়

অ্যালার্জিতে : সাধারণত জ্বর ও শরীর ব্যথা হয় না

সর্দিতে : চোখ চুলকায় না

অ্যালার্জিতে : চোখ চুলকায় ও পানি পড়ে

চিকিৎসা

অ্যালার্জির বেশিরভাগ উপসর্গ ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধ : সিটিরিজিন (Zyrtec), ফেক্সোফেনাডিন (Allegra) মতো অ্যান্টিহিস্টামিন নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়। মাথাব্যথা থাকলে Tylenol জাতীয় ওষুধ কাজে আসে।

নেটি পট বা নাক ধোয়া : পরিষ্কার পানিতে নাক ধুলে ভেতরের অ্যালার্জির উপাদান বের হয়ে যায়।

নাসাল স্প্রে: Flonase বা Nasacort-এর মতো স্প্রে নাকের প্রদাহ কমায়।

অ্যালার্জি শট (ইমিউনোথেরাপি) : দীর্ঘদিনের তীব্র অ্যালার্জি হলে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে শরীর অ্যালার্জির সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

প্রতিরোধের উপায়

শীতে ঘরের অ্যালার্জি কমাতে :

– বালিশ ও ম্যাট্রেসে ডাস্ট-প্রুফ কভার ব্যবহার করুন

– গরম পানিতে নিয়মিত কাপড় ও বিছানার চাদর ধুতে থাকুন

– ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের আর্দ্রতা ৩০-৫০% রাখুন

– HEPA ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন

– সম্ভব হলে কার্পেট বাদ দিন

– ছত্রাক দেখা গেলে ব্লিচ ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন

– খাবারের উচ্ছিষ্ট খোলা রাখবেন না

– কোথাও পানি লিক হলে দ্রুত ঠিক করুন

– দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখুন

– পোষা প্রাণীকে শোবার ঘর বা রান্নাঘরে কম ঢুকতে দিন

শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণ মূলত মৌসুমি অ্যালার্জির মতোই— হাঁচি , চুলকানি, ত্বকের র‍্যাশ, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া। সঠিক ওষুধ, নাক পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে শীতেও স্বস্তিতে থাকা সম্ভব।

তবে কয়েক সপ্তাহ পরও যদি উপসর্গ না কমে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

সূত্র : Healthline

ফরিদপুরে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২ জন

ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুর জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৬৪৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং জেলায় এখন পর্যন্ত ৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, মধুখালীতে ৪ জন এবং সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হননি।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা আবশ্যক। এর জন্য নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে দপ্তরটি।

ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক আনিচুর রহমানসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে আসা একটি পরিবহন বাসের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে টেকেরহাটগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এতে দুই বাসের অন্তত ১৩ যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক আনিচুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​একই সময়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের উল্টো পথে ঢুকে পড়ে একটি অটোরিকশা। অটোরিকশাটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের চালক ও সহকারীসহ ৩ জন আহত হন।

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

​ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের পর জানানো হবে।

হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
হুইলচেয়ারেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন: ভিক্ষা নয়, চানাচুর বেচে বাঁচার লড়াই হাসানের

জীবনটা যেন এক পলকেই থমকে গিয়েছিল। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল শরীরের শক্তি, কেড়ে নিয়েছিল ডান পা-টি। তবে জীবনের কাছে হার মানেননি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসান বিশ্বাস (৪৫)। এক হাতের কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর এক পা কেটে বাদ দেওয়ার পরও ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেননি তিনি। হুইলচেয়ারে বসেই চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের আত্মসম্মান ও স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।

​১২ বছর আগের কথা। নসিমন চালিয়ে স্ত্রী, সন্তান আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল হাসানের সংসার। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেটে ফেলতে হয় একটি পা, অবশ হয়ে যায় শরীরের এক পাশ। স্বাভাবিক চলাফেরার পথ বন্ধ হয়ে চিরতরে ঠাঁই হয় হুইলচেয়ারে।

​প্রতিদিনের গোসল, খাওয়া থেকে শুরু করে বিছানায় ওঠা-নামার মতো দৈনন্দিন কাজেও এখন পরিবারটির ভরসা হতে হয় হাসানকে। যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব একা কাঁধে সামলেছেন, তাঁকেই আজ অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।

​তবে অন্তরের অদম্য তেজ ও আত্মমর্যাদাবোধ তাঁকে দমাতে পারেনি। ভিক্ষা না করে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেই শুরু করেন ছোট্ট এক ব্যবসা। বোয়ালমারী পৌরসভার সোতাশী রহমানির আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে প্রতিদিন হুইলচেয়ারে বসে চানাচুর ও বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। চাকার ওপর ভর করেই মেলে ধরেন বেঁচে থাকার নতুন লড়াই।

​আবেগপ্লুত কণ্ঠে হাসান বিশ্বাস বলেন, “দুর্ঘটনার পর জীবনটা পুরো বদলে গেছে। এখন নিজের অনেক কাজও একা করতে পারি না, স্ত্রী-সন্তানের সাহায্য লাগে। কিন্তু আমি কারও বোঝা হতে চাই না। অল্প আয়ে যতটুকু পারি, দোকানটা চালিয়ে খাই। ভিক্ষা না করে নিজের পরিশ্রমে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।”

​বাবার এই আত্মমর্যাদার লড়াই দেখে বড় হওয়া হাসানের সন্তান জানান, “বাবা অনেক কষ্ট করেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই বাবাকে এমন দেখে আসছি। অনেক কাজে আমাদের সাহায্য করতে হলেও বাবা কখনো হাত পাততে চাননি। এই ছোট্ট দোকানটাই বাবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বড় চেষ্টা।”

​দোকানের অল্প বেচাকেনায় সংসার চালানো কঠিন হলেও প্রতিদিন দোকান খোলার মধ্যেই নতুন করে বাঁচার সাহস পান বোয়ালমারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা।

​নিজের ব্যবসার পুঁজি বাড়িয়ে দোকানটি একটু ভালোভাবে পরিচালনা করতে চান হাসান। তাই কোনো বড় দাবি নয়, বরং কর্মপরিবেশ সৃষ্টি ও সামান্য পুঁজির সহায়তার জন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।

​হুইলচেয়ারের ওপর সাজিয়ে রাখা কয়েকটি চানাচুর আর বিস্কুটের প্যাকেট যেন আজ হাসানের জীবনের এক বড় সত্য প্রকাশ করে—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছে ও আত্মসম্মানকে থমকে দিতে পারে না।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. রকিবুল হাসান বলেন, ​“হাসান বিশ্বাসের এই আত্মমর্যাদাবোধ ও অদম্য ইচ্ছা সত্যিই অনুকরণীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পথ এড়িয়ে নিজের পরিশ্রমে বেঁচে থাকার এই লড়াই সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত তাঁর খোঁজখবর নেব।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে সরকারি কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হলে তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর এই ছোট ব্যবসাটিকে আরও গতিশীল করতে কীভাবে সরকারি সহায়তা বা প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”