খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সেহরি কখন খাবেন? যা বলা হয়েছে হাদিসে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
সেহরি কখন খাবেন? যা বলা হয়েছে হাদিসে

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)

অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)

কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?

হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)

সেহরি খাওয়ার দোয়া

সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}

অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশে তিনি নিজের সন্তানের বইখাতাও পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাহিদ শেখ ওই গ্রামের মৃত আকুব্বর শেখের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করলেও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বরং বর্তমানে আরও সক্রিয়ভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের বড় ছেলে আশিক শেখ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হওয়ায় সে বাবাকে এই পথ থেকে ফিরে আসতে বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাহিদ। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বাড়িতে মাদক সেবনের সময় স্ত্রী ও ছেলে বাধা দিলে তাদের ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতাও আগুনে পুড়িয়ে দেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের শিকার সাহিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং সংসারের দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করেন না। মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দিলেই তিনি প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ছোট সন্তান জুনায়েদকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে নিজের বাবার বিরুদ্ধে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিক শেখ।

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

স্বপ্ন কেন দেখি? জানুন মজার তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৫ এএম
স্বপ্ন কেন দেখি? জানুন মজার তথ্য

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। কিছু স্বপ্ন আমরা মনে রাখি, মানে খুঁজি, কখনো বাস্তবের সঙ্গে মেলাতেও চেষ্টা করি। 

আসুন স্বপ্ন নিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য জেনে নেই: 

আমরা মনে করি স্বপ্ন নাকি সাদা-কালো হয়। কিন্তু এ ধারণাটা মোটেই ঠিক না।

শতকরা মাত্র ১২ ভাগ লোক সাদা-কালো স্বপ্ন দেখেন। বাকিদের স্বপ্নে ধরা দেয় নানা রং।

আমরা যে স্বপ্ন দেখি তার অধিকাংশই হারিয়ে ফেলি বা ভুলে যাই। তবে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় যদি আপনি কোনো স্বপ্ন দেখেন তাহলে তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় সবই আপনার মনে থাকবে।

সাধারণত ভোরের স্বপ্নগুলো এমন হয়।

এমন মানুষ খুব কমই আছেন যারা রাতে মাত্র একটি স্বপ্ন দেখেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন মানুষ প্রতি রাতে পাঁচ-সাতটি স্বপ্ন দেখেন। কখনো কখনো তা ডজনও ছাড়িয়ে যায়।

স্বপ্ন নিয়ে আরেকটি মজার তথ্য হলো- তিন থেকে আট বছরের শিশুরা যে স্বপ্ন দেখে তার বেশির ভাগই দুঃস্বপ্ন।
জানেন কি? অন্ধরাও স্বপ্ন দেখেন। যারা জন্মান্ধ নয়, জন্মের পর কোনো কারণে অন্ধ হয়ে গেছেন তাদের স্বপ্ন দৃশ্য যোগ্যই হয়।

স্বপ্নে আমরা এমন অনেক অদ্ভুত জিনিস দেখি যা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। বিষয়গুলো ব্যক্তি মানুষের ওপর নির্ভর করে।

যা আমরা বাস্তবে বা টিভিতে দেখি, কিন্তু যেগুলো ঠিক মনে করতে পারি না। আমাদের অবচেতন মনের কোনো এক কোনায় তা হয়তো জমা থাকে। আর স্বপ্নে এরই প্রতিফলনই দেখতে পাই আমরা।

নারী-পুরুষের স্বপ্নের ধরণ আলাদা। পুরুষের সাধারণত স্বপ্নেও তাদের লিঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু নারীর স্বপ্ন সার্বজনীন।
শুধু মানুষই নয় স্বপ্ন দেখে পশুরাও। পশুদের ওপর পরিচালিত আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ঘুমের সময় স্বপ্ন দেখলে যে কার্যকলাপগুলো করে, স্বপ্ন দেখা অবস্থায় পশুদের মস্তিষ্কের কার্যক্রমও মানুষের মতোই হয়।

আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন যে একটি কুকুর যদি ঘুমের মধ্যে তার থাবা নাড়ায়, তার অর্থ সে স্বপ্নে দৌড়াচ্ছে। যদি লক্ষ্য করেন কুকুরটি ঘুমের ভেতর শব্দ করছে তার মানে হলো সে স্বপ্নে কোনো কিছু দেখে ঘেউ ঘেউ শব্দ করছে।

টমেটোতে ত্বকের যত্ন, যেভাবে ফিরবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৬ এএম
টমেটোতে ত্বকের যত্ন, যেভাবে ফিরবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা?

টমেটো একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমানে সারা বছরই টমেটো পাওয়া যায়। কাঁচা কিংবা পাকা-দুইভাবেই এটি খাওয়া যায়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে টমেটোর জুড়ি মেলা ভার।

অনেকেই সালাদে টমেটো খান। শুধু স্বাদ বাড়ানোই নয়, টমেটো দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের কেচাপ ও সসও।

টমেটোর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

পুষ্টিতে ভরপুর

টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও কে, ফলেট এবং পটাসিয়াম। এছাড়া এতে থায়ামিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও কপার রয়েছে।

এক কাপ টমেটোতে প্রায় দুই গ্রাম ফাইবার থাকে। পাশাপাশি এতে প্রচুর পানি রয়েছে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।

চর্মরোগে কার্যকর

ত্বকের নানা সমস্যায় টমেটো উপকারী। প্রক্রিয়াজাত করে টমেটোর রস ব্যবহার করলে চর্মরোগ নিরাময়ে উপকার পাওয়া যায়।

ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় সহায়ক

টমেটোর রস মুখের ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। বয়সের ছাপ কমাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তস্বল্পতা দূরীকরণে সহায়ক

যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্য টমেটো উপকারী। নিয়মিত এক বা দুইবার টমেটো খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে উপকারী

সর্দি-কাশি হলে এক বা দুটি টমেটো স্লাইস করে অল্প চিনি বা লবণ দিয়ে গরম করে স্যুপ বানিয়ে খেতে পারেন। এতে উপকার মিলতে পারে।

জ্বরে আরামদায়ক

গায়ের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে গেলে টমেটো খেলে কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে।

মাড়ি থেকে রক্তপাত কমাতে সহায়ক

ভিটামিন সি-র অভাবে মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। নিয়মিত টমেটো খেলে এ সমস্যায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

মাড়ি থেকে রক্তপাত কমাতে সহায়ক

ভিটামিন সি-র অভাবে মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। নিয়মিত টমেটো খেলে এ সমস্যায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়ক

নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকে। সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দেয় এবং বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
টমেটোতে থাকা লাইকোপেন ও ভিটামিন এ অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

হাড়ের জন্য উপকারী

টমেটোতে ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

খাবারে টমেটোর ব্যবহার

টমেটো সস ও কেচাপ যেকোনো খাবারের সঙ্গে, বিশেষ করে মুখরোচক ভাজাভুজি বা নাশতার সঙ্গে খেলে দারুণ লাগে। বর্তমানে গরু বা মুরগির মাংসের নানা নতুন রেসিপিতেও টমেটো সস ব্যবহার করা হয়। এতে স্বাদে ভিন্নতা আসে এবং খাবার হয় আরও সুস্বাদু।