খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

এম এম মাহবুব হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ এএম
খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চাপে পড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

মাত্র তিন মাস আগেও, অর্থাৎ জুন ২০২৫ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা তখনই মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫০-৯৯ শতাংশের শতাংশের বেশি, আর ছয়টি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, যেমন— ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংক ৯৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই চিত্র কেবল ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাই নয়, বরং আর্থিক শাসনব্যবস্থার গভীর সংকটকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঠিক বিপরীতে ১৭টি ব্যাংক রয়েছে যাদের খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ শতাংশের নিচে এবং তাদের মধ্যে ৬টির খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশেরও নিচে। এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে, সুশাসন, কঠোর ঋণ মূল্যায়ন ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিপরীতে, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো ও দুর্বল তদারকি ব্যাংককে দ্রুত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

খেলাপি ঋণ বলতে মূলত সেই ঋণকে বোঝায়, যা ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা বাস্তব অর্থে আর আদায়যোগ্য নয়। এ ধরনের ঋণ ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে, প্রভিশনিংয়ের বোঝা বাড়ায় এবং মুনাফার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

এ খেলাপি ঋণের প্রভাব কেবল ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। ব্যাংকগুলো যখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করে, তখন তারা নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, বাণিজ্য ও সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যায়।

বিনিয়োগ স্থবির হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রভিশনিংয়ের চাপ ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমিয়ে দেয়, যা আবার মূলধন শক্তিশালী করার সক্ষমতাকে দুর্বল করে। এর প্রভাব পড়ে আমানতকারীদের আস্থার ওপর এবং বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। খেলাপি ঋণের এ দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে আর পরিশোধ হয়নি এবং খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ঋণ শ্রেণিকরণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার সময়সীমা কমিয়ে আনার ফলে বহু ঋণ দ্রুত খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বেড়েছে বলে মনে হলেও, বাস্তবে এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইনি কাঠামো অত্যন্ত ধীর ও জটিল হওয়ায় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য এক ধরনের সুবিধা তৈরি করে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সমস্যার স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী নীতিগত পদক্ষেপ।

প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা ও তদারকি ক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি ঋণ-শৃঙ্খলা, শ্রেণীকরণ ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, তাহলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন করার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও বাজার ঝুঁকি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা ছাড়া বড় ঋণ অনুমোদনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার বাস্তবসম্মত হয়।

একই সঙ্গে বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য আলাদা নজরদারি ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছে না, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া খেলাপি ঋণের লাগাম টানা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে পুনঃমূলধন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির শর্তে।

সবশেষে বলা যায়, খেলাপি ঋণ আজ আর শুধু ব্যাংকিং খাতের একটি সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, কঠোর তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ধারাবাহিকতা।

এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং অর্থনীতি আবারও গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।

(লেখক : এমএম মাহবুব হাসান, ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক)

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
ফরিদপুরে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার বছরের শিশু মায়েসার

ফরিদপুর শহরের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মায়েসা (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মায়েসা ওই এলাকার বাসিন্দা মাহফুজের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সামনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল মায়েসা। একপর্যায়ে খেলার ছলে দৌড়ে বাড়ির সামনে পাকা সড়কে উঠে পড়ে সে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতনামা ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, মায়েসা ছিল খুবই চঞ্চল ও সবার আদরের। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘাতক যানবাহনটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।