খুঁজুন
, ,

ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার ৭টি সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার ৭টি সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

বর্তমান জীবনে ওয়াশিং মেশিন একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাপড় ধোয়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হলেও, অনেক সময় আমরা এর পরিস্কার সংক্রান্ত গুরুত্ব উপেক্ষা করি। 

কিন্তু, ওয়াশিং মেশিন কিভাবে পরিষ্কার করে না জানা হলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, এমনকি কাপড়েও বাজে গন্ধ আসতে পারে।

তাই ওয়াশিং মেশিনের সঠিক পরিচর্যা করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই পোস্টে আমরা জানাবো কীভাবে সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতিতে ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করবেন।

কেন ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করা জরুরি?

প্রথমত, ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে অতিরিক্ত ময়লা ও জীবাণু জমে থাকতে পারে। যেহেতু এটি গরম ও আর্দ্র পরিবেশে কাজ করে, এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের জন্য একটি আদর্শ স্থান হয়ে ওঠে।

এছাড়া, ওয়াশিং মেশিনের ইনলেট ফিল্টার যদি ব্লক হয়ে যায়, তবে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা মেশিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

তবে, নিয়মিত পরিষ্কার করার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। চলুন, দেখে নিই ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার ৭টি সহজ পদ্ধতি।

ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার ৭টি সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি

১. গরম পানির সাইকেল চালানো

ওয়াশিং মেশিনের ড্রাম পরিষ্কার করার প্রথম পদক্ষেপ হলো হট সাইকেল চালানো। যদি আপনার মেশিনে হট ওয়াশের ব্যবস্থা থাকে, তবে প্রথমে মেশিনটি খালি রেখে গরম পানির সাইকেল চালান।

এটি ড্রামে জমে থাকা ময়লা, সাবান এবং ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করে, ফলে মেশিনটি হয়ে ওঠে আরও কার্যকরী।

যদি মেশিনে হট ওয়াশ ফিচার না থাকে, তবে সাধারণ পানি ভরে গরম পানি ঢেলে দিন এবং সাইকেল চালান। এতে মেশিনের ভিতরে জমে থাকা গন্ধ এবং ময়লা দূর হবে, যা মেশিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

২. ভিনেগার ও বেকিং সোডা ব্যবহার

ড্রামের গন্ধ দূর করার জন্য আপনি ভিনেগার এবং বেকিং সোডার সাহায্য নিতে পারেন। প্রথমে ১০০ মিলিলিটার সাদা ভিনেগার নিয়ে মেশিনে ভরে হট সাইকেল চালান।

এটি ড্রামের ভিতরে জমে থাকা জীবাণু এবং গন্ধ দূর করতে সহায়তা করবে। ভিনেগার প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাকৃতিক ডিটারজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং এটি খুবই কার্যকরী জীবাণু নাশক।

এরপর, এক কাপ বেকিং সোডা দিয়ে আবারও একটি দ্রুত সাইকেল চালান। এই পদ্ধতি ব্যবহারে ওয়াশিং মেশিনের ভেতরের দুর্গন্ধ এবং ময়লা পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে, ফলে আপনার মেশিন থাকবে সতেজ এবং পরিষ্কার।

৩. ডিটারজেন্ট ড্রয়ার পরিষ্কার করুন

ওয়াশিং মেশিনের ডিটারজেন্ট ড্রয়ার নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই ড্রয়ারে সময়ের সাথে সাথে সাবান এবং ডিটারজেন্ট জমে যেতে পারে, যা পরে মেশিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। ড্রয়ারটি বের করে গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

সাবান এবং ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ দূর করতে ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন, তবে তা সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

ড্রয়ার পরিষ্কার না হলে এটি মেশিনের ভিতরে অতিরিক্ত ময়লা ও জীবাণু জমতে সাহায্য করতে পারে, যা কাপড়ে নোংরা ফেলে। পরিশেষে, একটি ভেজা কাপড় দিয়ে ড্রয়ারটি ভালোভাবে মুছে নিন যাতে এটি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।

৪. ফিল্টার পরিষ্কার করুন

ওয়াশিং মেশিনের ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মেশিনের পানি নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

ফিল্টার যদি পরিষ্কার না করা হয়, তবে এতে ময়লা জমে গিয়ে পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারে না, যা মেশিনের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে।

প্রথমে, ফিল্টারটি বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর, পুরনো টুথব্রাশ দিয়ে ময়লা ঘষে পরিষ্কার করুন। এর ফলে ফিল্টারের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার হবে এবং মেশিনে পানি সঠিকভাবে বের হতে পারবে, ফলে মেশিনের জীবনকাল বাড়বে।

