খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

আলোর দিশারী যুব সংঘের উদ্যোগে ফরিদপুরে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, উপকৃত শতাধিক মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
আলোর দিশারী যুব সংঘের উদ্যোগে ফরিদপুরে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, উপকৃত শতাধিক মানুষ

ফরিদপুর শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের জন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর দিশারী যুব সংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে শতাধিক মানুষ চোখের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছেন।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফরিদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বগঙ্গাবর্দী এলাকার গনীর মোড়ে অবস্থিত আলোর দিশারী যুব সংঘের অস্থায়ী কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই ক্যাম্পে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। আলোর দিশারী যুব সংঘের এই উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখে পানি পড়া, জ্বালাপোড়া, ছানি সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য চক্ষু রোগ পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, বিনামূল্যে এমন সেবা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এক বয়স্ক রোগী বলেন, “চোখে অনেকদিন ধরে সমস্যা ছিল। টাকা না থাকায় ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ এখানে এসে ফ্রি চিকিৎসা পেলাম। আল্লাহ আলোর দিশারী যুব সংঘের সবাইকে ভালো রাখুক।”

এ বিষয়ে আলোর দিশারী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, “আলোর দিশারী যুব সংঘ সবসময় সমাজের কল্যাণ ও মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। প্রায় শতাধিক মানুষের মাঝে এ সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।”

উল্লেখ্য, আলোর দিশারী যুব সংঘ দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি নিয়মিত শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সমাজসেবামূলক কাজে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

আলোর দিশারী যুব সংঘের এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প এলাকাবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সমাজসেবায় তরুণদের এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।