খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজকে গৌরবময়ভাবে “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করে রাজেন্দ্রকে এ বছর শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

দীর্ঘ ঐতিহ্য, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের কারণে এই স্বীকৃতি পেয়ে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম এর নেতৃত্বে কলেজটি নতুন দিকনির্দেশনা ও অগ্রগতির দিকে আরও দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান আর সমাজসেবীর দৃঢ় প্রেরণা:

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত। এর ইতিহাস ১৯১৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ফিরে যায়, যখন বিখ্যাত কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরে উচ্চশিক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

কলেজের স্থপনা তহবিল সংগ্রহে ফরিদপুর জেলার বাইশরশির জমিদার রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। তিনি তাঁর পিতা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০,০০০ টাকা অর্থদানে সম্মত হন, যার ফলে কলেজের নামকরণ ‘রাজেন্দ্র কলেজ’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজটি খোলা হলেও দ্রুতই এটি সমগ্র অঞ্চলের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফজলুল হক, দেবেন্দ্র নাথ দত্তসহ বরেণ্য শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন।১৯২১ সালে বিএ (BA), ১৯২৩ সালে আই‌এস‌সি ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়।

সরকারী কলেজে রূপান্তর:

১৯৬৮ সালে কলেজটি সরকারিভাবে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ হিসেবে ঘোষিত হয়। এরপর থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কলেজে প্রায় ৩০,০০০ শিক্ষার্থী ও ১৬০ জন শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি:

কলেজের বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। বিশেষ করে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থাপত্য হিসেবে কলেজ শহর ও বায়তুল আমান নামে দুটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত।

নায়ক—অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম:

বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিমের দক্ষ নেতৃত্বে, কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন জীবনীশক্তি প্রবাহিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন নতুন শিক্ষা উদ্যোগ, কর্মশালা, সেমিনার ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রেক্ষাপট:

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ একটি সবার সম্মিলিত উদ্যোগ, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য, কাযর্ক্রম ও সমাজকল্যাণমূলক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়। এ বছর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হওয়া এই সপ্তাহকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড:

শুধু পাঠ্যক্রমেই নয়, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সমাজসেবায়ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভূমিকা প্রতিভাবান। রক্তদান শিবির, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে কলেজের ক্লাব ও সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

এ কলেজ ভবিষ্যতে আরও উন্নত মানের শিক্ষা প্রদান, নতুন নতুন গবেষণা ক্ষেত্রসহ শিক্ষার আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষা, ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য সংমিশ্রণ। দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে আজও এটি শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছে, আর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এ “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হয়ে সেই গৌরব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হওয়া আমাদের জন্য অসাধারণ গৌরবের বিষয়। কলেজটির শতবর্ষের ঐতিহ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এই অর্জনের মূল ভিত্তি। আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিই না, বরং শিক্ষার্থীদের মননশীল, দায়িত্ববান এবং সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করি।”

তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এর এই স্বীকৃতি আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। আমার আশা, এই অর্জন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শিক্ষার মান ও মর্যাদা তুলে ধরে।”

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ হলো এই ব্রিজটি। কয়েক মাস আগে ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আংশিক মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া সড়কের বিটুমিন ঢালাই কাজ চলাকালে রাস্তা সমান করার রোলার ব্রিজের ওপর উঠলে আবারও ব্রিজের মাঝখান ভেঙে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি বিশ্বাস বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝখানে অত্যন্ত সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পাশের জমি ভরাট হয়ে গেলেও ব্রিজটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়েছে। ব্রিজটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার ওপর দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মাতুব্বর বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই আমাদের চলাচল। বাচ্চারা স্কুলে যায়, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?”

আরেক বাসিন্দা বাদল হোসেন জানান, “এখানে ব্রিজ না রেখে একটা কালভার্ট করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বারবার মেরামত করে লাভ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মালিক নাজমুল হাসান বলেন, “ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমি অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ না থাকায় বড় কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষ হলে বরাদ্দ পেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুতই আমি নিজে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করব।”

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চৌকিঘাটা মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।