খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

নির্বাচনে জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি কী বার্তা দিচ্ছে?

রাকিব হাসনাত
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ এএম
নির্বাচনে জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি কী বার্তা দিচ্ছে?

তারেক রহমানের পর তার কন্যা জাইমা রহমান এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন বিএনপিতে এবং দলটির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ কিংবা কৌতূহলও তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। যদিও এখন পর্যন্ত সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন তিনি।

অনেকের ধারণা, জাইমা রহমানকে ধীরে ধীরে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে এক ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আবার কারও ধারণা, সংসদ নির্বাচনকে বিবেচনায় নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জাইমা রহমানকে বিভিন্ন কৌশলে সামনে আনছেন, যার মাধ্যমে ‘তরুণ ও নারীদের’ আকৃষ্ট করার একটি চেষ্টা থাকতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ও অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই বিএনপির দিক থেকে মিজ রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

আবার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করে তার বিপরীতে বিএনপি নারীদের কীভাবে উপস্থাপন করতে চায় তারও একটি বহিঃপ্রকাশ জাইমা রহমানের মাধ্যমে করা হচ্ছে- এমন আলোচনাও আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

যদিও এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সাথে মাঝে মধ্যে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে কয়েকটি জায়গায় দেখা গেলেও জাইমা রহমান এখনো নির্বাচনী প্রচার মঞ্চে উঠেননি।

কতটা জানা যাচ্ছে জাইমা সম্পর্কে

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হিসেবে তার সম্পর্কে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের, এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ থাকার পরও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে কখনোই বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিজ রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে।

পরে লন্ডনে যাওয়ার পর তিনি ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট ল সম্পন্ন করেন তিনি।

গত ২৩শে ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা এক লেখায় তিনি আইন পেশায় কাজ করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে”।

এর আগে বাংলাদেশে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডন চলে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেই থেকে ১৭ বছর লন্ডনে থাকার পর গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন তিনি।

দেশে ফেরার এর আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। এমনকি তার বাবা তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও জাইমা রহমানের তাতে তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

বরং এখন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতা যেটি রয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, পেজটি তৈরিই হয়েছে গত বছরের ২৪শে নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার দেওয়া পোস্টগুলোও স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রচার করছে।

এখন তিনি যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির দলীয় ভেরিফায়েড পাতাগুলো থেকে যেমন প্রচার হচ্ছে, তেমনি তিনি নিজেও তার ভেরিফায়েড পাতায় প্রকাশ করছেন।

দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার ঘটনায়। মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে ওই সভাটি হয়েছিল।

সভার বিষয়বস্তু বিএনপির দিক থেকে তখন প্রকাশ করা না হলেও ওই সভার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে এসেছিল। ওই ভিডিওতে ধন্যবাদ জানিয়ে কথা বলতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে, যা পরে দেশের সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।

এর আগে ওই বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তার বাবা তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

জাইমা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে যোগ দিয়েছিলেন।

তবে দেশে ফেরার আগে গত ২৩শে ডিসেম্বর তিনি তার ভেরিফায়েড পাতায় তার ‘নিজের গল্প’ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং পাঁচই অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি”।

তিনি লিখেছেন, “দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই”।

তার দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ৩০শে ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ই জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ (নারীর হাতে জাতির নির্মাণ: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ) শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন ও এ বিষয়ে প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।

সেখানে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, এটিই তার এ ধরনের প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া।

এরপর ২৫শে জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ঢাকার গুলশানের একটি পার্কে ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল।

সবশেষ ২৭শে জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন।

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

জাইমা রহমানকে নিয়ে আলোচনায় অনেকেই বিশ্বজুড়ে বহু রাজনৈতিক দলে, বিশেষ করে উপমহাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গটি তুলে আনছেন। বাংলাদেশেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগে দীর্ঘকাল ধরেই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রই প্রাধান্য পেয়েছে বলে আলোচনা আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ভারতে জওহরলাল নেহেরু নিজেই ইন্ধিরা গান্ধীকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, তাছাড়া পাকিস্তানেও পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস আছে।

“বাংলাদেশেও যারা বিএনপির রাজনীতি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেন, তারা এ পরিবারকে ঘিরেই রাজনীতি করেন এবং সে কারণেই মনে হচ্ছে জাইমা রহমানকে তার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রুমিং (প্রস্তুত) করা হচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “এখন জনপরিসরে বিভিন্নভাবে জাইমা রহমানকে আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনমনে দলটির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার একটি চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে”।

আরেকজন বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ, নারী এবং বিশেষভাবে জেন-জি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের আকৃষ্ট করতেই জাইমা রহমানকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

“এর মধ্যে হয়তো বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব কে হবে বা নেতৃত্ব কোন দিকে যেতে পারে, তার একটা দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু জাইমা রহমান-অবয়ব দিয়ে এই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে ধর্মান্ধতা বা মৌলবাদের উল্টো দিকে বিএনপি নারীদের কীভাবে দেখাতে চায়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই জাইমা রহমানকে যেভাবে তুলে ধরছে, তা হলো পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন তরুণ নারী, যিনি পরিবারকে উপস্থাপন করেন ও নিজেকে নেতৃত্বের জন্য তৈরি করছেন।

“তবে সময়ই বলে দেবে তিনি নেতা হিসেবে নিজেকে কতটা প্রস্তুত করতে পারেন কিংবা আদৌ করেন কি-না,” বলছিলেন বিশ্লেষক মজিবুর রহমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না মাদক মামলার পলাতক আসামির

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না মাদক মামলার পলাতক আসামির

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।