খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিচে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১০,৫৪০ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক — ১,৫৪,১৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৬,৪৭৬ ভোট

– মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৩৪,৩৮৭ ভোট

– মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) — মোটরসাইকেল — ২,১৫৯ ভোট

– মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) — রকেট — ৭৮৬ ভোট

– সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫০৬ ভোট

– মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ৪৫৫ ভোট

– শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) — উট — ৮৪ ভোট

এ আসনে মূল লড়াই হয় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান ইলিয়াস মোল্লা।

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,০৪১ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু জয়লাভ করেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২১,৬৯৪ ভোট (বিজয়ী)

– মাওলানা মো. আকরাম আলী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ৮৯,৩০৫ ভোট

– শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ২,৩৬৮ ভোট

– ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) — ট্রাক — ৬৭৫ ভোট

-আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) — আপেল — ৬১৭ ভোট

– মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) — ডাব — ২৫৭ ভোট

ধানের শীষ ও রিক্সা প্রতীকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩২,৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,৪৮,৫৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ১,২৪,১১৫ ভোট

– কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ৪,০২২ ভোট

– মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ১,২৫৩ ভোট

– মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৯৫৭ ভোট

– আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) — তারা — ২৫১ ভোট

এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৬,৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৭,৪৪৩ ভোট (বিজয়ী)

– মো. সরোয়ার হোসাইন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ৭৫,৮০৫ ভোট

– এ.এম. মুজাহিদ বেগ (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৫৬,১৬০ ভোট

– মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ১১,৪৯৮ ভোট

– মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) — ঘোড়া — ১,৭০৪ ভোট

– মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ১,১১৮ ভোট

– আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৭১৪ ভোট

– মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫৫০ ভোট

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বড় ব্যবধানে জয় পায়। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে। মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয়েছে।

চার আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং ফরিদপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয়ীরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিল—ভোটারদের রায়ে এবার বদলে গেছে কয়েকটি আসনের চিত্র, আবার কিছু আসনে আগের প্রভাবও বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ফরিদপুরে খাল পুনঃখনন দেখিয়ে বন বিভাগের দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে খাল পুনঃখনন দেখিয়ে বন বিভাগের দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের কয়েকশ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাছ কেটে প্রভাবশালীরা তা লোপাট করেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, বন বিভাগের তদারকির দুর্বলতা এবং সামাজিক বনায়ন কমিটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক বিএনপি নেতাদের দিকেও। যদিও ওই নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম সুইচগেট পর্যন্ত’ প্রায় দুই কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারীতে তিনটি খাল পুনঃখননের কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে এই খালটির কাজ ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।

সোমবার (১৮ মে) এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী শনিবার (২৩ মে) সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে কিনা এবং কারা জড়িত, এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে গুনবহা ইউনিয়নের তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। দীর্ঘদিনে নদের খালের দুই পাড়জুড়ে গড়ে ওঠে সবুজ বেষ্টনী। ওইসব গাছের মধ্যে অধিকাংশই ছিল মেহগনি ও শিশু প্রজাতির।

অভিযোগ উঠেছে, খাল পুনঃখননের সময় খালের দক্ষিণ পাড় থেকে অন্তত দুই থেকে তিন শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী কাটা গাছ বন বিভাগের জিম্মায় জমা না দিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন” শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

এরপর গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেমায়েতউদ্দিনের বাড়ি থেকে কেটে ফেলা প্রায় শতাধিক গাছের কান্ড ও গুড়ি জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকেই হেমায়েতউদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সমর্থকরাই গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত। তবে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বন বিভাগের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছ না কেটেও খাল খনন করা যেত। তাতে খাল থেকে যে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই মাটি ধরে রাখতে গাছ থাকলে আরো ভালো হয়।

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খননকাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকান্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বন বিভাগ থেকে কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কথা প্রথমদিকে তো শুনতেই চান না তারা, পরে না হয় আপনারা লেখালেখি করার কারণে হইতো সম্ভব হয়েছে গাছ কাটা ঠেকানো।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, বোয়ালমারী পাট উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। খালে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়ছেন। খাল খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ সম্ভব হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। তবে নিয়মের বাইরে কোনো গাছ কাটা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না; নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত গাছের গুড়ি গুলি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালে কত কিলোমিটার হাঁটা উচিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালে কত কিলোমিটার হাঁটা উচিত?

সকালের হাঁটা কেবল একটি সাধারণ রুটিন নয়, বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একটু দ্রুত হাঁটা আপনার শরীর ও মন উভয়কেই পুনরুজ্জীবিত করে এবং সারাদিনের জন্য একটি ইতিবাচক সুর তৈরি করে দেয়। তবে হাঁটার সুফলগুলো পুরোপুরি পেতে হলে আমাদের জানা প্রয়োজন ঠিক কতটুকু এবং কীভাবে হাঁটা উচিত।

কার জন্য কতটুকু হাঁটা প্রয়োজন?

শারীরিক সক্ষমতা ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে হাঁটার দূরত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে :

শিক্ষানবিশ পর্যায়: আপনি যদি নতুন হাঁটা শুরু করেন বা অনেক দিন পর শরীরচর্চায় ফেরেন, তবে শুরুতে খুব বেশি চাপ নেবেন না। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এটি ধীরে ধীরে আপনার স্ট্যামিনা বা সহ্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

মধ্যম পর্যায়: যারা মোটামুটি শারীরিকভাবে সক্রিয় এবং ফিটনেস বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার হাঁটা আদর্শ। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

উন্নত পর্যায়: যারা আগে থেকেই ফিট এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে চান, তারা প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার হাঁটতে পারেন। এটি অধিক ক্যালোরি পোড়ানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

হাঁটার আদর্শ সময় ও ধারাবাহিকতা

সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সময়টি হাঁটার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এই সময়ে বাতাস সতেজ থাকে, তাপমাত্রা সহনীয় থাকে এবং চারপাশে কোলাহল কম থাকে। তবে আপনি যদি সকালে সময় না পান, তবে দিনের যে কোনো সময় হাঁটতে পারেন; কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

সকালে হাঁটার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা

নিয়মিত সকালে হাঁটার নানাবিধ গুণাগুণ রয়েছে:

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: এটি রক্তচাপ কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত হাঁটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে মেদ কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক প্রশান্তি: হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়।

হজম ও ভালো ঘুম: এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং রাতে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।

হাঁটার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় টিপস

হাঁটার অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক জুতো ও পোশাক: আরামদায়ক ও সঠিক মাপের হাঁটার জুতো ব্যবহার করুন এবং আবহাওয়া অনুযায়ী হালকা পোশাক পরুন।

ওয়ার্ম-আপ: হাঁটা শুরুর আগে কয়েক মিনিট শরীর স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করে পেশিগুলোকে প্রস্তুত করে নিন।

পানি পান: হাঁটার আগে এক গ্লাস জল পান করুন এবং সঙ্গে জলের বোতল রাখুন, বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়েলনেস কর্নার

ঈদে সংবাদপত্রে ছুটি থাকবে যে ৫ দিন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদে সংবাদপত্রে ছুটি থাকবে যে ৫ দিন?

আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। সোমবার (১৮ মে) সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে।

নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্‌যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।

প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ২৫ মে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় এবারের ঈদে টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করবেন তারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ছুটি সমন্বয় করতে আগামী ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে ২৫ মে ছুটি যুক্ত হওয়ায় চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেকেই আগেভাগে রাজধানী ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জরুরি পরিষেবাগুলো এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, ডাক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাসহ জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যথারীতি চালু থাকবে। এ ছাড়া চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।