খুঁজুন
, ,

‘অভিমানী’ নেতাদের নিজেই ডাকছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
‘অভিমানী’ নেতাদের নিজেই ডাকছেন তারেক রহমান

শরিকদের সঙ্গে ‘আসন সমঝোতার ভিত্তিতে’ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বিএনপি। তবে ধানের শীষ না পেয়ে শতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন, যা দলটিকে অস্বস্তিতে রেখেছে। বিএনপির লক্ষ্য, নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা। তারা চান না, দলের নেতারা অন্য কোনো ব্যানারে মাঠে থাকুক। এ জন্য দলের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের’ নির্বাচনের মাঠ থেকে সরাতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। দলটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ চলমান। এর সর্বশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও তাদের সঙ্গে কথা বলছেন; বিশেষ করে যেসব আসন গুরুত্বপূর্ণ, সমঝোতার ভিত্তিতে জোট শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে থাকা দলের নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ বা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের মূল্যায়নেরও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। আর বহিষ্কৃত থাকলে শিগগির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে এরই মধ্যে যারা সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের সবাই নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বিএনপি আশা করছে, দলের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিষয়টির সুরাহা হবে। এ জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে দল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। তবে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান-ত্যাগ বিবেচনায় এখনই পুরোপুরি কঠোর না হয়ে ‘বোঝানোর মতো’ সংযত আচরণ করছে দলটি। আর অঞ্চলভিত্তিক বা কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা বা বোঝানোর এ প্রক্রিয়াকে ‘বিদ্রোহীদের’ জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি। এরপরও নির্বাচনের মাঠে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলটি মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত কঠিন মনে করছে দলটি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দেখব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আমরা তাদের বোঝাচ্ছি—এমনকি বিএনপি চেয়ারম্যানও তাদের বোঝাচ্ছেন। তারা তো আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মী। আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান রয়েছে। তবে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে, দল তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আসন্ন নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে ১৭টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। ১২টি দলের সঙ্গে হওয়া এ সমঝোতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকিগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক। তাদের কেউ বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষে, আবার কেউ সংশোধিত আরপিওর কারণে নিজেদের দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলটির মনির হোসেন কাসেমী, যশোর-৫ আসনে জমিয়তের (অনিবন্ধিত) রশিদ বিন ওয়াক্কাস, নড়াইল-২ আসনে ‘অনিবন্ধিত’ এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদা, কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদোয়ান আহমদ এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক (পরে বিএনপিতে যোগদান) রেজা কিবরিয়াকে আসন ছেড়েছে বিএনপি। অবশ্য মান্না ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে গতকাল নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি।

জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রেদোয়ান আহমদ, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রাশেদ খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এহসানুল হুদা, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তবে ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩, ঝিনাইদহ-৪, নড়াইল-২, যশোর-৫সহ শতাধিক আসনে এখনো বিএনপির ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীরা’ নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। তবে বিজয় নিশ্চিতে ‘কোনো ব্যানারেই’ যাতে বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে না থাকেন, সেটাই জোট নেতাদের চাওয়া।

তাই এরই মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণঅধিকারের নুরুল হক নুর, রাশেদ খান এবং জমিয়ত নেতারা পৃথকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নিজেদের নির্বাচনী এলাকার সমস্যাগুলো তারা জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন, তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় ‘কোনো ব্যানারেই’ বিএনপি নেতাদের রাখা যাবে না। সেখানে বিজয় নিশ্চিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকা বিএনপির নেতারাই প্রধান বাধা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা গেছে, একদিকে জোটের প্রার্থীদের ধানের শীষ অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, জোটের ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরে, সেজন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় দলটি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন; আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আর সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারো কারো সঙ্গে কথা বলছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেককে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, এ সময় তাকে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সাকির পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, দলের বাইরে গিয়ে তো আর পারা যাবে না। চেয়ারম্যান যখন ডেকেছেন, তাকে সম্মান করতেই হবে। এ ছাড়া একইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের সঙ্গেও কথা বলেন তারেক রহমান। পরে এক ভিডিওবার্তায় আসন্ন নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান আরএকে সিরামিকসের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

একরামুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাসিরনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এনামুল হুদা সুমন ওইদিন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামানকে নির্দেশ দেন। তাকে বিএনপিতে থাকার জন্য বলেছেন এবং তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন।

একরামুজ্জামান বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান। এরপর ২০২৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একরামুজ্জামানকে উপদেষ্টা করা হয়। তবে তার দাবি, কমিটি ঘোষণার পরই তিনি পদত্যাগপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। আসনটিতে আগে কখনো বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেননি। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোয় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশেষ করে জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্য আসনগুলোয় থাকা দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও শিগগির ঢাকায় ডাকবেন।

কালবেলা

বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় রহিমা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখর বাজারসংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা বেগম উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের স্ত্রী।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালের দিকে রহিমা বেগম রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় পাংশা থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াগামী ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রহিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং কানে কম শুনতেন।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রেলওয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

জাকির হোসেন, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মাতুব্বরের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি বাঁশের আড়া খোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার) বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। তবে আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সমর্থকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছে।

বছির মাতুব্বর বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালায়। এময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে ক্যাবের নবগঠিত উপজেলা কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিতকরণ, বাজারে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যাবের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খাদ্যে ভেজাল, কম ওজনে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতন ভোক্তা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী এবং সক্রিয় সামাজিক সংগঠন। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে ক্যাবের উপজেলা কমিটিকে প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। নবগঠিত নগরকান্দা উপজেলা কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য দামে মানসম্মত পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একজন সন্তুষ্ট ভোক্তাই একজন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ব্যবসা পরিচালনায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ক্যাবের জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার নাগ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজিব, নির্বাহী সদস্য মো. সেন্টু মিয়া, নগরকান্দা বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা হুদু, নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, শহীদ আকরুমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলী মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একটি বেসরকারি, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও ভোক্তা অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার রক্ষা, বাজারদর পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য ও পণ্যের পক্ষে প্রচারণা, ভোক্তা শিক্ষা, গবেষণা, জরিপ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ ও অ্যাডভোকেসির কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সংগঠনটি ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।