বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন। শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতিতে নেমেছে রঙিন উচ্ছ্বাস, বাতাসে ভাসছে নতুন ঋতুর গন্ধ। কোকিলের ডাক আর ফুলের সুবাসে মুখরিত এই দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যা পরিচিত Valentine’s Day নামে। ফলে দিনটি যেন একসঙ্গে প্রকৃতি ও হৃদয়ের উৎসব।
প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন দেখা যায় দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিনটি ঘিরে থাকে বাড়তি উচ্ছ্বাস। কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে যান, কেউ বা উপহার, ফুল, চকলেট কিংবা কার্ডের মাধ্যমে মনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা বা গাঁদা ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নগরীর রেস্তোরাঁ, পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও দেখা যায় ভিড়।
তবে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কেই নয়, ভালোবাসা দিবস এখন পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাবা-মা, সন্তান বা প্রিয় বন্ধুকে ছোট উপহার দিয়ে কিংবা একসঙ্গে সময় কাটিয়ে দিনটিকে বিশেষ করে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার প্রবণতা বেড়ে যায় এদিন।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। প্রচলিত মতে, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে ইতালির রোমে Saint Valentine নামে এক খ্রিস্টান পাদ্রী গোপনে তরুণ-তরুণীদের বিয়ে দিতেন। সে সময়ের শাসক Claudius II সৈন্যদের অবিবাহিত রাখতে চেয়েছিলেন। এই আদেশ অমান্য করায় ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্মরণেই দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, দিবসটির উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত রয়েছে এবং এটি ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশেও গত কয়েক দশকে ভালোবাসা দিবস জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একই দিনে পহেলা ফাল্গুন হওয়ায় এ দেশের মানুষ দ্বিগুণ আনন্দে দিনটি উদযাপন করেন। হলুদ-লাল পোশাকে সাজসজ্জা, ফুলের মালা, কপালে ফাল্গুনের টিপ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে অনেকে মনে করেন, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন ও সম্মানই প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবু বিশেষ একটি দিন মানুষকে অনুভূতি প্রকাশের সাহস ও সুযোগ করে দেয়—এ কথা অস্বীকার করা যায় না।
বসন্তের রঙিন সকালে তাই বলা যায়, আজ শুধু একটি দিবস নয়; এটি হৃদয়ের ভাষা জানানোর দিন। প্রিয়জনের হাত ধরে কিছুটা সময় কাটানো, একটি আন্তরিক চিঠি কিংবা একটি লাল গোলাপ—এসব ছোট আয়োজনই হয়তো দিনটিকে করে তুলতে পারে স্মরণীয়।

আপনার মতামত লিখুন
Array