খুঁজুন
, ,

যেসব কথায় মনের অজান্তেই ভেঙে যায় সম্পর্ক? জেনে রাখা ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
যেসব কথায় মনের অজান্তেই ভেঙে যায় সম্পর্ক? জেনে রাখা ভালো

ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সুন্দর, মিষ্টি কথার মানুষ হতে হয় না। কিন্তু কী বলছি, কীভাবে বলছি— এটাই অনেক সময় সবকিছু বদলে দেয়।

আপনি হয়তো খেয়ালই করছেন না, কিন্তু আপনার কিছু সাধারণ কথাই প্রিয় মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ছোট ছোট শব্দ, মন্তব্য বা অভিব্যক্তিও ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।

চলুন আজ জেনে নিই এমন ১১টি কথা বা মন্তব্য, যেগুলো সম্পর্ক দুর্বল করে দেয়, আর কীভাবে সেগুলোর জায়গায় আরও সহানুভূতিশীল ও মানবিক কিছু বলা যায়।

– চুপ করো বা শান্ত হও! কেউ কষ্টে থাকলে তাকে ‘চুপ করো’ বলা তাকে থামিয়ে দেওয়ার মতো। এতে সে হয়তো ভাববে, তার আবেগ বা অনুভূতির কোনো দাম আপনার কাছে নেই।

বরং বলুন, ‘তুমি যা বলছো, আমি শুনছি। চাইলে বলো কীভাবে পাশে থাকতে পারি।’

– যা খুশি করো— আগ্রহের অভাব দেখায়। কারও পরামর্শ চাওয়া মানে সে আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনি যদি বলেন, ‘যা খুশি করো’, সে বুঝে নেবে আপনি একদমই আগ্রহী নন।

বরং বলুন, ‘একসাথে চিন্তা করি, চাইলে কিছু আইডিয়া দিতে পারি।’

– আমি তো এটা বলিনি! — দোষ না নেওয়ার প্রবণতা। এভাবে বললে মনে হয় আপনি নিজের ভুল বা প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন না। এতে সম্পর্কের জায়গায় দূরত্ব তৈরি হয়।

বরং বলুন, ‘দুঃখিত, হয়তো আমি বোঝাতে পারিনি। চলো আবার বুঝিয়ে বলি।’

– ‘তুমি তো খুবই সেনসিটিভ’ — অনুভূতিকে হালকা করে দেখানো। এই কথা শোনার পর কেউ আর খোলামেলাভাবে নিজের অনুভূতির কথা বলতে চায় না।

বরং বলুন, তোমার এমনটা লাগাটা একদম স্বাভাবিক। চাইলে এ নিয়ে কথা বলি।

– ‘আমি এমনই’ বা ‘আমি শুধু সত্য বলি’ — দায় এড়ানো নয়। এই কথাগুলো অনেক সময় নিজের রূঢ়তা বা কটূক্তি ঢাকতে বলা হয়।

বরং বলুন, ‘ভবিষ্যতে আরও ভেবে বলব। যদি খারাপ লেগে থাকে, আমি দুঃখিত।’

– ‘না না, কিছু না…’ — নিজের কষ্ট লুকানো। এইভাবে কথা বলা একধরনের দূরত্ব তৈরি করে। বারবার এমন করলে মানুষ ধীরে ধীরে পাশে নাও থাকতে পারে।

বরং বলুন, আমি একটু খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পরে কথা বলি?’

– ‘মজা করছিলাম’ — সত্যিই কি তাই? বারবার কটাক্ষ করে ‘মজা’ বললে সেটা আঘাতই হয়ে দাঁড়ায়।

বরং বলতে শিখুন, ‘দুঃখিত, আমি বুঝিনি এটা তোমাকে কষ্ট দিতে পারে।’

– সবসময় ‘আমি’ বা ‘আমার’ — মানে আপনি শুধু নিজেকে দেখছেন। সম্পর্ক মানে একসাথে পথ চলা। যদি শুধু নিজের গল্প বলেন, অন্যজন আগ্রহ হারায়।

বরং বলুন, ‘তোমার দিন কেমন গেল? কিছু শেয়ার করতে চাও?’

– ‘এখন সময় নেই’— মানে আমি ব্যস্ত, তুমি গুরুত্বপূর্ণ না। সত্যিই সময় না থাকলে সেটাও বলার একটা মানবিক উপায় আছে।

বলুন, ‘এখন একটু ব্যস্ত, কিন্তু তোমার কথা শুনতে চাই। একটু পর কথা বলি?’

– ‘দেখলে, আমি তো আগেই বলেছিলাম’ — ইগো বাড়ায়, সম্পর্ক নয়। এই কথা বললে মনে হয় আপনি স্রেফ ‘ঠিক প্রমাণ’ করতে চাচ্ছেন, সাপোর্ট দিতে নয়।

বরং বলুন, তুমি এখন যেটা শিখলে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে আমি পাশে আছি।

– ‘তুমি সবসময়ই…’ বা ‘তুমি কখনোই…’ — এমন চরম শব্দে সম্পর্ক কাঁপে। এই ধরনের কথা কোনো সমস্যা সমাধান করে না, বরং আরও বড় করে তোলে।

বরং বলুন, সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। আমরা কি এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারি?

আমরা যা বলি, সেটাই শুধু নয়—কীভাবে বলি, সেটাও অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। একটু চিন্তা করে, একটু বুঝে বললেই সম্পর্ক আরও গভীর, সুন্দর আর টেকসই হতে পারে।

ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার আন্তরিকতা, সম্মান আর একটু কম ইগো।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যা ও ছিনতাই: অজ্ঞানপার্টির ৩ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যা ও ছিনতাই: অজ্ঞানপার্টির ৩ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক প্রয়োগ করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞানপার্টির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

​শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মুরাদ শেখ (২৪) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এছাড়া এই ঘটনায় আগেই গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাই চক্রের সদস্য সুমন আহমেদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড় ৮টার দিকে শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ২০০ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে। পথিমধ্যে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে তারা রুমালে চেতনানাশক মাখিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারের মুখে চেপে ধরে। এতে চালক জ্ঞান হারালে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় চক্রটি।

​পরে স্থানীয়রা চালক বিশ্বনাথকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনার তিন মাস পর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে একটি গ্যারেজে থাকা ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের ‘হুট’-এর সুত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর রাতে শহরের ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

​পরদিন আসামী মুরাদকে আদালতে পাঠালে সে চালককে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

​ঘটনায় জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতার করতে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাতের আঁধারে আরকান মোল্যা নামের এক কৃষকের দুটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় চার একর জমির ইরি ধান আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই কৃষক।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরকান মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার সিরাজুল হক সুরাপ মোল্যার ছেলে। ঘটনাটি জানতে পেরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরুনা গ্রামের মাঠে দুটি সেচযন্ত্রের সাহায্যে প্রায় চার একর জমিতে ইরি ধানের চাষ করছিলেন কৃষক আরকান মোল্যা। একটি সেচযন্ত্র থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৭০০ ফুট। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাঁর দুটি সেচযন্ত্রই পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। এতে বর্তমান বাজারমূল্যে তাঁর প্রায় অর্ধ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী কৃষক আরকান মোল্যা জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের আলফাডাঙ্গা শাখা থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি এই ইরি ধানের আবাদ ও সেচযন্ত্র ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে ধানগাছের বয়স দুই মাস চলছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে শিষ বের হওয়ার কথা। এই মুহূর্তে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ধানখেত শুকিয়ে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও তিনি এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অভাবনীয় পুনর্মিলন: ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে শেকড়ে ফিরলেন পরী বেগম

মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া পরী বেগম দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে নিজ জন্মভূমি ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফিরেছেন। মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সুদূর পাকিস্তানে পাড়ি জমানো এই নারী জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভাইদের বুকে ফিরে পেলেও ভাষা বদলে ফেলেছেন। মাতৃভাষা বাংলা ভুলে গিয়ে এখন তিনি সাবলীলভাবে কথা বলছেন উর্দুতে। তবুও এই ভাষা ও দূরত্বের ব্যবধান দুই ভাই-বোনের আত্মিক টানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম মৃত মমিন মাতুব্বর। প্রায় ৫০ বছর আগে অতীতে শিশু বয়সে নিখোঁজ হওয়া পরী বেগম চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রথমে ভারত এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পৌঁছান। সেখানে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে এক নিঃসন্তান দম্পতির আশ্রয়ে বড় হন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানি এক নাগরিককে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

​তবে প্রবাসের মাটিতে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও জন্মভূমি কিংবা আপন মা-বাবা ও ভাইদের স্মৃতি একটুও মুছে যায়নি পরী বেগমের মন থেকে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এক বিস্ময়কর চাকা ঘোরে পাকিস্তানে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি যুবকের সুবাদে।

​পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ওই দুই যুবকের সাথে পরিচয় হয় পরী বেগমের নাতির। দাদির মুখে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া শেকড়ের গল্প শুনে সেই যুবকরা উদ্যোগী হন। পরী বেগমের দেওয়া নগরকান্দার ঠিকানা এবং বাবা মমিন মাতুব্বর ও ভাইদের (নওশের আলী মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বর ও সোলেমান মাতুব্বর) নাম সংগ্রহ করে তারা দেশে ফিরে খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে তাদের মাধ্যমেই দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ভাই-বোনের।

​অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সম্প্রতি জন্মভূমিতে ফেরেন পরী বেগম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবধানে ভাই-বোনের চেহারা ও পরিবেশ বদলালেও ভালোবাসার কমতি হয়নি একটুও। ছোটবেলার সেই বোনকে এত বছর পর কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা।

​এদিকে পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, দীর্ঘকাল পাকিস্তানে বসবাস করায় পরী বেগম এখন আর বাংলায় কথা বলতে পারেন না; তার দৈনন্দিন ভাষা এখন উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালেও তিনি উর্দুতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভাইয়েরাও তার সব কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও চোখের ভাষা আর অনুভূতির মধ্য দিয়েই মনের ভাব বুঝে নিচ্ছেন।

​দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের এই নাটকীয় ও আবেগঘন প্রত্যাবর্তনে নগরকান্দার পৈতৃক বাড়িতে বইছে আনন্দের বন্যা। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তাকে একনজর দেখতে। কেউ শুনছেন তার কষ্টের জীবনসংগ্রামের গল্প, আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমির প্রতি অটুট ভালোবাসার কথা ভেবে। পরিবারে আনন্দের এই জোয়ার ধরে রাখতে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

​পরী বেগমের ভাই সাইফুল মাতুব্বর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘পরী আপা আমাদের কাছে ফিরে আসায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘ এই বিচ্ছেদ শেষে তাকে ফিরে পাবো, তা আমরা কল্পনাই করতে পারিনি।’

​মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি নির্মমভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা ভিনদেশে হারিয়ে গিয়েছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শেকড়ে তার এই ফিরে আসা কেবল একটি পরিবারের পুনর্মিলনই নয়, এটি মানুষের জন্মভূমির প্রতি অবিনশ্বর টান ও ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান।