খুঁজুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২

অসত্য প্রত্যয়নপত্রে বিচার ব্যাহত! গণপূর্তের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম
অসত্য প্রত্যয়নপত্রে বিচার ব্যাহত! গণপূর্তের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

সরকারি দপ্তরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মো. রকি হাসান। একই সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আ. রহমান (বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০) এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিরিনা পারভীন (বর্তমানে ফরিদপুরে কর্মরত) তার দায়ের করা একাধিক মামলায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

তিনি দাবি করেন, যশোরের আমলী আদালতে দায়ের করা পি-৫৭১/২৩ এবং পি-৯২৭/২৪ নম্বর মামলায় উক্ত দুই কর্মকর্তা ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দেন, যেখানে উল্লেখ ছিল যে, ঘটনার দিন ২৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তারা ওইদিন কর্মস্থলে ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রকি হাসানের ভাষ্য, “সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তারা আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করেছেন। এতে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি প্রথমে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং পরে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে সরকারি অভিযোগ ব্যবস্থাপনা (GRS) প্ল্যাটফর্মে ট্র্যাকিং নম্বরসহ অভিযোগ করলেও সেখানে “ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি” বলে জানানো হয়।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, পরবর্তীতে একই ঘটনায় দায়ের করা সি আর মামলা নং CR-১৪৭২/২৫ তদন্তের জন্য যশোর সিআইডি দপ্তরে পাঠানো হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ইতোমধ্যে মামলায় সমন জারি হয়েছে এবং শুনানির তারিখও নির্ধারিত হয়েছে।

এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন তাকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জারি করা এক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, একই ব্যক্তি গত ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যেখানে তিনি হুমকি ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকালে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ফরিদপুরগামী একটি বাসে করে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুরে ফেরার সময় ফরিদপুর গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারে অবস্থানকালে নামাজের সময় একাধিক অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে কল দেওয়া হয়। পরে নিজেকে বাসের সহকারী পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে দ্রুত বাসে উঠতে বলেন।

নামাজ শেষে বের হলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি অফিস কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তারা তার বিরুদ্ধে প্রাক্তন স্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি অডিও রেকর্ডিং শোনায়, যা তিনি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন।

রকি হাসান অভিযোগ করেন, “পূর্বেও আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বাস কাউন্টার ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যেখানে পুরো ঘটনা রেকর্ড থাকার কথা। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ডিউটি অফিসার জিডিটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জিডি নম্বর ৮৬৩ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DMAF87 হিসেবে এটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রদান গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে ভুক্তভোগী রকি হাসান সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভাঙ্গায় হত্যা ও ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে এসপি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভাঙ্গায় হত্যা ও ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে এসপি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সংঘটিত একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার তদন্ত জোরদার করতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং তদন্তে গতি আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার মধ্যে রয়েছে—মামলা নং ২৮/২৮ (তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪), মামলা নং ২৯/২৯ (তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭) এবং মামলা নং ১২/৪৫ (তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪)। এসব মামলায় হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ঘটনাগুলোর আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এ সময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলে আশ্বাস দেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সব ধরনের প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছি। খুব দ্রুতই এসব ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রিজওয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, পুলিশের সক্রিয় তৎপরতায় দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।

ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু, মিলবে দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু, মিলবে দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা

ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজলভ্য করতে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদস্যরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেন। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য থেকেই ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত, নির্ভুল ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে। এতে করে সদস্যদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ঝামেলা কমবে এবং সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে।”

তিনি জানান, নতুন প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট স্বল্প সময়ে পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এ হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন এবং ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশুসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, আগে ছোটখাটো পরীক্ষার জন্যও বাইরে যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু হওয়ায় এখন হাসপাতালে বসেই দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে, যা তাদের জন্য অনেক স্বস্তির বিষয়।

পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও এই সেবার আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সার্বিকভাবে পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশ।

আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৫০ মন পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১নং বুড়াইচ ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে। ভুক্তভোগী কৃষক মো. ইনামুল হক (রুবেল) জানান, তিনি চলতি মৌসুমে শিয়ালদী ও শৈলমারী মৌজায় প্রায় ৩ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। ভালো ফলনের আশায় তিনি সার, সেচ ও পরিচর্যায় যথেষ্ট শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তিনি বলেন, “গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো ক্ষেত পরিদর্শন করে বাড়ি ফিরে যাই। পরদিন সকালে আবার ক্ষেতে গিয়ে দেখি, ক্ষেতের বড় অংশ থেকে পাকা ও আধা-পাকা পেঁয়াজ তুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ নেই।”

তিনি আরও জানান, কিছু পেঁয়াজ ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে চোরেরা তাড়াহুড়ো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের মতে, সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই চুরি সংঘটিত করেছে। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল এভাবে লুট হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজ পণ্য চুরির ঘটনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস শেখ (৬০), মো. রমিজ উদ্দিন (২৫) ও মো. ফারুক আহম্মেদ (৬০) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে চোরদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।