খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজকে গৌরবময়ভাবে “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করে রাজেন্দ্রকে এ বছর শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

দীর্ঘ ঐতিহ্য, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের কারণে এই স্বীকৃতি পেয়ে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম এর নেতৃত্বে কলেজটি নতুন দিকনির্দেশনা ও অগ্রগতির দিকে আরও দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান আর সমাজসেবীর দৃঢ় প্রেরণা:

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত। এর ইতিহাস ১৯১৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ফিরে যায়, যখন বিখ্যাত কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরে উচ্চশিক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

কলেজের স্থপনা তহবিল সংগ্রহে ফরিদপুর জেলার বাইশরশির জমিদার রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। তিনি তাঁর পিতা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০,০০০ টাকা অর্থদানে সম্মত হন, যার ফলে কলেজের নামকরণ ‘রাজেন্দ্র কলেজ’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজটি খোলা হলেও দ্রুতই এটি সমগ্র অঞ্চলের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফজলুল হক, দেবেন্দ্র নাথ দত্তসহ বরেণ্য শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন।১৯২১ সালে বিএ (BA), ১৯২৩ সালে আই‌এস‌সি ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়।

সরকারী কলেজে রূপান্তর:

১৯৬৮ সালে কলেজটি সরকারিভাবে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ হিসেবে ঘোষিত হয়। এরপর থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কলেজে প্রায় ৩০,০০০ শিক্ষার্থী ও ১৬০ জন শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি:

কলেজের বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। বিশেষ করে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থাপত্য হিসেবে কলেজ শহর ও বায়তুল আমান নামে দুটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত।

নায়ক—অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম:

বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিমের দক্ষ নেতৃত্বে, কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন জীবনীশক্তি প্রবাহিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন নতুন শিক্ষা উদ্যোগ, কর্মশালা, সেমিনার ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রেক্ষাপট:

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ একটি সবার সম্মিলিত উদ্যোগ, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য, কাযর্ক্রম ও সমাজকল্যাণমূলক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়। এ বছর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হওয়া এই সপ্তাহকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড:

শুধু পাঠ্যক্রমেই নয়, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সমাজসেবায়ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভূমিকা প্রতিভাবান। রক্তদান শিবির, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে কলেজের ক্লাব ও সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

এ কলেজ ভবিষ্যতে আরও উন্নত মানের শিক্ষা প্রদান, নতুন নতুন গবেষণা ক্ষেত্রসহ শিক্ষার আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষা, ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য সংমিশ্রণ। দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে আজও এটি শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছে, আর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এ “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হয়ে সেই গৌরব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হওয়া আমাদের জন্য অসাধারণ গৌরবের বিষয়। কলেজটির শতবর্ষের ঐতিহ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এই অর্জনের মূল ভিত্তি। আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিই না, বরং শিক্ষার্থীদের মননশীল, দায়িত্ববান এবং সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করি।”

তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এর এই স্বীকৃতি আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। আমার আশা, এই অর্জন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শিক্ষার মান ও মর্যাদা তুলে ধরে।”

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।