খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

ফরিদপুরে দিন দিন বাড়ছে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের ঘটনা। অথচ এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়েই সংকট দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনের। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ফার্মেসি—কোথাও মিলছে না পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন। ফলে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন কামড়ে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল থেকেই ১৬ হাজার ২১৭ জনকে এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮৬ জন এবং বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ১৩৮ জন। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে ফরিদপুরে রেবিস ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সেই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান অস্ত্র এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনই মিলছে না। গত ৩-৪ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে একাধিক কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরকারি হাসপাতালেও ১৫ দিন ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসে তারা ভ্যাকসিন না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, “রাস্তার কুকুর কামড় দেওয়ার পর ডাক্তার বললো দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে। হাসপাতালে এসে শুনি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে ফার্মেসি ঘুরেও পাইনি। এখন খুব ভয় লাগতেছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ভাঙ্গা উপজেলার গৃহবধূ নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে বিড়াল কামড়েছে। রেবিস হলে তো বাঁচার সুযোগ নাই। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। সন্তানকে নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছি না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, রেবিস একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ, তবে সময়মতো ভ্যাকসিন নিলে তা পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকলে আমরা রোগীদের কীভাবে সুরক্ষা দেব?”

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই। দুই-তিনদিন ধরে ফার্মেসীতেও পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। যোগাযোগ রাখছি, টেন্ডারও হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুতই এর সমাধান হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” তবে কবে নাগাদ ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সচেতন নাগরিক মহল বলছে, এটি শুধু একটি ওষুধ সংকট নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “রেবিস কোনো সাধারণ রোগ নয়। একটি কামড় মানেই একটি জীবন ঝুঁকিতে। অথচ আমরা দেখছি দায়িত্বশীল মহলের গাফিলতি। আগে থেকেই যদি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রাখা হতো, তাহলে আজ মানুষ এভাবে দিশেহারা হতো না।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত তিন বছরের জন্য একটি চাহিদা করে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা। যাতে কোনো বছরই সংকট না হয়। এছাড়া একটি ভ্যাকসিন চারজনকে দিতে হয়। যেটা নাগরিকের জন্য কিনতেও সমস্যা। তাই সরকারকেই এই ভ্যাকসিন সরবারহ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ভ্যাকসিন সরবরাহ নয়, একই সঙ্গে কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত টিকাদান, স্ট্রিট ডগ ম্যানেজমেন্ট এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভবঘুরে কুকুর। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অথচ পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেবিস প্রতিরোধে তিনটি বিষয় একসঙ্গে জরুরি—পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। এই তিনটির যেকোনো একটি ব্যাহত হলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অবিলম্বে ভ্যাকসিন সংকট সমাধান না হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই যদি স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ না নেন, তাহলে এই নীরব সংকট যে কোনো সময় প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।

একাকীত্বকে শক্তিতে বদলানোর ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
একাকীত্বকে শক্তিতে বদলানোর ১০ উপায়

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বেশির ভাগ মানুষ।কিন্তু জীবনের নানা বাস্তবতায় কখনো কখনো সেই চেনা জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে হয়। সম্পর্কের ভাঙন, প্রিয়জনকে হারানো কিংবা উচ্চশিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া-এমন নানা কারণে তৈরি হয় একাকীত্ব।অচেনা পরিবেশে আপনজনের অভাব যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন মনের ভেতর ভর করে হতাশা ও বিষণ্নতা। অনেক সময় নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায় না।

আবার কখনো কারও সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছা করে না। কর্মক্ষেত্রের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের আকস্মিক পরিবর্তন থেকেও এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব অনেকের জন্য নীরব মানসিক সংকটে পরিণত হয়েছে। তবে একাকী থাকা মানেই অসুখী হওয়া নয়। এই সময়কে নিজের যত্ন নেওয়া, নতুন কিছু শেখা এবং আত্মোন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুলেই একাকীত্বের সময়কে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব।

মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে একাকীত্ব মোকাবিলায় মেনে চলতে পারেন ১০টি পরামর্শ-

১. নিজের সঙ্গে সময় কাটান

প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, স্বপ্ন ও চিন্তাগুলো নিয়ে ভাবুন। চাইলে ডায়েরিতে মনের কথাগুলো লিখে রাখতে পারেন। নিজের সঙ্গে ইতিবাচক কথোপকথন গড়ে তুলুন। এতে নিজের অনুভূতি বুঝতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা হতে পারে।

২. পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দিন

বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা ব্যায়াম-যে কাজে আনন্দ পান, সেটির জন্য নিয়মিত সময় রাখুন। অবসর সময়ের এই পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দিন।

ছবি আঁকতে ভালো লাগলে নতুন কৌশল শেখার চেষ্টা করুন। দৌড়াতে ভালোবাসলে কোনো ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য শিক্ষামূলক ভিডিও ও টিউটোরিয়াল রয়েছে। সেগুলো কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

প্রতিদিন হাঁটতে বের হন কিংবা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং কর্মস্পৃহা বাড়াতে সহায়তা করে। শরীর ও মন ভালো রাখতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪. নতুন কিছু শিখুন

অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করুন। রান্না, বিদেশি ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা কম্পিউটারের নতুন কোনো কাজ শিখতে পারেন। ফিটনেসে আগ্রহ থাকলে নতুন ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত শেখার চেষ্টা করুন। নতুন কিছু শেখার আনন্দ একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করবে।

৫. ঘরের বাইরে বের হন

সারাক্ষণ ঘরে বসে না থেকে সুযোগ পেলেই বাইরে বের হন। কাছাকাছি কোথাও হাঁটতে যান, পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটান কিংবা পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরে আসুন। সম্ভব হলে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান। পরিবেশের পরিবর্তন মনকে সতেজ করতে পারে।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের বাস্তব জীবনকে ছোট করে দেখবেন না। অনলাইনে মানুষ সাধারণত জীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলোই বেশি তুলে ধরে। ফলে অন্যের জীবন যতটা নিখুঁত মনে হয়, বাস্তবে তা সব সময় তেমন নয়। তাই অযথা তুলনা না করে নিজের জীবন ও অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিন।

৭. ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম মেজাজ, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমের নিয়ম মেনে চলুন।

৮. ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

জীবনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সময়কে অর্থবহভাবে কাজে লাগানো সহজ হয়। পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত শখ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নতুন দক্ষতা অর্জন, বই পড়া কিংবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করার মতো লক্ষ্য হতে পারে। লক্ষ্য পূরণের আনন্দ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

৯. অন্যের পাশে দাঁড়ান

নিজের একাকীত্ব কাটাতে অন্যের কল্যাণে কিছু করার চেষ্টা করুন। অসহায় মানুষকে সাহায্য করুন কিংবা কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পথশিশু, অসহায় মানুষ কিংবা পথের প্রাণীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। মানুষের উপকারে আসার অনুভূতি মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে। পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

১০. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

একাকীত্ব দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ ও সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেললে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, মানসিক সংকটে অন্যের সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়; বরং সচেতনতার পরিচয়।

একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী উপায় নেই। প্রয়োজন ধৈর্য, ইতিবাচক অভ্যাস এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। নিজের পছন্দের কাজ, নতুন দক্ষতা অর্জন ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে একাকী সময়কেও সুন্দর করে তোলা সম্ভব। তবে একাকীত্বকে উপভোগ করতে শেখার অর্থ সামাজিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা নয়। নিজের সঙ্গে ভালো থাকার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখুন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এজাজুল মিয়া (২০) ও স্বাধীন সরকার (২০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত এজাজুল মিয়া ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং স্বাধীন সরকার নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাৎ সরকারের ছেলে।

​আহতরা হলেন—নগরকান্দার জিয়াকুলি গ্রামের রহমান মাতুব্বরের ছেলে নাসিম মাতুব্বর (২০) এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ভারইডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে রাজন আলী (২১)। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদ আহম্মেদ জানান, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার পেলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দীর নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান। সম্প্রতি ‘স্বাধীনতা সংসদ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও দক্ষ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক মূল্যায়নে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। সালথা উপজেলায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ কলেজপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে উৎসাহিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন ওবায়দুর রহমান। তার নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যক্ষের এ পুরস্কার অর্জনের খবরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা বাড়িয়ে দেয়। এ সম্মাননা আমার একার নয়; এটি নবকাম পল্লী কলেজ, সহকর্মী শিক্ষক এবং সালথাবাসীর ভালোবাসার ফসল।’

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। এ জন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।