খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চারটি আসনে কার ঝুলিতে কত ভোট? ২৮ প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এক নজরে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। চার আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিচে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১০,৫৪০ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা প্রতীক — ১,৫৪,১৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৬,৪৭৬ ভোট

– মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৩৪,৩৮৭ ভোট

– মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) — মোটরসাইকেল — ২,১৫৯ ভোট

– মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) — রকেট — ৭৮৬ ভোট

– সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫০৬ ভোট

– মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ৪৫৫ ভোট

– শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) — উট — ৮৪ ভোট

এ আসনে মূল লড়াই হয় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান ইলিয়াস মোল্লা।

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩২,০৪১ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু জয়লাভ করেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২১,৬৯৪ ভোট (বিজয়ী)

– মাওলানা মো. আকরাম আলী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ৮৯,৩০৫ ভোট

– শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ২,৩৬৮ ভোট

– ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) — ট্রাক — ৬৭৫ ভোট

-আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) — আপেল — ৬১৭ ভোট

– মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) — ডাব — ২৫৭ ভোট

ধানের শীষ ও রিক্সা প্রতীকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হয়। প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩২,৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,৪৮,৫৪৫ ভোট (বিজয়ী)

– মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ১,২৪,১১৫ ভোট

– কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ৪,০২২ ভোট

– মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) — হরিণ — ১,২৫৩ ভোট

– মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৯৫৭ ভোট

– আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) — তারা — ২৫১ ভোট

এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৬,৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।

প্রার্থীদের ফলাফল:

– মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বিএনপি) — ধানের শীষ — ১,২৭,৪৪৩ ভোট (বিজয়ী)

– মো. সরোয়ার হোসাইন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) — দাঁড়িপাল্লা — ৭৫,৮০৫ ভোট

– এ.এম. মুজাহিদ বেগ (স্বতন্ত্র) — ফুটবল — ৫৬,১৬০ ভোট

– মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) — হাতপাখা — ১১,৪৯৮ ভোট

– মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) — ঘোড়া — ১,৭০৪ ভোট

– মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) — রিক্সা — ১,১১৮ ভোট

– আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) — কাস্তে — ৭১৪ ভোট

– মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) — লাঙ্গল — ৫৫০ ভোট

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বড় ব্যবধানে জয় পায়। প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে। মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয়েছে।

চার আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়লাভ করেছে এবং ফরিদপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজয়ীরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিল—ভোটারদের রায়ে এবার বদলে গেছে কয়েকটি আসনের চিত্র, আবার কিছু আসনে আগের প্রভাবও বজায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কত দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় শেখ খোরশেদ আহমেদ দোলন (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​আহত দোলন রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা যুবদলের সদস্য। আহত অন্য তিনজন হলেন— উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্যা (৫০) এবং বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ কলি মণ্ডল (৫০)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রামনগর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ নিয়োগের জন্য আবেদন করেন যুবদল সদস্য খোরশেদ আহমেদ দোলন এবং একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মান্নান মণ্ডলের ছেলে শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মণ্ডল (৩০)। এর মধ্যে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের নামে চূড়ান্তভাবে ডিলারশিপ পান তুষার মণ্ডল। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন দোলন।

​এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নগরকান্দা প্রেসক্লাবে নিয়োগবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দোলন ডিলারশিপ নিয়োগে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।

​দোলনের বড় ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ মিলনের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের কারণে তুষার মণ্ডল ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা দোলনের ওপর হামলা চালানো হয়।

​ফরিদ আহমেদ মিলন বলেন, “সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসেছিল দোলন। এ সময় তুষারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভাইকে বাঁচাতে গেলে অন্যদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। আমার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

​তিনি আরও বলেন, “সারা জীবন বিএনপি করেও আজ আমরা বঞ্চিত। টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

​ঘটনার বিষয়ে জানতে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তুষার মণ্ডলের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ফোনে চার্জ নেই’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

​নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বয়স এক হলেও সবাইকে কেন সমান তরুণ দেখায় না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
বয়স এক হলেও সবাইকে কেন সমান তরুণ দেখায় না?

একই বয়সের দুজন মানুষের মধ্যে চেহারা, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রাণশক্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। কাউকে দেখলে মনে হয় বয়স যেন তার ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলেনি।

আবার কারও চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে তুলনামূলক দ্রুত। এর পেছনে শুধু বংশগত বৈশিষ্ট্য বা ত্বকের যত্ন নয়, বরং জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রক্রিয়াও ভূমিকা রাখে।

জন্মতারিখ থেকে যে বয়স হিসাব করা হয়, তার সঙ্গে শরীরের জৈবিক অবস্থার সব সময় মিল থাকে না। তাই একই বয়সের মানুষের শরীরের বার্ধক্যও একই গতিতে এগোয় না।

শরীরের প্রকৃত বয়স বলতে কী বোঝায়?

