খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা—কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদের মতামত

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০২ এএম
ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা—কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদের মতামত

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়।

ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন-

ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়।

সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে।

বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : ইমিউনস সাইন্স

“এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ এএম
“এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে”

সবুজের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি নিঃশব্দ এক অপেক্ষায়,
হাওয়ার নরম ছোঁয়ায় ভেসে আসে পুরোনো দিনের গন্ধ।
সরিষা ফুলের হলুদে মিশে আছে তার হাসির আলো,
যেন প্রতিটি পাপড়ি জানে তার অদেখা গল্প।

এই পথ ধরে একদিন হেঁটেছিলাম দু’জন পাশাপাশি,
মাটির গন্ধে মিশে ছিল আমাদের স্বপ্নের শব্দ।
আজ সেই পথ ফাঁকা, শুধু আমি আর নীরবতা,
তবুও মনে হয়, সে বুঝি ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে।

দূরের আকাশে মেঘ জমে, ঠিক তার চোখের মতো,
যেখানে লুকানো ছিল এক গভীর অচেনা ব্যথা।
বাতাসে চুল উড়ে যায়, ঠিক তার স্পর্শের মতো,
মনে হয় সে আবার ছুঁয়ে দিল আমাকে নিঃশব্দে।

এই সবুজ মাঠ জানে আমার সব গোপন কথা,
জানে আমি কতটা খুঁজি তাকে প্রতিটি বিকেলে।
ফুলের গন্ধে ভেসে আসে তার নামের উচ্চারণ,
যেন প্রকৃতি নিজেই তাকে ডাকছে ফিরে আসতে।

আমি হাত বাড়াই, ধরতে চাই সেই হারানো মুহূর্ত,
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর, থেমে থাকে না কখনো।
স্মৃতিরা শুধু পিছু নেয়, ছায়ার মতো অবিরাম,
আর আমি হারিয়ে যাই তার অনুপস্থিতির ভিড়ে।

এই নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আজও ভাবি,
সে কি কোথাও আমাকেই খুঁজে ফিরছে একা?
নাকি ভুলে গেছে সব, রেখে গেছে শুধু স্মৃতি,
যা আমার হৃদয়ে জেগে থাকে প্রতিটি ক্ষণে।

পাখিরা ডাকে, যেন তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি,
দূরের নদী বয়ে যায়, তারই মতো নিরবধি।
আমি শুনি, আমি বুঝি, তবুও পাই না তাকে,
শুধু অনুভব করি, সে আছে কোথাও।

এই প্রকৃতির গায়ে আজও খুঁজি তাকে,
প্রতিটি রঙে, প্রতিটি ছোঁয়ায়, প্রতিটি গন্ধে।
হয়তো সে নেই, তবুও আছে আমার চারপাশে,
মিশে আছে এই সবুজে, এই আকাশে, এই বাতাসে।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি, অপেক্ষা করি নীরবে,
হয়তো কোনোদিন ফিরে আসবে সে আবার।
ততদিন এই প্রকৃতিই হবে আমার সঙ্গী,
আর তার স্মৃতিই হবে আমার একমাত্র আশ্রয়।

ফরিদপুর-৪: প্রথম রোজায় একই দস্তরখানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি বাবুল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৬ এএম
ফরিদপুর-৪: প্রথম রোজায় একই দস্তরখানে এতিমদের সঙ্গে ইফতার, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি বাবুল

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনটি ভিন্নধর্মী এক মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে মাদানীনগর মাদ্রাসার কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই দস্তরখানে বসে রোজা ভাঙেন তিনি। এ সময় শিশুদের সঙ্গে খোঁজখবর নেওয়া, কথা বলা এবং তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জনপ্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বাবুল।

ইফতার অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা বা দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। পুরো আয়োজনটি ছিল সাদামাটা ও আন্তরিকতায় ভরপুর। এতিম শিশুদের সঙ্গে রমজানের প্রথম ইফতার ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “রমজান আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই হবে প্রকৃত ইবাদত।” তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মাদানীনগর মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি সরাসরি এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতার করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এতে শিশুদের মাঝে উৎসাহ ও ভালো লাগা তৈরি হয়েছে।

ইফতার শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

খ্যাতির চেয়েও বড় পরিবার—শাহরুখ খানের জীবনের আসল গল্প

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৯ এএম
খ্যাতির চেয়েও বড় পরিবার—শাহরুখ খানের জীবনের আসল গল্প

রুপালি পর্দার মত নিজের পরিবারেও ‘হিরো’ বলিউডি নায়ক শাহরুখ খান। তিনি যে কেবল একজন তারকা হিসেবে ‘অসাধারণ জীবন কাটাচ্ছেন’ তা নয়, পিতৃত্ব নিয়েও তৃপ্ত ‘বলিউড বাদশা’।

