খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হাজার বছরের জ্ঞানতীর্থ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হাজার বছরের জ্ঞানতীর্থ

ইসলামি ঐতিহ্য, আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান এবং উন্নত চিন্তাধারার এক অপূর্ব সমন্বয় হলো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতেমীয় খিলাফতের স্বর্ণালি যুগেরোর পুণ্যভূমিতে যে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, কালের বিবর্তনে সেই মসজিদটিই আজ বিশ্বজুড়ে ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ‘আল-আজহার’ নামকরণের মূলে রয়েছে মহীয়সী রমণী রাসূলকন্যা হজরত ফাতেমা (রা.)-এর পবিত্র স্মৃতি। তার মহিমান্বিত উপাধিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘আয-যাহরা’, যার অর্থ ‘উজ্জ্বল (Luminous)’ বা ‘দীপ্তিমান (Fulgente)’। দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় একটি সাধারণ মসজিদ থেকে বিশ্বখ্যাত ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’ হয়ে ওঠার ইতিবৃত্ত সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি।

ফাতেমীয় শাসনামল

ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ-এর শাসনামলে ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশর জয়ের পর সেনাপতি জওহর আল-সিকিল্লি নতুন রাজধানী ‘আল-কাহিরা’ (কায়রো) গড়ে তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৯৭০ থেকে ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয় ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ। শুরুতে আল-আজহার ছিল শুধু একটি ইবাদতখানা। যেখানে ইবাদতের পাশাপাশি ছোট পরিসরে মক্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হতো। তবে কয়েক দশক পর জ্ঞানী ও দক্ষ শিক্ষকদের হাত ধরে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। দশম শতাব্দীর শেষের দিকে ইবনে কিলিস (৯৩০-৯৯১ খ্রি.) ও ইবনে নুমান (৯০৩-৯৭৪ খ্রি.)-এর মতো বিখ্যাত আইনবিদরা এখানে যোগ দিলে আল-আজহারের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করতে শুরু করেন। তৎকালীন পাঠ্যসূচিতে কুরআন ও ইসলামি আইনের (ফিকহ) পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, আরবি ব্যাকরণ, দর্শন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের চন্দ্রগণনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে এখানে প্রথম ছাত্রাবাস নির্মিত হয় এবং ইবনে কিলিসের বিশেষ অনুরোধে তৎকালীন খলিফা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বৃত্তি চালু করেন। পরবর্তী সময়ে ১০০৫ সালে একটি সমৃদ্ধ গবেষণা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজার হাজার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল। এমনকি জ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দিতে পণ্ডিতদের বিনামূল্যে কাগজ, কলম ও কালি সরবরাহ করা হতো। তৎকালীন খলিফা এবং ধনীদের উদার অনুদানের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়।

আইয়ুবির শাসনামল

ফাতেমীয়দের পতনের পর ১১৬০-এর দশকের শেষে সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবি ক্ষমতা গ্রহণ করলে আল-আজহারের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন আসে। বিদ্যাপীঠটি মূলত শিয়া মতাদর্শে চলত এবং সেখানকার অনেক শিক্ষকই ছিলেন শিয়া মতাদর্শী। কিন্তু নতুন শাসক সালাহউদ্দিন আইয়ুবি ছিলেন সুন্নি মতের অনুসারী। মতাদর্শের এ পার্থক্যের কারণে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তেমন আগ্রহী ছিলেন না। ফলে সরকারিভাবে শিক্ষকদের বেতন এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর এ আর্থিক সংকটে পড়ে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এ সময় ফাতেমীয়দের তৈরি বিশাল লাইব্রেরিটিও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আল-আজহারের প্রতি কঠোর মনোভাব থাকলেও সালাউদ্দিন মিশরে কলেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় এক স্থায়ী অবদান রাখেন। এ ব্যবস্থার ফলে মসজিদের আঙ্গিনায়ই আলাদা শ্রেণিকক্ষসমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত ছাত্রাবাস গড়ে ওঠে। বিদ্যাপীঠটিতে নতুন ব্যবস্থাপনার ফলে ১২৫৮ সালে প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ আবদুল লতিফের (১১৬২-১২৩১ খ্রি.) মতো বিখ্যাত গুণী মানুষ এখানে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।

মামলুক শাসনামল

১২৬০-এর দশকে মামলুকরা ক্ষমতায় আসার পর আল-আজহারকে আবারও সক্রিয় করে তোলেন এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শুরু করেন। আইয়ুবি আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি এবং শিক্ষকদের বেতন চালু করার পাশাপাশি তারা এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থ ও সম্পদ দান করেন। ১৩৪০ সালে মসজিদের পাশে একটি বিশাল কলেজ ভবন নির্মাণ করা হয়, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করে। মামলুকদের শাসনামলে আল-আজহার ইসলামি আইন ও আরবি শিক্ষার জন্য বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং সারা দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসতে শুরু করেন। এ সময় অন্ধ বালকদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করতে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। মামলুকদের দেওয়া সম্মান ও সুযোগ-সুবিধার কারণে ১৩৮৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের (১৩৩২-১৪০৬ খ্রি.) মতো বিশ্বখ্যাত পণ্ডিতরা এখানে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৪০০-এর দশকের শেষের দিকে মামলুকদের ১৮তম সুলতান কায়েতবে (১৪১৬-১৪৯৬ খ্রি.) পুরো মসজিদটি সংস্কার করেন এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য নতুন ও আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণ করে আল-আজহারের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

অটোমান বা তুর্কিদের শাসনামল

১৫১৭ সালে অটোমান তুর্কিরা মিশর দখলের সময় কায়রোতে অনেক যুদ্ধবিগ্রহ চালালেও আল-আজহারে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ক্ষতি করেনি এবং এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখায়। তুর্কিদের শাসনামলে আল-আজহার সারা বিশ্বের মুসলমানদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। এ সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পদের নাম দেওয়া হয় ‘শায়খুল আজহার’, যা আজ পর্যন্ত চালু আছে। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য তখন শিক্ষার্থীদের জাতীয়তা ও মাজহাব অনুযায়ী আলাদা আলাদা দলে ভাগ করা হয়েছিল। সে সময় আল-আজহারে আধুনিক বিজ্ঞানের চর্চা খুব একটা ছিল না। তা সত্ত্বেও ১৭৪৮ সালে কায়রোর তুর্কি শাসক আহমেদ পাশা (১৬৯১-১৭৪৮ খ্রি.) গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে পণ্ডিতদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য একটি সূর্যঘড়ি (Sundial) উপহার দিয়েছিলেন।

ফরাসি শাসনামল

১৭৯৮ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মিশর জয়ের মাধ্যমে আল-আজহারে আধুনিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। ফরাসিদের আনা মুদ্রণযন্ত্রের (Printing Press) ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করার বদলে প্রথমবারের মতো মূল বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। ফরাসিদের মাধ্যমে আসা পাশ্চাত্য জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রভাবে ১৮৩০-এর দশকে আল-আজহারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (Rector) ফরাসি ভাষা শেখেন এবং পরবর্তী সময়ে পাঠ্যসূচিতে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো আধুনিক বিষয়গুলো যুক্ত করেন।

আধুনিকায়ন ও বর্তমান পরিসর

১৮৮২ সালে ব্রিটিশরা মিশর দখল করলে তাদের শাসনামলে আল-আজহারকে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার কাজ গতি পায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। ১৮৮৫ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন আইনি সংস্কারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো ও ছাত্র সংসদ গড়ে তোলা হয়। একইসঙ্গে মিশরের তৎকালীন গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ আবদুহ (১৮৪৯-১৯০৫ খ্রি.) নিয়মিত পরীক্ষা পদ্ধতি ও নতুন কোর্স চালু করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করেন। দীর্ঘদিনের এসব সংস্কার ও আধুনিকায়নের ফলে ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করে। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর ১৯৩৬ সালে আল-আজহার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৫২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসের প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং ১৯৫৮-৫৯ সালে উচ্চশিক্ষার এক হাজার বছর পূর্তি উদ্যাপন করেন। এরপর ১৯৬১ সালে একটি যুগান্তকারী আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এখানে নারীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা হয় এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও ইসলামি ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

বর্তমানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান অর্জনের এক বিশাল ও প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সমকালীন তথ্য অনুযায়ী কায়রোসহ মিশরের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮১টি অনুষদ (Faculties) এবং ৩৬০টিরও বেশির বিভাগ (Department) রয়েছে, যেখানে ইসলামি শাস্ত্রের পাশাপাশি চিকিৎসা, প্রকৌশল, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পড়ানো হয়। বর্তমানে এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষাধিক, যাদের একটি বিশাল অংশ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা বিদেশি শিক্ষার্থী। এ বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদানে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক ও গবেষক নিরন্তর নিয়োজিত আছেন। আর এভাবেই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’ আজ মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী বিদ্যাপীঠ হিসাবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

 

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।