খুঁজুন
, ,

লোডশেডিং চলবে আরও কতদিন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
লোডশেডিং চলবে আরও কতদিন?

“গরমের মধ্যে যন্ত্রণায় আছি- গভীর রাতেও দুই-তিনবার বিদ্যুৎ যায়, একবার গেলে দেড়-দুই ঘণ্টার কমে আসে না।”

একথা বলছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা নয়ন বড়ুয়া। তার দাবি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হচ্ছে।

এই অবস্থা দেশের বেশিরভাগ এলাকায়। দিনে-রাতে নিয়ম করে শহর এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানাচ্ছেন বিদ্যুতের গ্রাহকরা।

“এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে এমনিতেই তীব্র গরম, আর সাথে কারেন্ট (বিদ্যুৎ) নাই, সব মিলিয়ে খুবই বাজে অবস্থা,” বলেন নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দার বাসিন্দা পলাশ তালুকদার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে লোডশেডিং একটু একটু করে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই।

কিন্তু গত তিনদিনে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে বলেই তথ্য মিলছে।

মূলত গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি থাকায় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং দিতে হয়েছে।

এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন অন্তত ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যদিও দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিউ চালু এবং আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক হলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

“আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদের যা সাপ্লাই করতো তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে। বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে,” বলেন তিনি।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ে চিত্র

“সকাল থেকে দুইবার বিদ্যুৎ যায় অন্তত আধা ঘণ্টা করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনবার যায় আরও আধা ঘণ্টা করে। আর সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত তিন থেকে চারবার যায় অন্তত এক ঘণ্টা করে,” চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে গেল তিনদিন এভাবেই লোডশেডিং চলছে বলে জানান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ আসাদ।

ওই জেলার গ্রামাঞ্চলে আরও আগে থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংয়ের বিরূপ প্রভাব পড়েছে যশোর জেলার কৃষি কাজে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী বুলবুল শহীদ খান বলেন, “তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকেই যশোরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষকরা তেল পাচ্ছে না, বিদ্যুৎও ভোগাচ্ছে।”

গ্রাম-শহর নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি এলাকায় কম-বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। যার কারণ হিসেবে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ঘাটতির কথা বলছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ সরবরাহ ঘাটতি থাকায় সারাদেশে লোডশেডিং দিতে হয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

চাহিদা এবং সরবরাহের হিসেবে বৃহস্পতিবারও তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি লোডশেডিংয়ের তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির অঞ্চল ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জোনে সবথেকে বেশি ছয় হাজার ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জোনে এক হাজার ৯৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৮০ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামে এক হাজার ৫৮৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৫০ মেগাওয়াট, রাজশাহী জোনে এক হাজার ৮০৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লা জোনে এক হাজার ৫৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২২০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে এক হাজার ৭০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৮০ মেগাওয়াট, সিলেটে ৫৭৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১০০ মেগাওয়াট, বরিশালে ৪৬৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৬০ মেগাওয়াট এবং রংপুরে এক হাজার দুই মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি কেন?

জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ধাপে ধাপে লোডশেডিং বেড়েছে। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি আর একাধিক পাওয়ার প্লান্টের ইউনিটে কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাগজেকলমে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। যার মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একদিকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গেও ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের।

তাহলে এতো উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও বিদ্যুৎ নিয়ে এই বেহাল দশা কেন?

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত গ্যাস ও কয়লা নির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকটে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে।

এছাড়া আদানির একটি বিদ্যুৎ ইউনিটে কারিগরি সমস্যা তৈরি হওয়ায় সব মিলিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা।

“আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জ্বালানির চিন্তা না করে কেবল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

যারা ফলে যখনই জ্বালানির ঘাটতি হয়েছে তখনই বিদ্যুৎ নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

“আপনার গাড়ি আছে কিন্তু গাড়ি চালানোর তেল নেই, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের বর্তমান অবস্থা ঠিক এমন,” বলেন তিনি।

লোডশেডিং চলবে কতদিন

তীব্র গরমে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি উৎপাদনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

আর তাই বিদ্যুৎ নিয়ে এমন পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে এই প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে সামনে আসছে।

পরিস্থিতি পুরো ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলেই মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

তারা বলছে, ২৬শে এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ারের আমদানিৃকত বিদ্যুৎ আবারো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৮শে এপ্রিল থেকে স্বাভাবিক হতে পারে।

