খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুর-২ : শামা ওবায়েদের আয় ২১ লক্ষ টাকা, নগদ অর্থ আড়াই কোটি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-২ : শামা ওবায়েদের আয় ২১ লক্ষ টাকা, নগদ অর্থ আড়াই কোটি

ফরিদপুর–২ সংসদীয় আসন (সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দাখিল করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ইসলাম।

দাখিলকৃত হলফনামায় তার আয়–ব্যয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক ঋণ, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক ও ঠিকানাগত পরিচয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই তথ্যগুলো ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবার তিনি নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রার্থীদের হলফনামা ঘিরে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পেশা ও বার্ষিক আয়:

হলফনামায় শামা ওবায়েদ ইসলাম তার পেশা হিসেবে ব্যবসা ও চাকরি উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্যানুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ২১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বার্ষিক আয়কর দিয়েছেন ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২১ টাকা।

অন্যদিকে, হলফনামায় স্বামীর পেশা হিসেবেও দেখানো হয়েছে ব্যবসা ও চাকরি। তাঁর বার্ষিক আয় ৮৯ লক্ষ ২২ হাজার ৪’শ ১৮ টাকা উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীদের আয়ের উৎস ও পরিমাণ নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই এই তথ্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের চিত্র:

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, শামা ওবায়েদ ইসলামের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থাবর সম্পদের এই তথ্য তার ব্যক্তিগত সম্পদ বিবরণের অংশ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ সব ধরনের স্থাবর সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদ ও আর্থিক সঞ্চয়:

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—

-নগদ অর্থ: ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা

-ব্যাংকে জমা: ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা

-শেয়ার ও বন্ড: ৫০ লাখ টাকা

-স্বর্ণালংকার: ৫০ ভরি

-যানবাহন: আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের একটি জিপ গাড়ি

এই অস্থাবর সম্পদের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, তাঁর আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের এই স্বচ্ছ উপস্থাপন ভোটারদের আস্থার বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হয়।

ব্যাংক ঋণ ও দায়:

হলফনামায় ব্যাংক ঋণের তথ্যও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাঁর নামে ফ্ল্যাট ক্রয় বাবদ ব্যাংকে মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা ঋণ রয়েছে বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীদের সব ধরনের ঋণ ও দায়দেনা প্রকাশ করতে হয়, যাতে তাদের আর্থিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য:

হলফনামার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি হলো মামলা সংক্রান্ত তথ্য। শামা ওবায়েদ ইসলাম তার হলফনামায় মোট ১৮টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি মামলা প্রত্যাহার, অব্যাহতি অথবা খালাসপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাটি নগরকান্দা থানা সংশ্লিষ্ট এবং মামলার নম্বর ৮(৮)২৪। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিষয়টি হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর আইনি অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তিনি ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রিধারী। শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পারিবারিক পরিচয়:

হলফনামায় তার পারিবারিক পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

-পিতা: কে এম ওবায়দুর রহমান

-মাতা: শাহেদা ওবায়েদ

-স্বামী: শোভন ইসলাম ওরফে মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম

এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী সংযুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা:

বর্তমান ঠিকানা হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন—
৩৮/বি, রোড নং-১৮, ব্লক-বি, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

এছাড়া স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে—
গ্রাম: লস্করদিয়া, উপজেলা: নগরকান্দা, জেলা: ফরিদপুর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

হলফনামার গুরুত্ব ও ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীদের হলফনামা ভোটারদের সামনে তাদের আর্থিক, সামাজিক ও আইনি অবস্থান স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়–সম্পদ ও মামলার তথ্য প্রকাশ ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ফরিদপুর–২ আসনের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার ভোটারদের কাছে শামা ওবায়েদ ইসলামের দাখিলকৃত হলফনামা তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক ও চিকিৎসা বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চিকিৎসক সমাজ ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, ইন্টার্ন  ও ট্রেইনি ডাক্তার সহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 রবিবার (০৭ জুন) সকালে ছয় দফা দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  মিছিল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  ক্যাম্পাসে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানান ইন্টার্নাল ডাক্তার নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর জানান, হাসপাতালের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন।

আজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা সাড়ে ১১ টায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এক যোগে দাবি আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।  মানববন্ধনে সকল মিডলেভেল চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের ৬ দফা দাবি সমূহ হলো ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। ২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। ৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নুনতম ৩০,০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে। ৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মো. সামাদ খান (৪১) কেবল একজন মাদক ব্যবসায়ীই নন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার অতীত কর্মকাণ্ড।

রবিবার (৭ জুন) র‍্যাব-১০ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সামাদ খান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় আগে থেকেই দুটি মাদক মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার বলেন, সামাদের কাছে সাংবাদিকতার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। সে বলেছে (সামাদ) তিনি একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। তবে তার কথাবার্তায় বুঝেছি তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন। তিনি মাদকসহ ৬টি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, একজন মাদক কারবারি কোন পেশার সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা অপরাধীকে অপরাধের ধরণ হিসেবে বিবেচনা করি।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “র‍্যাব আটককৃত ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের কাছে সামাদের পরিচয় শুধু একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে তার অপরাধ জগতের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তখন জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট র‍্যাব-৮ ফরিদপুর অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেন্সিডিল, দুই বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৯০টি যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল প্রতারণার মামলা। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত ব্যারেট ক্যাপ ও কালো বুট জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণা করতেন।

শুধু মাদক নয়, নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নিজের শ্যালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পরে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন সামাদ। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু বলেন, “সাংবাদিকতা পেশাকে ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সামাদ কোনো প্রেসক্লাবের সদস্য নন। পরে তিনি নিজেই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন। এ ধরনের লোকদের কারণে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধীর আশ্রয়স্থল হতে পারে না। কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদেরও যাচাই-বাছাই করে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফরিদপুরে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক জানান, সামাদের মতো ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনের নজর এড়ানো এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে র‍্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।