খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুটি ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘটনায় ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক সিপাহীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোয়ালমারী গরুহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বপন ঘোষ বোয়ালমারী পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি ভ্যাট বকেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি দুই দফায় ৮ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ জানান, “ভুয়া পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী প্রান্ত সাহা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে মামলা করা হবে বলে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পরে তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

তবে সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি কাজে বোয়ালমারীতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী নিজেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যা আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে আমাকে অপদস্ত করা হয় এবং পুলিশ এসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো ঘুষ নিইনি।”

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ কখনো নিজেকে মুস্তাইন শাহ মামুন হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করতেন। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজস রয়েছে কি না—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনা দুটির পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

‘নক্ষত্রেরও পতন হয়’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ এএম
‘নক্ষত্রেরও পতন হয়’

আকাশের ওই আলোকবর্তিকা, যাকে ভাবো অবিনাশী,
সময়ের টানে তারও চিবুকে জমে বিষাদের রাশি।
উজ্জ্বল শিখা জ্বেলে যে জানায় অস্তিত্বের দোহাই,
মহাকালের গর্ভে একদিন সেও হয়ে যায় ছাই।
​অহংকারের উচ্চাসনে যার নিত্য বসবাস,
আঁধারে বিলীন হওয়াই তার চরম ইতিহাস।

নক্ষত্র ঝরলে আকাশ কি আর রয় না আগের মতো?
শূন্যতা ঠিকই ভরে ওঠে, আড়ালে শুকায় ক্ষত।
​আসলে উচ্চতা মানেই পতন আর ধূলিকণার টান,
শেষের আগে কেউই বোঝে না এই ধরণীর বিধান।
​যাদের দাপটে কাঁপে মেদিনী, জৌলুস ঝরে গায়,
তারাও তো একদিন ম্লান হয় নিঃসঙ্গ বিদায়।

শিখর ছোঁয়া মানেই তো নয় চিরস্থায়ী কোনো ঘর,
মাটির পৃথিবীতে সবাই আমরা দু’দিনের যাযাবর।
​আলোর নেশায় মত্ত যারা ভুলে যায় নিজ ছায়া,
দিনশেষে সবই মিছে খেলা, স্রেফ কুহেলিকা মায়া।

অন্ধকারই শেষ গন্তব্য, নিভে যায় সব প্রাণ,
অস্তিত্বের লড়াই শেষে থাকে শুধু ব্যবধান।
​রাজপ্রাসাদ কি কুঁড়েঘর, ওই নক্ষত্র কি ধূলি—
সবাইকে তো থামতে হবে এক সমান পাল্লায় ঝুলি।

চরভদ্রাসনে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান, একদিনেই ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ এএম
চরভদ্রাসনে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান, একদিনেই ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন সদর বাজারে ভেজাল পণ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রমজানকে সামনে রেখে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান।

অভিযানে সদর বাজারের বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভেজাল কসমেটিকস উৎপাদন ও বিপণনের দায়ে ‘সিনহা কসমেটিকস’কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪১ ও ৫০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ‘হাসান স্টোর’কে ১ হাজার টাকা, ‘লিটন স্টোর’কে ২ হাজার টাকা এবং ‘আমিন স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ভেজাল শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে ‘সিরাজ স্টোর’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে একই অভিযানে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে। তারা ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে, যাতে বাজারে স্বচ্ছতা ও নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা যায়।

মধুখালীতে হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শনে এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সেবার মানে বড় বার্তা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
মধুখালীতে হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শনে এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সেবার মানে বড় বার্তা

ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস মোল্লা মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামো ও জনবল পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে এমপি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটসমূহ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ শুনেন।

পরিদর্শনের আগে তিনি নিজেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সেবার মান উন্নয়নে সচেতনতার বার্তা দেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুন হাসান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমপির কাছে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, শয্যা সংকট এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতির বিষয় তুলে ধরেন। এছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবা দিতে নানা সীমাবদ্ধতার কথাও জানান তারা।

পরিদর্শন শেষে এমপি প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের সেবা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। এই অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সেজন্য হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।