খুঁজুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন জীবন বাঁচানোর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন জীবন বাঁচানোর উপায়

এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক।

এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না।

ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন?

প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়।

কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে

শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়।

এক বছরের বেশি বয়স হলে

এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

যেসব ভুল করবেন না

সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না।

খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়।

শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: ‘আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের’ প্রতিবাদে আসিফের গ্রেপ্তার দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: ‘আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের’ প্রতিবাদে আসিফের গ্রেপ্তার দাবি

ফরিদপুরে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপনকে নিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফের ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে তার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে বলেও দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানহানি করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি অনিক খান জিতুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রহমান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে।

সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল জনতা ব্যাংক মোড়ের আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

সালথায় যুব অধিকার পরিষদের সচেতনতামূলক সভা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
সালথায় যুব অধিকার পরিষদের সচেতনতামূলক সভা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান

“মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

যুব অধিকার পরিষদের সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইমারত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ফরিদপুর জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল ভান্ডারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী (ট্রাক) ও উপজেলা সভাপতি ফারুক ফকির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা থানার এসআই অপূর্ব, যুব অধিকার পরিষদ ফরিদপুর জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন বিপুল এবং সালথা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক ফকির বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে।

তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”

বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও তারা মত দেন।

সভা শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন, স্কুল-কলেজে প্রচার কার্যক্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফরিদপুরে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকর মামলার আসামি প্রদীপ পালকে (৪০) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল র‌্যাব-১১-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ পাল ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জালালচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে অশ্লীল, মানহানিকর ও ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করেন এবং চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫, ২৬ ও ২৭ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই ফরিদপুর তদন্ত চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম এলাকার শংকর কুমার পাল (৩৩)-এর নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কোরআন অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, প্রতারণাসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে।