খুঁজুন
, ,

রমজানে মাথাব্যথা? সহজ সমাধান জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
রমজানে মাথাব্যথা? সহজ সমাধান জেনে নিন

রমজান মাসে জীবনধারা বদলে যায়। পরিবর্তিত সময়ে সবার খাবার খাওয়া কিংবা ঘুম ঠিকঠাক না-ও হতে পারে। এমনটা হলে দেখা দিতে পারে নানান শারীরিক সমস্যা। মাথাব্যথা তেমনই এক সমস্যা।

এ সময় মাথাব্যথার অন্যতম কারণই হলো পরিবর্তিত জীবনধারায় স্বাস্থ্যকর চর্চা বজায় রাখতে না পারা। তবে অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

কারণগুলো জানা থাক

রমজান মাসে মাথাব্যথার অন্যতম কারণ পানিশূন্যতা। অনেকেই রাতে বেশি পানি খেয়ে অভ্যস্ত নন। তাই ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত সারা দিনের পানির চাহিদা মিটিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রমজান মাসে সাধারণত পানিশূন্যতাজনিত মাথাব্যথা হয় দিনে, পড়ন্ত বেলায়। এই সময়টায় মাথাব্যথার আরেকটি কারণ হলো রক্তের শর্করা কমে যাওয়া। বিশেষত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এমনটা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রমজান মাসে সাহ্‌রির সময় তো ওঠা হয়ই, কারও কারও অফিসের সময়ও বদলায়। ঘরের কাজের ধারায় আসে পরিবর্তন। এমন সব কারণে ঘুমের সময়ও বদলে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মাথাব্যথা হতে পারে যে কারও।

যে সময় কেউ ক্যাফেইন গ্রহণে অভ্যস্ত, সেই সময় তা না পেলেও তাঁর মাথাব্যথা হতে পারে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কারও চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ওই সময়টায় তাঁর মাথাব্যথার ঝুঁকি থাকে।

তবে কিছু রোগের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি ওষুধ সেবনে অনিময় করলে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। এসব সমস্যার লক্ষণও হতে পারে মাথাব্যথা।

মাথাব্যথা এড়াতে চাইলে

বুঝতেই পারছেন, মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বিকল্প নেই। তাই সবারই খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়—

ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। সাহ্‌রি খেতে হবে বুঝেশুনে।

সাহ্‌রির জন্য এমন খাবার বেছে নিতে হবে, যা হজম হতে সময় একটু বেশি লাগে। গোটা শস্য (লাল চাল, লাল আটা, ওটস, কিনোয়া প্রভৃতি) এ ধরনের খাবার। এ ধরনের খাবার খেলে রক্তের শর্করা বাড়ে ধীরে ধীরে, কমেও ধীরে ধীরে। আমিষও রাখুন সাহ্‌রিতে।

প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত (রিফাইনড) খাবার (যেমন ইনস্ট্যান্ট নুডলস) এড়িয়ে চলুন সাহ্‌রিতে।

দিনে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সাহ্‌রির ১৫-২০ মিনিট পর খেয়ে নিতে পারেন। তবে সাহ্‌রিতে পর্যাপ্ত পানি খেতে ভুলবেন না। চা-কফি খাওয়ার কারণেও পানিশূন্যতা হতে পারে।

পরিবর্তিত জীবনধারা অনুযায়ীই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। রাতে অনিদ্রার ভোগান্তি না হলে দিনে সুযোগ করে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন।

শরীরচর্চা করতে পারেন ইফতারের পর। দিনে ব্যায়াম করতে চাইলে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। পড়ন্ত বেলায় কোনো ব্যায়াম না করাই ভালো।

সম্ভব হলে লম্বা সময়ের জন্য সরাসরি রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাঁদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়, তাঁরা রোজকার ওষুধ সেবনের সময়ের ব্যাপারে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নিন।

মাথাব্যথা হলে কী করবেন

রমজান মাসে দিনের বেলায় মাথাব্যথা হলে ওই মুহূর্তে আপনি পানি বা খাবারও খেতে পারেন না, আবার কোনো ওষুধও সেবন করতে পারেন না। ওই মুহূর্তে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিন। কাপড়ে বা তোয়ালেতে বরফ বা ঠান্ডা পানির বোতল পেঁচিয়ে কিছুক্ষণ চেপে রাখতে পারেন ব্যথার জায়গায়।

কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে

সাধারণ কোনো কারণে মাথাব্যথা হলে তীব্রতা খুব বেশি হয় না এবং এর সঙ্গে কোনো বিপজ্জনক লক্ষণও থাকে না। এমন কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যেসব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

চোখে ঝাপসা দেখা

অতিরিক্ত বমি

অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা

এ ছাড়া যদি কেউ অসংলগ্ন আচরণ করেন, অজ্ঞান হয়ে যান, খিঁচুনি হয়, রক্তচাপ বা রক্তের শর্করা খুব বেশি বেড়ে বা কমে যায়, তাহলে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

রক্তের শর্করা ৪ মিলিমোল/লিটারের নিচে নেমে এলে চিনি-পানি খাইয়ে দিতে হবে, যদি তিনি খাওয়ার মতো অবস্থায় থাকেন।

এভাবে রক্তের সুগার স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসার সুযোগ না হলে জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ফরিদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

ফরিদপুরে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

​সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতীম মন্ডল এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

​সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে আসতে হবে।

​একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
টেকনাফে গুলিতে নিহত তিতাসের জানাজা সম্পন্ন, ফরিদপুরে নানীর কবরের পাশে দাফন

‘কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ মুঠোফোনে মাকে বলা ছেলের শেষ কথাগুলো এখন বারবার মনে পড়ছে রেখা বেগমের। অভিযানে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তবে সেই অভিযান থেকে আর ফেরা হয়নি তাঁর। 

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিতাসের মরদেহ আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪.৪০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরের নগরকান্দায় আনা হয়। সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে গ্রামের স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

তিতাসের মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারটি শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অবতরণ করে। সেখানে পদ্মা সেনানিবাসের ১৫ আর-ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে। মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িতে ভিড় করেন। এ সময় মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব তিতাসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তিতাসের ইউনিটের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাজিদসহ সেনাবাহিনীর সদস্য, পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া স্থানীয় গোরস্থানে। সেখানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ক্যাপ্টেন সাজিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিতাসের কবরে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সেনাসদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি আকাশের দিকে ছোড়েন। এভাবেই রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় টেকনাফে দায়িত্ব পালনকালে নিহত এই সেনাসদস্য তিতাস শেখকে।

তিতাসের মৃত্যুর পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা রেখা বেগম। গত বুধবার রাতে মুঠোফোনে মাকে অভিযানে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিতাস। বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের এমন কথায় দোয়া করেছিলেন মা। কিন্তু সেটিই যে তাঁদের শেষ কথা হবে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকে কান্নায় থামছে না তাঁর।

অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তিতাসের। তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান এখনো আসেনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় ছিলেন সুমাইয়া। কিন্তু ডিসেম্বর আসার আগেই স্বামীকে হারাতে হলো। আর সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আফজাল শেখ।

তিতাসের পরিবারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পরিবারের তিন সদস্যের সেনাবাহিনীতে যুক্ত থাকার মধ্যে তিতাসের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের শোকের পাশাপাশি এলাকায়ও শোকের মাতম তৈরি হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ রামু সিএমএইচে রাখা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে নিজ এলাকায় পাঠানো হয় তাঁকে।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় পৌঁছায়। পরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিহত সেনা সদস্য তিতাস: একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল

আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে গিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৮)। চার বছরের দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর অদম্য স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের একটি মাত্র বুলেট তাঁর সেই সাজানো স্বপ্নের দুনিয়া নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে ঠিকই ফিরছেন তিতাস, তবে তা কোনো আনন্দ নিয়ে নয়—বরং একটি নিথর, প্রাণহীন মরদেহে।

​প্রিয় স্বজনের এমন নির্মম বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগমের আহাজারিতে লস্করদিয়ার আকাশ-বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে।

​শেষ মায়ের দোয়া ও মর্মান্তিক পরিণতি

​স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা হয় তিতাসের। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নিতে হবে জানিয়ে তিনি মায়ের কাছে দোয়া চান। কে জানত, এটাই হবে মায়ের সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ কথোপকথন! বৃহস্পতিবার রাতেই তিতাসের মৃত্যুর সংবাদ এসে সব ওলটপালট করে দেয়।

​নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সেনাপরিবারের সন্তান তিতাসের বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তিতাস ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

​স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া ও মা রেখা বেগম। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং তিতাসের এমন করুণ মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।

​রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শোক প্রকাশ

​সেনা সদস্য তিতাস শেখের এই মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিতাস শেখ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

​প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশসেবায় নিয়োজিত থেকে সেনা সদস্য তিতাসের এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও তাঁর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।