৫. সিল পরিষ্কার করুন

ফ্রন্ট লোডিং মেশিনের রাবার সিলটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, কারণ এখানে অনেক সময় ময়লা, ছত্রাক এবং জলাবদ্ধতা জমে যায়।

মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে সিলের চারপাশ মুছে ফেলুন এবং সাবান বা ভিনেগারের মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করুন।

এটি ওয়াশিং মেশিনের দুর্গন্ধ এবং জীবাণু থেকে রক্ষা করবে। সিল পরিষ্কার না হলে এটি মেশিনের অর্গানিক ময়লা জমানোর জন্য একটি আদর্শ জায়গা হয়ে ওঠে, যা পরে কাপড়ে গন্ধ এবং ময়লা ফেলার কারণ হতে পারে।

৬. মেশিনের বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন

ওয়াশিং মেশিনের বাইরের অংশটিও পরিষ্কার রাখা জরুরি। মেশিনের বাইরের কভার, দরজা এবং বেসিনে জমে থাকা ময়লা বা ধূলা নিয়মিত মুছে ফেলুন। এতে মেশিনের লুক ও কার্যকারিতা বজায় থাকবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বাইরের অংশ পরিষ্কার না করলে মেশিনের বাহ্যিক কাঠামো নষ্ট হতে পারে, এবং ধুলা বা ময়লা ভিতরে প্রবেশ করতে পারে, যা পরে ইন্টারনাল পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, মেশিনের বাইরের অংশও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা উচিত।

৭. মেশিনের দরজা খুলে রেখে শুকাতে দিন

মেশিন পরিষ্কারের পর, এর দরজা খুলে রেখে কিছু সময়ের জন্য শুকাতে দিন। এতে ভেতরে কোনো দুর্গন্ধ জমবে না এবং মেশিনটি ভালোভাবে শুকিয়ে যাবে।

বিশেষভাবে ফ্রন্ট লোডিং ওয়াশিং মেশিনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মেশিনের ভিতরের রাবার সিলের মধ্যে পানি জমে থাকে, যা দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে।

দরজা খুলে রাখলে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে, যা মেশিনের ভিতর সব ধরনের গন্ধ এবং আর্দ্রতা দূর করতে সাহায্য করে।

উপসংহার

ওয়াশিং মেশিন নিয়মিত পরিষ্কার করা শুধু এর কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে না, বরং এটি আপনার কাপড়কেও সুগন্ধি এবং জীবাণু মুক্ত রাখে।

আপনি যদি মাসে একবার ভালোভাবে ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করেন এবং সপ্তাহে একবার হট ওয়াশ সাইকেল চালান, তবে আপনার মেশিনটি দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী থাকবে।

এছাড়া, পরিষ্কার করার আগে মেশিনের ম্যানুয়াল দেখে নিন, কারণ কিছু মডেলে স্বয়ংক্রিয় পরিষ্কার ফিচার থাকে। আপনি যদি এই সহজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেন, তবে আপনার ওয়াশিং মেশিন হবে যেমন পরিষ্কার, তেমনি কার্যকরী!

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান

ফরিদপুরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আর বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্য ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বাইজিদ আহমদ শাহেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী শারাফাত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, পৌর আমির ড. এহসানুল মাহবুব রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বকুল, জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শাহ আব্দুল মতিন বিন আব্দুল বারী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শামসুরের স্ত্রী মেঘলা আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা সম্মান করে বাস্তবায়ন করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তারা অবিলম্বে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেমিনার শেষে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতা, দেশ-বিদেশের সবার কাছে দোয়া কামনা

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী আলেম মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বিরের মমতাময়ী মা আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম (ব্রিটিশ নাগরিক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমার মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং কষ্ট লাঘব করেন—এই দোয়াই সকলের কাছে কামনা করছি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বয়সজনিত কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মাওলানা এম এ করিমের মায়ের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করছেন। অনেকে আল্লাহর কাছে তাঁর রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত প্রার্থনা করেছেন।

ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও আলহাজ্ব মোছা. কমলা বেগমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং একজন মায়ের সুস্থতার জন্য সন্তানের এই আবেদন মানবিকতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির শেষবারের মতো আবারও সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সবাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে তাঁর মায়ের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করেন।

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান, ফরিদপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত

‘সবার জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত পরিবার, টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।

এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।