খুঁজুন
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র, ১৪৩২

ভোট দিতে গেলে কি লাগবে এনআইডি কার্ড?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভোট দিতে গেলে কি লাগবে এনআইডি কার্ড?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে।

নির্বাচনের সময় ভোটারদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। কারো কার্ড হারিয়েছে, আবার কেউ হয়তো নতুন ভোটার কিন্তু এখনো হাতে এনআইডি কার্ড পাননি। এসব কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে—এনআইডি ছাড়া কি ভোট দেওয়া সম্ভব?

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেই তিনি ভোট দিতে পারবেন, এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড সঙ্গে না থাকলেও। অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগে এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক নয়।

এই পরিস্থিতিতে পোলিং অফিসার শুধু ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলেই ব্যালট পেপার দেওয়া হবে।

ভোট প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছ রাখতে ভোটারদের আগে থেকেই তাদের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জানা ভালো। ভোটাররা সহজেই এই তথ্য দেখে নিতে পারেন এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় সুবিধা পাবেন।

 

রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করলে নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি-না?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করলে নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি-না?

একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় খরচে হজে পাঠাচ্ছে প্রশিক্ষক হিসেবে। জানার বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় খরচে সে হজ করছে। অপরদিকে তার ওপর হজ ফরজ, কিন্তু এখনো সে তা আদায় করেনি। অতএব রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করার কারণে তার নিজের ফরজ হজ আদায় হবে কি না?

উত্তর : রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করার সময় নিজের ফরজ হজ আদায়ের নিয়ত করলে তা আদায় হয়ে যাবে। (আল আশবাহ : ১/১৩৫, আল হিন্দিয়াহ : ১/২১৭, ফাতাওয়া দারুল উলুম করাচি : ৩/১১৫)

শাওয়াল মাসে ওমরাহ করলে কি হজ ফরজ হয়ে যায়?

-মাওলানা জুবায়ের

উত্তরা, ঢাকা

উত্তর : হজ ফরজ নয় এমন ব্যক্তি যদি শাওয়াল মাসে ওমরা করার জন্য যায় অথবা রমজান মাসে ওমরা আদায়ের জন্য যায়, এরপর শাওয়াল মাসে ওমরা আদায় করে, তাহলে নিম্নবর্ণিত তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে তাঁর ওপর হজ ফরজ হয়ে যাবে।

১. হজ আদায় করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার আর্থিক সক্ষমতা থাকা, অথবা দেশে এসে পুনরায় যাওয়ার সক্ষমতা থাকা এবং যাদের ভরণ-পোষণ তাঁর জিম্মায় রয়েছে, হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের খরচ নির্বাহের সক্ষমতা থাকা। ২. রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি থাকা। ৩. ইতোপূর্বে ফরজ হজ আদায় না করা।

কিন্তু যদি আর্থিক সক্ষমতা না থাকে, কিংবা সক্ষমতা আছে তবে সৌদির রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি না থাকে, তাহলে হজ ফরজ হবে না। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে ফরজ হজ আদায় করেছে, শাওয়াল মাসে উমরা করার কারণে তাঁর ওপরও হজ ফরজ হবে না।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সৌদির রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে ওমরা আদায়কারীদের জন্য হজ পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি নেই। এজন্য বর্তমানে শাওয়াল মাসে ওমরা আদায় করলেও হজ ফরজ হবে না।

উত্তরদাতা

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান, জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, (মিরপুর-১২) ঢাকা

শিশু হাম আক্রান্ত হলে কী খাওয়াবেন, কী খাওয়ানো যাবে না

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
শিশু হাম আক্রান্ত হলে কী খাওয়াবেন, কী খাওয়ানো যাবে না

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও এতে আক্রান্ত হলে শিশুদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি। দেশের প্রথম সারির একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরামর্শ দেন তিনি।

রোগ-প্রতিরোধ বাড়াতে কী খাওয়াবেন?

পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশির মতে, শিশু হাম আক্রান্ত হলে প্রথমেই তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার।

শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপে অল্প পরিমাণ মুরগির মাংস ও ডিমের সাদা অংশ যোগ করা যেতে পারে, যা শিশুর শরীরের জন্য উপকারী। তবে এতে কোনো ধরনের মসলা ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রোসেসড খাবার থেকে দূরে রাখুন

অনেক সময় দেখা যায়, শিশু কিছু খেতে না চাইলে অভিভাবকরা তাকে চিপস বা প্রোসেসড খাবার দিয়ে দেন। কিন্তু এ অভ্যাসটি একেবারেই ঠিক নয়। প্রোসেসড ফুড সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং অসুস্থতার সময় তা আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।

চা-কফি কেন এড়িয়ে চলবেন?

শুধু শিশু নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও অসুস্থ অবস্থায় কিছু খেতে না পারলে চা বা কফি পান করতে চান। অনেকেই মনে করেন এতে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পানীয় উল্টো জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই হাম আক্রান্ত অবস্থায় চা-কফি পরিহার করাই উত্তম।

তরল ও প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব

হাম আক্রান্ত রোগীর জন্য তরল খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী। এর পাশাপাশি ফলমূল এবং ঘরে তৈরি ফলের জুস খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে জুস অবশ্যই বাসায় তৈরি হতে হবে এবং এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক উপাদান মেশানো যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ চিনি যোগ করা যেতে পারে। কারণ এ সময় শরীরে ক্যালোরির চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা না থাকলে পরিমিত চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।

অল্প অল্প করে, বারবার খাওয়ান

শিশুরা অসুস্থ অবস্থায় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে চায় না। তাই অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্য আনা জরুরি, যাতে শিশু আগ্রহ পায়।

খাবারের তালিকায় গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি রাখা যেতে পারে (যদি পেটের সমস্যা না থাকে)। স্যুপ বা সবজির সঙ্গে এগুলো ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ালে শিশুর জন্য তা সহজপাচ্য হয় এবং উপকার মেলে।

সব মিলিয়ে, হাম আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে শিশুর যত্ন নিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

লবণ দিয়ে তরমুজ খাওয়া—উপকার না অপকার? জানুন গবেষণার ফল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
লবণ দিয়ে তরমুজ খাওয়া—উপকার না অপকার? জানুন গবেষণার ফল

গরম পড়তে না পড়তেই বাজারে চলে এসেছে রসালো তরমুজ। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে আর তৃষ্ণা মেটাতে এই ফলের জুড়ি নেই।

তবে অনেকেই তরমুজে এক চিমটে লবণ বা চাটমশলা ছিটিয়ে খান। কেউ স্বাদের জন্য, কেউ আবার উপকারের আশায়। কিন্তু এই অভ্যাস কি সত্যিই উপকারী, নাকি কেবল স্বাদের ভিন্নতা? চলুন জেনে নেওয়া যাক, গবেষণা কী বলছে।

তরমুজের স্বাদ বাড়ায়

এক চিমটে লবণ তরমুজের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে, এমনটিই অনেকেরই অভিজ্ঞতা। ২০২৩ সালে ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, লবণে থাকা ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদের রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে তরমুজের প্রাকৃতিক মিষ্টতা আরও বেশি অনুভূত হয়। সহজভাবে বললে, লবণ তরমুজকে আরও মিষ্টি মনে হতে সাহায্য করে।

ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটায়

তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এতে পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলও রয়েছে। তবে সোডিয়ামের পরিমাণ কম। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়, তখন সামান্য লবণ যোগ করলে সোডিয়ামের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতে পারে। ফলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।

হজমে সহায়তা করে

লবণ পাকস্থলীতে পাচক রসের নিঃসরণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এতে খাবার দ্রুত হজম হতে পারে। তরমুজ যদিও সহজপাচ্য ফল, তারপরও অনেকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা যায়। এমন ক্ষেত্রে সামান্য লবণ ছিটিয়ে খেলে এই অস্বস্তি কমতে পারে।

কতটা লবণ ব্যবহার করবেন?

তবে পরিমাণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ দিলে তরমুজের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করতে পারে। তাই এক বাটি তরমুজের জন্য এক চিমটে লবণ বা চাটমশলাই যথেষ্ট। চাইলে বিট লবণ বা লেবুর রসও যোগ করা যেতে পারে, এতে স্বাদ আরও বাড়বে।

সূত্র : এই সময়