“২৮শে এপ্রিল থেকে প্রায় তেরশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পাবো, যাতে সংকট খানিকটা কমবে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে আরএনপিএন এর বন্ধ ইউনিটটি চালু হলে সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে,” বলে জানান যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা।

এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলছেন, “আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদেরকে যা সাপ্লাই করতো তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে, বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের এই প্রেক্ষাপট ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং সহ্য করেই চলতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলছেন, প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করে এই মুহূর্তে লোডশেডিং কমানো সম্ভব।

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম যত বাড়বে সেটি বহন করা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কঠিন বলেই মনে করেন মি. হোসেন।

তিনি বলছেন, “বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এই খাতে। এবার হয়তো সেটা ৬০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ফার্নেস অয়েল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে চাইলেই বাড়তি উৎপাদন করা যাবে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না, কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যের হাতে পৌঁছে গেল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাসই এমন ঘটনার বড় কারণ। এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁস বা ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কেন ভাইরাল হয় ব্যক্তিগত কনটেন্ট?

পুলিশি তদন্ত ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি বা বিশ্বাসভঙ্গের জেরে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বাইরে চলে যায়। এ ছাড়া ব্ল্যাকমেল বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হ্যাকাররাও এগুলোকে হাতিয়ার বানায়। হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরা বসানো, অচেনা লিংকে ক্লিক করিয়ে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা ফ্রি ক্লাউড-লিংকের ফাঁদেও পড়েন অনেকে।

ঝুঁকি বাড়ায় যে ৪ অভ্যাস–

১. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা

ভাইরাল ভিডিও দেখার লোভে অনেকেই অচেনা লিংকে ক্লিক করেন। সেখান থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেল বা বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজে ঢুকে পড়েন। এতে অজান্তেই গ্যালারির অ্যাক্সেস দিয়ে ফেলেন ব্যবহারকারীরা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা।

২. ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড

অজান্তে ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাপকে গ্যালারির অনুমতি দিয়ে ফেলেন অনেকেই। এতে সরাসরি ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।

৩. সম্পর্কের টানাপড়েন

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। সঙ্গীর হাতে ফাঁস হচ্ছে ব্যক্তিগত মুহূর্ত।

৪. হোটেল কক্ষের স্পাই ক্যামেরা

বিভিন্ন হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারাচ্ছেন। পরে সেই ছবি বা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কীভাবে বাঁচবেন?

পারমিশন হাইজিন মানুন: অচেনা অ্যাপকে কখনোই Photos/Media/Camera/Microphone–এর অনুমতি দেবেন না। ফোনের Settings → Apps → Permissions গিয়ে সময় নিয়ে পরখ করুন, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করুন।

লিংক-শৃঙ্খলা: কোনো ভাইরাল ভিডিও/ফটো দেখার কথা বলে আসা লিংকে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে ব্রাউজার থেকে অ্যাপ ইন্সটল বা ‘Join/Download’ চাপতে বললে সতর্ক হোন।

অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার করুন: অ্যাপ নামালেই হবে না; রেভিউ, ডাউনলোড সংখ্যা, প্রকাশকের পরিচয় দেখে নিন। Unknown Sources/Install unknown apps বন্ধ রাখুন।

ক্লাউড ব্যাকআপ বুদ্ধিমানের মতো: স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু থাকলে ব্যাকআপ ফোল্ডার এনক্রিপ্ট করুন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন এবং শেয়ার্ড-লিংক সীমিত রাখুন।

ডিভাইস সুরক্ষা: ফোনে শক্তিশালী পাসকোড/বায়োমেট্রিক, স্ক্রিন-লক টাইমআউট কম, Find My Device চালু, নিয়মিত সফটওয়্যার/সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করুন।

হোটেল রুমে সতর্কতা: অস্বাভাবিক স্থানে (ধোঁয়া-সেন্সর, চার্জার, ঘড়ি, টিভির নিচে) লেন্সের মতো জিনিস দেখলে পরীক্ষা করুন। ফ্ল্যাট/রুম নেওয়ার পর আলো কমিয়ে টর্চ বা ফোনের ফ্ল্যাশে লেন্সের ঝিলিক আছে কি না দেখে নিন।

সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম

ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দনপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৩ লিটার চোলাই মদ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় চোলাই মদ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রঘুনন্দনপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় ভারতী রানী দাস (৪০) নামে এক নারীর নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৪৮ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আশেক মোল্লা (৩০) নামে অপর এক ব্যক্তির হেফাজত থেকে আরও ৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ওই এলাকায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পর নিশ্চিত তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।