খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ এএম
ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

ফরিদপুরে দিন দিন বাড়ছে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের ঘটনা। অথচ এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়েই সংকট দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনের। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ফার্মেসি—কোথাও মিলছে না পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন। ফলে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন কামড়ে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল থেকেই ১৬ হাজার ২১৭ জনকে এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮৬ জন এবং বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ১৩৮ জন। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে ফরিদপুরে রেবিস ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সেই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান অস্ত্র এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনই মিলছে না। গত ৩-৪ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে একাধিক কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরকারি হাসপাতালেও ১৫ দিন ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসে তারা ভ্যাকসিন না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, “রাস্তার কুকুর কামড় দেওয়ার পর ডাক্তার বললো দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে। হাসপাতালে এসে শুনি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে ফার্মেসি ঘুরেও পাইনি। এখন খুব ভয় লাগতেছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ভাঙ্গা উপজেলার গৃহবধূ নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে বিড়াল কামড়েছে। রেবিস হলে তো বাঁচার সুযোগ নাই। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। সন্তানকে নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছি না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, রেবিস একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ, তবে সময়মতো ভ্যাকসিন নিলে তা পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকলে আমরা রোগীদের কীভাবে সুরক্ষা দেব?”

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই। দুই-তিনদিন ধরে ফার্মেসীতেও পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। যোগাযোগ রাখছি, টেন্ডারও হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুতই এর সমাধান হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” তবে কবে নাগাদ ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সচেতন নাগরিক মহল বলছে, এটি শুধু একটি ওষুধ সংকট নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “রেবিস কোনো সাধারণ রোগ নয়। একটি কামড় মানেই একটি জীবন ঝুঁকিতে। অথচ আমরা দেখছি দায়িত্বশীল মহলের গাফিলতি। আগে থেকেই যদি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রাখা হতো, তাহলে আজ মানুষ এভাবে দিশেহারা হতো না।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত তিন বছরের জন্য একটি চাহিদা করে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা। যাতে কোনো বছরই সংকট না হয়। এছাড়া একটি ভ্যাকসিন চারজনকে দিতে হয়। যেটা নাগরিকের জন্য কিনতেও সমস্যা। তাই সরকারকেই এই ভ্যাকসিন সরবারহ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ভ্যাকসিন সরবরাহ নয়, একই সঙ্গে কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত টিকাদান, স্ট্রিট ডগ ম্যানেজমেন্ট এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভবঘুরে কুকুর। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অথচ পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেবিস প্রতিরোধে তিনটি বিষয় একসঙ্গে জরুরি—পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। এই তিনটির যেকোনো একটি ব্যাহত হলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অবিলম্বে ভ্যাকসিন সংকট সমাধান না হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই যদি স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ না নেন, তাহলে এই নীরব সংকট যে কোনো সময় প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ হলো এই ব্রিজটি। কয়েক মাস আগে ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আংশিক মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া সড়কের বিটুমিন ঢালাই কাজ চলাকালে রাস্তা সমান করার রোলার ব্রিজের ওপর উঠলে আবারও ব্রিজের মাঝখান ভেঙে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি বিশ্বাস বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝখানে অত্যন্ত সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পাশের জমি ভরাট হয়ে গেলেও ব্রিজটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়েছে। ব্রিজটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার ওপর দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মাতুব্বর বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই আমাদের চলাচল। বাচ্চারা স্কুলে যায়, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?”

আরেক বাসিন্দা বাদল হোসেন জানান, “এখানে ব্রিজ না রেখে একটা কালভার্ট করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বারবার মেরামত করে লাভ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মালিক নাজমুল হাসান বলেন, “ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমি অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ না থাকায় বড় কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষ হলে বরাদ্দ পেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুতই আমি নিজে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করব।”

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চৌকিঘাটা মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।