খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সব কথা বলা উচিত নয়—যে ৭ পরিস্থিতিতে চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
সব কথা বলা উচিত নয়—যে ৭ পরিস্থিতিতে চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ?

কথা তো বলতেই হয়। তবে জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন চুপ থাকলেই ভালো। মনের কথা বলে যেমন নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা দরকার, তেমনই কোথায় চুপ থাকাটা জরুরি তা জানাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-

রাগের সময় :

রাগের সময়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে পারে। রাগের মাথায় একবার কোনও কথা বেরিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। রাগের সময় জিনিস ছুড়তে গিয়ে যদি প্রিয়জনের আঘাত লাগে, সেটা মোটেই ভালো কথা নয়। আবার নিজেকে সংযত করতে না পেরে এমন ভাষা ব্যবহার করলেন, যা অন্য দিকের মানুষটিকে তীব্র ভবে আঘাত করল, সেটাও ঠিক নয়। তাই যখন প্রচণ্ড রাগ হয়, নিজেকে সংযত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। খানিক ক্ষণ চুপ করে থাকলে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স শান্ত হয়।

রাগ কমাতে নানা কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন। বাথরুমে গিয়ে পায়ে ঠান্ডা পানি ঢালুন, কিংবা ঘরে গিয়ে চুপ করে বসে থাকুন। কান্না পেলে কাঁদুন, কষ্ট হলে লিখে ফেলুন ডায়েরিতে। চাইলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও করতে পারেন।

একজন যখন চিৎকার করে :

কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি এক জন চিৎকার করে তখন শান্ত হয়ে যান। শুনতে থাকুন। যখন অন্যের থেকে কোনও কথা বা বিশেষ সত্যি জানতে চাইছেন, তখন এমন কৌশল কাজে আসতে পারে।

দু’জনের তর্ক-বিতর্কের মাঝে:

দু’জনের তর্ক-বিতর্কের মাঝে কোনও এক পক্ষের হয়ে কথা বলতে গেলেও পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।কারণ, সেই সময় কেউই ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন না।বরং সেই সময় চুপ থাকাই ভালো। তা না হলে সমস্যা আরও বাড়বে।

শোনা দরকার:

কোনও বিষয় নিয়ে যখন ঝামেলা চলছে, তখন প্রত্যেকেই নিজের সমর্থনে অন্যকে পাশে পেতে চাইবেন। এই সময় না শুনে, না বুঝে কাউকে সমর্থন করার চেয়ে চুপ করে উভয়েরই কথা শোনা দরকার। সবটা শুনে নিজের পরামর্শ দিতে পারেন।

গুরুত্বহীন বিষয়ে অযথা তর্ক না করা:

তুচ্ছ বিষয়ে কারও সঙ্গে তর্ক করলে সময় নষ্ট হয়, সম্মানহানিও হতে পারে। তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকাটাই ভালো।

সমালোচনায় অংশ না নেওয়া :

আপনি যদি কারও সমালোচনা করেন, তাহলে পরবর্তীকালে আপনারও সমালোচনা হতে পারে। এই কারণে কখনও অন্যদের বিষয়ে খারাপ কথা বলা উচিত নয়।

সূত্র : সমকাল

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বন্ধুসভার উদ্যোগে ও সন্ধায়  হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে ব্রাহ্ম সমাজ সড়কে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

বক্তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে “পাশবিক ও নৃশংস” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে “শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা রায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব মফিজ ইমাম মিলন,  জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা খানম, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ব্রাহ্ম সমাজ সড়কের  মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন, তাহসিন জেবা ও লূবাবাতুল জান্নাত।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিশু ও নারীরা ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এমনকি জনপরিসরেও নিরাপদ নয়। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সমাজকে গভীর সংকটে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।

ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২২ মে) এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. জনি (১৯) বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামে তিনজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গত ১৪ মে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। কয়েকদিন সেখানে রাখার পর গত ২১ মে সকালে তাকে কোতোয়ালি থানাধীন রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করার চেষ্টা চলছে ভুক্তভোগী বুঝতে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করে পালিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীর সামনে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৭৮।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস। তবে এলাকায় তিনি ‘দুঃখীরাম’ নামেই বেশি পরিচিত। জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও বার্ধক্য ও অসুস্থতা যেন তাকে এনে দিয়েছে চরম অসহায়ত্বের জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন দুঃখীরাম। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর শারীরিক অক্ষমতায় মানবেতর জীবন কাটছিল তার।

এমন সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার কৃতি সন্তান ও গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজওয়ান আহমেদ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে তিনি দুঃখীরামের বাড়িতে গিয়ে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেন তার হাতে।

হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখীরাম। দীর্ঘদিন পর যেন তার মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর নতুন করে বাঁচার হাসি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন অন্যের সহায়তা ছাড়া নড়াচড়া করাও ছিল তার জন্য কষ্টকর। এখন অন্তত নিজের মতো করে কিছুটা চলাফেরা করতে পারবেন তিনি।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসী রেজওয়ান আহমেদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজে এমন সহমর্মী মানুষই অসহায়দের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখান।
জানা যায়, গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাদ্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থান তৈরির মতো নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

রেজওয়ান আহমেদ বলেন, “মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় মানবতা। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে নিজের ভেতর এক ধরনের আত্মিক শান্তি কাজ করে। দুঃখীরামের মতো একজন পা হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। একটি হুইল চেয়ার হয়তো তার জীবনের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু তাকে নতুন করে চলার সাহস দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সবসময় মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।”