জন্মের পর থেকে যত বছর পার হয়েছে, সেটি কালানুক্রমিক বয়স। অন্যদিকে শরীরের কোষ, টিস্যু ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ধারণাটি হলো জৈব বয়স।

সহজভাবে বললে, শরীর কতটা সুস্থভাবে কাজ করছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যায় জৈব বয়সের মাধ্যমে। তবে এটি নির্ধারণের কোনো একক ও সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি নেই।

জৈব বয়সের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বংশগত বৈশিষ্ট্য, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, শারীরিক পরিশ্রম, পুষ্টি, ঘুম, ধূমপান এবং পরিবেশগত নানা বিষয়। এসবের সম্মিলিত প্রভাবেই একই বয়সের দুজন মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও বাহ্যিক চেহারায় পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে কেন?

বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের গঠনে পরিবর্তন আসে। ফলে ত্বক আগের মতো টানটান থাকে না, বলিরেখা দেখা দিতে পারে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব, ধূমপান, দূষণ ও বংশগত বৈশিষ্ট্য এসব পরিবর্তনের গতিকে প্রভাবিত করে।

শুধু ত্বক নয়, চুলের রং, পেশির শক্তি, শরীরের চর্বির বণ্টন এবং চলাফেরার সক্ষমতাতেও বয়সের প্রভাব পড়ে। তবে এসব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না।

যেসব অভ্যাস বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে

জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিপরীতে, দীর্ঘদিন অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের বিভিন্ন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত কম ঘুম হলে মনোযোগ, কর্মক্ষমতা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। ঘুমের ঘাটতি চেহারায় ক্লান্তির ছাপও স্পষ্ট করে তুলতে পারে।

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কাজের ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারনির্ভর খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তে সুষম খাবার বেছে নেওয়া জরুরি। শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা না করার ফলে পেশির শক্তি, সহনশীলতা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ধূমপান ত্বকের অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। একইভাবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ত্বকে বলিরেখা, দাগ ও অন্যান্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন?

আগের তুলনায় বেশি ক্লান্ত লাগা, শরীরচর্চার সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়া কিংবা চুলের পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখেই জৈব বয়স বেড়ে গেছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

ক্লান্তি, চুল পড়া, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা ত্বকের সমস্যার পেছনে ঘুমের ঘাটতি, পুষ্টির অভাব, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কীভাবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকা যায়?

বয়স বাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি থামানো সম্ভব না হলেও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা যায়।

হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কিংবা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। পাশাপাশি পেশির শক্তি ধরে রাখতে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও উপকারী।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল, বাদাম ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। অতিরিক্ত চিনি ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর চেষ্টা করুন।

ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া, নিয়মিত হাঁটা, প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

বাইরে গেলে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, ত্বক পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলাও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের যথাযথ ব্যবস্থাপনা শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

বয়স নয়, সুস্থতাই হোক অগ্রাধিকার

একই বয়সের সবাইকে একই রকম তরুণ দেখাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বাহ্যিক চেহারা দিয়ে শরীরের প্রকৃত জৈব বয়সও নির্ভুলভাবে বোঝা যায় না। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের চেহারা বা বয়সের তুলনা না করে শরীরের সক্ষমতা, ঘুম, পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ জীবনযাপন বয়সের ছাপ পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস দীর্ঘদিন কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান শুরু করেছে সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে দুদক কার্যালয়ের একটি চৌকস টিম হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করে।

​দুদক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না দিয়ে হয়রানি করা, দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া আউটসোর্সিং নিয়োগে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার ও বিক্রি করার মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান শুরু করে।

​অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্রশাসনিক শাখা ও ফার্মেসি ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেজিস্টার যাচাই-বাছাই করেন।

​অন্যদিকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাক ও কর্মকর্তারা জানান, দুদকের তদন্ত কাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের দাপ্তরিক তথ্য দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজ জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হচ্ছে।

​তিনি আরও জানান, অভিযান এখনো চলছে। তদন্ত শেষে যেসব অনিয়ম বা তথ্য পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পর্যবেক্ষণ শেষ হলেই সামগ্রিক বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।