খুঁজুন
, ,

ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবারে একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?

জবাবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে”।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য।

ভোট শেষে যেভাবে গণনা শুরু

একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

সাড়ে চারটার পরও যদি কোন কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ভোট গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।

সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেয়া হবে।

এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গণনা শুরু করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, “আলাদা দুই ধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়াও যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে”।

এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।

একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে দুইটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুইটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই”।

কেন্দ্রে ভোট গণনার পর

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, “রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধুমাত্র অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে”।

এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিল থাকতে হবে।

এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।

সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুইটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুইটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুইটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।

এই কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্তত দুইজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়/নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনাকৃত ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।

কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগে পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।

একইভাবে গণনা করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবেন। সেখানে প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যদি গণনা বা রেজাল্ট নিয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকে তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। যদি কমিশন অনুমতি দেয় তাহলেই কেবলমাত্র পুনঃগণনা করা হতে পারে।

এছাড়া যদি কোনো প্রার্থীর এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

​অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

​পরবর্তীতে বেলা ১২টায় আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুন্সি বিল্লাল হুসাইন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও মহানবীর শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও মানবতাবাদী শিক্ষা গ্রহণের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী প্রতিটি নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তাই সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ জীবন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।”

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। অনুষ্ঠানে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভাপতি শায়লা শারমীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদনের মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ মহানবী (স.)-এর আদর্শ ও তাঁর অনুপম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী (স.)-এর আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

পরে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।