নিজেকে আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামের ‘গর্বিত বাবা’ বলে মনে করেন। তার জীবন এবং পছন্দের ব্যাপারে সন্তানদের প্রভাব যে কতটুকু, তা নিয়েও অকপট শাহরুখ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনে সন্তানদের প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ‘কিং খান’।

শাহরুখের ভাষ্য, এখনো ব্যক্তিগত এবং পেশাগত বিষয়ে পরিবার তাকে নির্দেশনা দেয়।

“সন্তানরাই আমার সেরা সমালোচক। পরিবারই আমাকে পথ দেখায়, যত ব্যস্তই থাকি না কেন, তারাই আমাকে মাটিতে রাখে আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেয়।”

উত্তরাধিকার নিয়ে নিজের ধারণাও তুলে ধরেন শাহরুখ।

‘পাঠান’ তারকার ভাষায়, “শুধু পেশাগত সাফল্য দিয়েই নয়, পরিবারের সাথে মূল্যবোধ এবং নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করার মধ্যে দিয়েও আমি একে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। উভয়ের ভারসাম্য রাখতে হবে। আমি আমার আবেগ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাবা হওয়ার নির্মল আনন্দগুলোকে কখনোই হারিয়ে ফেলি না।”

আরিয়ানের সাথে কাজ

‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে হাতেখড়ি হয়েছে শাহরুখ তনয় আরিয়ান খানের। এর আগে বাবা-ছেলে মিলে কাজ করেছেন ‘দ্য লায়ন কিং’য়ে। ১৯৯৩ সালের অ্যানিমেটেড এই ক্লাসিক নতুন করে জন ফ্যাব্রো নির্মাণ করেন ২০১৯ সালে। যেখানে মুফাসা চরিত্রে শাহরুখ আর সিমবা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আরিয়ান।

সেই অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেছেন শাহরুখ।

“‘দ্য লায়ন কিং’ যখন মুক্তি পায়, সময়টা এখনো মনে আছে আমার, কীভাবে এর চরিত্রগুলো আর সাউন্ডট্র্যাকে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ছেলেমেয়েরা যখন বড় হচ্ছিল, তখন এটি আমাদের রাতে দেখার মতো অন্যতম সিনেমা হয়ে উঠেছিল। তাদের সাথে এর জাদু ভাগাভাগি করা আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি। তারপর থেকে, সম্পর্কটা আরো গভীর হয়েছে। আমার সন্তানরাই এই গল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।”

সন্তানদের বেড়ে ওঠা নিয়েও তৃপ্ত শাহরুখ।

‘ডিডিএলজে’ (দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে) তারকা বলেন, “আমি সন্তানদের নিয়ে খুবই গর্বিত। পারফরমার এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের বেড়ে উঠতে দেখাটাও আমার জন্য সৌভাগ্যের।”

সৃজনশীর বিষয়ে সন্তানদের সঙ্গে কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, “কণ্ঠ দেওয়াটা সবসময়ই মজার। …আমি তাদের শুধু দেখিয়ে দিয়েছি, তারা নিজেদের কৌতুহল আর কল্পনার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমার চোখ খুলে দিয়েছে।”

শৈশবের কথাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে।

শাহরুখ বলেন, “আমার বাবা আমার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে কার্পণ্য করেননি। আশা করি, আমি একইভাবে আমার সন্তানদের নিজস্ব পথে হাঁটার স্বাধীনতা ও সুযোগ তৈরির পথ দেখাতে পারব।”

মুম্বাইয়ের শুরুর দিনগুলো

মুম্বাইয়ের শুরুর দিনগুলোও ভোলেননি শাহরুখ।

“যখন আমি প্রথম মুম্বাইয়ে আসি, একদিন জলের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, অল্প নিশ্চয়তা আর বিশাল আশা নিয়ে। ভাবছিলাম, আমি কী হতে চাই। সেই মুহূর্তটা আমার এখনো মনে আছে।

“সমুদ্র আপনাকে নত হতে শেখাবে। আপনি অনুধাবন করতে পারবেন, সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই। সেই বিশালতা মনে করিয়ে দেবে, আপনার চাইতে বিশাল অনেক কিছুই আছে। বড় স্বপ্ন দেখা এবং কিছু ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই বছরের পর বছর ধরে চলছি।”

সামনে আসতে চলেছে শাহরুখ খানের ‘কিং’ সিনেমা। ডিসেম্বরে এটি প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে। এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মত মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে দেখা যাবে শাহরুখকে।